বাংলায় বক্তব্য না রাখা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তেই সাফাই সৃজিতের, উল্টে ‘সঞ্চালনা’ বানান ভুলে আরও কটাক্ষের শিকার পরিচালক

সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা বেশ সক্রিয় থাকেন, তারা জানেন এই মুহূর্তে সেখানে চলছে বাংলা মিডিয়াম (Bengali Medium) বনাম ইংরেজি মিডিয়াম (English Medium)। এমন বিবাদ অবশ্য নতুন নয়। তবে এবারে শহরের এক নামজাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে আঙুল। ইংরেজি মাধ্যম ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমের পড়ুয়ারা বিএ/বিএসসিতে ভর্তির আবেদন করতে পারবে না, লোরেটো কলেজের এহেন বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ছড়িয়েছিল বিতর্ক। এর মাঝেই জড়িয়ে যায় সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের (Srijit Mukherjee) নাম।

আসলে কিছুদিন আগেই শহরে অনুষ্ঠিত এক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে নেমেছিল তারকাদের ঢল। উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ও। মঞ্চে পুরস্কার নিতে উঠে গড়গড়িয়ে ইংরেজি বলতে শোনা যায় তাঁকে। ইংরেজিতেই নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। হঠাৎই পরিচালককে মাঝপথে থামিয়ে সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় পত্নি অর্পিতা চট্টোপাধ্যায় তাঁকে বাংলায় বলার জন্য অনুরোধ করেন।

কিন্তু তবুও ইংরেজি বলা থামাননি সৃজিত। ওই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের ভিডিও নিয়েই শুরু হয়েছে কটাক্ষ। অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের অনুরোধকে উপেক্ষা করেই যেভাবে সৃজিত ইংরেজিতেই নিজের বক্তব্য রাখলেন তা দেখে অনেকে প্রশ্ন করছেন, যেখানে নামী ব্যক্তিত্বরাই শহরের বুকে অনুষ্ঠিত বাংলা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ইংরেজিতে কথা বলছেন সেখানে লোরেটো কলেজের দোষ কোথায়?

বিতর্কের মুখে পড়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন সৃজিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে, যেখানে সন্চালনা ইংরেজি এবং বাংলা দুই ভাষাতেই হচ্ছিল, সেখানে আমার ইংরেজিতে কথা বলা নিয়ে কিছু মানুষ আপত্তি জানিয়েছেন দেখলাম। তাঁদের জ্ঞাতার্থে বলি যে, যে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অবাঙালি, যেখানে তিনি মুখের সামনে বসে আছেন আর যেখানে কোনও অনুবাদক বা অনুবাদ যন্ত্র নেই, সেখানে আমি ইংরেজিতে কথা বলা ভদ্রতা বলে মনে করি। যাঁরা এই ব্যপারে দ্বিমত পোষণ করেন, করতেই পারেন, এই ব্যাপারে আমি অপারগ। আমার মাতৃভাষার প্রতি প্রেম এবং সাধারণ সহবত, এর মধ্যে স্ট্যাটিস্টিক্সের ভাষায় ‘Spurious correlation’ আছে বলে আমার বদ্ধমূল বিশ্বাস’।

তার এই পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে সরব হন একাধিক নেটিজেন। এই পোস্টের কমেন্ট বক্স ভরে যায় সমালোচনায়। তাদের মধ্যেই একজন সৃজিত মুখার্জির যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বললেন, “অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন লাখ লাখ সেসব দর্শক যারা টেলিভিশনের পর্দায় আপনার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান দেখছিলেন। সেসব দর্শকদের মধ্যে অধিকাংশই বাড়ির যা-বৌ-দিদা, যাদের মধ্যে অধিকাংশই আপনার বক্তব্যের একটা বর্ণও বোঝেননি হয়ত। আপনার মুখের সামনে বসে থাকা সেই একজন অবাঙালি অতিথির জন্য আপনি আজকের জায়গায় পৌঁছাননি, এমনকি পুরস্কারটাও পাচ্ছেন সেই লাখ লাখ ইংরেজি না বোঝা দর্শক আপনার ছবি দেখে বলে। এবং তারা ইংরেজি বোঝেনা বলেই হয়ত আপনার মুভি দেখে, ইংরেজি বুঝলে ক্রিস্টোফার নোলানের মুভি দেখত। তাই একজন অবাঙালি অতিথির প্রতি দায়বদ্ধতা না দেখিয়ে এক কোটি বাঙালি দর্শকের প্রতি প্রেম দেখান, যাদের জন্য পুরস্কারটা হাতে পেয়েছেন। তারা টেলিভিশনের সামনে বসে অনুষ্ঠানটা দেখছিল বলেই আপনি ওখানে ডাক পেয়েছেন আর আপনার অবাঙালি অতিথিও সেখানে আতিথ্য পেয়েছেন। টিআরপি না থাকলে কোনো চ্যানেল এসব পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করত না। পারলে অরিজিৎ সিং-এর যত একটু নিজের শিকড়কে সম্মান করুন দয়া করে । যাই হোক, “সঞ্চালনা” বানানটা এডিট করে নেবেন একটুখানি।”

Back to top button