আনন্দের মাঝেই বিষাদের সুর! নিজেকে সামলে রাখার কঠিন পরীক্ষার অসফল মিঠি! এই লুকোচুরির খেলা শেষ করতে কঠিন পদক্ষেপ নিল সে! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

স্টার জলসার (Star Jalsha) চিরসখাতে (Chirosokha) চলছে টানটান উত্তেজনা পর্ব। একটি মেয়ের জীবনে আশীর্বাদের দিনটি হওয়ার কথা ছিল সবচাইতে আনন্দময়। কিন্তু মিঠির জীবনে সেই মুহূর্তটিই নিয়ে এসেছে এক অগ্নিপরীক্ষার বার্তা। একদিকে কৃশানুর সাথে নতুন জীবনের স্বপ্ন, আর অন্যদিকে সমাজের বাঁকা কথা ও এক রুদ্ধশ্বাস গোপন সত্য।
গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, বাড়িতে আজ উৎসবের আমেজ, সাজ সাজ রব। পরদিন কৃশানুর সাথে মিঠির আশীর্বাদের অনুষ্ঠান। কিন্তু এই আনন্দ আর আলোর রোশনাইয়ের নিচে চাপা পড়ে আছে এক অসহ্য যন্ত্রণা আর লুকানো সত্যি।
মিটিল নিজের হাতে আদর করে মিঠিকে সাজিয়ে দিলেও মিঠির দুচোখ জলে ভিজে ওঠে। তার এই কান্নায় কোনো আনন্দ নেই, আছে কেবল এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আতঙ্ক। মিটিল তাকে বারবার শক্ত হওয়ার কথা বললেও, ঘরে বর্ষার প্রবেশ পরিস্থিতি আরও বিষিয়ে দেয়। বর্ষা আর মামি যেন সুযোগ খুঁজছিলেন মিঠিকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার। বারবার তারা মিঠির শরীরের পরিবর্তন এবং বাচ্চার প্রসঙ্গ তুলে তাকে বিঁধতে থাকেন। বিশেষ করে বর্ষার বাঁকা কথা আর মামির কুটিল নজর মিঠির সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে মামি সরাসরি মিঠির মুখের ওপর বলে বসেন চাল-চলন আর শারীরিক লক্ষণ দেখে তো মনে হচ্ছে তুই প্রেগনেন্ট!
এই সরাসরি আক্রমণে মিঠি উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তার বুকের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ আর ভয় আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়তে চায়। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দেয় মিটিল। সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে মিঠির শরীর ভালো নেই এবং এই ধরনের কুরুচিকর আলোচনা বন্ধ হওয়া উচিত। বিরক্ত হয়ে মিটিল তাদের ঘর থেকে বের করে দেয়। এদিকে বাড়ির চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। কৃশানুর মা-বাবা আসবেন বলে তোড়জোড় চলছে তুঙ্গে। মিটির মামাবাড়ির লোকজন এসে উপস্থিত হয়েছে, ঘর ভর্তি অতিথি। গান-বাজনা আর হাসাহাসিতে পুরো বাড়ি মুখরিত।
আরও পড়ুনঃ শ’ত্রুর ডেরায় দিতি! গোরার ট্র্যাকার কি বাঁচাতে পারবে অদ্বিতীয়ার প্রাণ? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
কিন্তু এই হইচইয়ের মাঝেও দুজনের মনে তিলমাত্র শান্তি নেই কমলিনী এবং স্বতন্ত্র। তারা প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে এক অজানা আশঙ্কায়। সবাই যখন উৎসবে মেতে আছে, মিঠির মা-বাবা তখন এক অদৃশ্য পাহাড়ের ভার বয়ে বেড়াচ্ছেন। তারা জানেন, একবার যদি সত্যিটা জানাজানি হয়, তবে এই উৎসবের আলো নিমেষেই অন্ধকারে মিলিয়ে যাবে। মিঠি শত চেষ্টা করেও নিজেকে শান্ত রাখতে পারছে না। মিঠির অন্তরে চলছে এক বিধ্বংসী লড়াই। একদিকে লোকলজ্জার ভয়, অন্যদিকে বর্ষা আর মামির ক্রমাগত মানসিক হেনস্থা তাকে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে।

