বিয়ের আগেই বড় পরিকল্পনা! পরিবার নিয়ে কোথায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল মিঠি? এটাই কি তার জীবনে নামিয়ে আনবে নতুন অন্ধকার? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

স্টার জলসার (Star Jalsha) চিরসখা (Chirosokha) ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখানো হবে, মিঠির জীবনের ওপর ঘনিয়ে আসা অনিশ্চয়তার কালো মেঘ অবশেষে কেটে গিয়ে আলো দেখা দিল। গত কয়েকদিন ধরে পরিবারের বড়রা, বিশেষ করে কমলিনী যে আশঙ্কার দোলাচলে দুলছিলেন, ডাক্তারের চূড়ান্ত রিপোর্টের পর তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলো। এই স্বস্তির খবর পাওয়ার পর পরিবারের সবাই যেন প্রাণ ফিরে পেলেন। অনেকদিন পর মিঠির মুখেও দেখা দিল সেই পরিচিত অমলিন হাসি। এই আনন্দ উদ্‌যাপন করতে সবাই মিলে বাইরে খেতে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে, স্বভাবসিদ্ধভাবে বর্ষা তাতে বাধা দেওয়ার বা বিরূপ মন্তব্য করার চেষ্টা করে।

কিন্তু এবার আর বর্ষার কোনো কারসাজি চলল না। পরিবারের সবাই, এমনকি মিঠির ঠাম্মিও তাকে কড়া ভাষায় জবাব দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন যে অন্যায্য কথা আর সহ্য করা হবে না। সবাই মিলে বাইরে হইহই করে খাওয়া-দাওয়া সারল। সেখানে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক ছিল মিঠি ও কৃষ্ণের রসায়ন। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে মিঠিকে স্বাভাবিকভাবে কৃষ্ণের সাথে কথা বলতে দেখে সবার মন ভরে ওঠে।

খাওয়া-দাওয়ার মাঝেই মিঠি এক বড় সিদ্ধান্ত জানায় সে আর তার কোর্স শেষ করতে বাইরে যেতে চায় না। যেহেতু তার জীবনের বড় সত্যটি এখন সবার সামনে স্পষ্ট এবং সব সংশয় দূর হয়েছে, তাই বিয়ের আয়োজন আর পিছিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন সে দেখছে না। এই সিদ্ধান্তে আনন্দিত হয় কৃশানু। ঠিক হয়, মিঠির আসন্ন অপারেশনের পরেই চার হাত এক হবে। তবে বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে মিঠি সপরিবারে কোথাও একটু ঘুরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কৃশানুর মুখ দিয়ে অজান্তেই পুরনো একটি দুর্ঘটনার কথা বেরিয়ে আসে, যা শুনে মিঠি এক মুহূর্তের জন্য থমকে যায়। পুরনো সেই তিক্ত স্মৃতি তাকে মানসিকভাবে কিছুটা দুর্বল করে দিলেও কৃষ্ণ অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহসের সাথে তাকে সামলে নেয়। কৃশানু তাকে বোঝায় যে, পুরনো দুঃখকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার কোনো মানে নেই; জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়াই আসল কথা।

আরও পড়ুনঃ জন্ম জন্মান্তরের বন্ধনে আবদ্ধ দিতি-গোরা! অসমাপ্ত প্রেম কি পূর্ণতা পাবে এই জন্মে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

অন্যদিকে, কমলিনী ও স্বতন্ত্রও আজ জীবনের এক বড় ভারমুক্ত হলেন। মিঠির অন্ধকার দিনগুলো কাটিয়ে আলোর পথে ফিরে আসা দেখে তাঁরাও নিজেদের মধ্যে হারানো স্বস্তি খুঁজে পান। কমলিনী মনে করেন, বিয়ের আগে বাইরে কোথাও ঘুরে আসতে পারলে মিঠির মন আরও ফুরফুরে হবে। সব মিলিয়ে, দুঃখ আর অনিশ্চয়তার চ্যাপ্টার বন্ধ করে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনায় গোটা পরিবার। সবার সম্মতিতে এখন সপরিবারে একটি সুন্দর ভ্রমণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, দেখা যাক কি হয় আগামী পর্বে।

Back to top button