মাঙ্গলিক শুধুই একটা কুসংস্কার! নীলাঞ্জনার পাশে প্রতিবাদী ‘পর্ণা’কে দেখে মুগ্ধ দর্শক

বর্তমানে ধারাবাহিক মাত্রই টিআরপি। টিআরপি ছাড়া ধারাবাহিক ভাবাই যায় না আর ভাবা গেলেও টেলিভিশনে দেখা যায় না। যে ধারাবাহিকের টিআরপি যত বেশি সেই ধারাবাহিকের টিকে থাকার ক্ষমতাও তত বেশি। ধারাবাহিক কতটা জনপ্রিয় সেটি বিচার করতে গেলে সেটি মানুষের সঙ্গে দর্শকদের ইমোশনের সঙ্গে কতটা জড়িয়ে রয়েছে তার থেকেও অনেক বেশি করে দেখা হয়, তার টিআরপি। শুধু টিআরপিতে টিকে থাকতে পারিনি বলে অনেক ধারাবাহিকি শুরুতেই শেষ হয়ে গিয়েছে।
কয়েক মাস হল শুরু হয়েছে নিম ফুলের মধু। কে আপন কে পর ধারাবাহিকের বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী যিনি জবা হিসেবে পরিচিত সেই অভিনেত্রীই এই ধারাবাহিকের প্রধান নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করছে। মাস তিনেকের মধ্যেই এই ধারাবাহিক টিআরপি তালিকায় বেশ পাকাপোক্ত জায়গা করে নিয়েছে। ধারাবাহিকের দেখানো সিন গুলি নজর কাড়ছে দর্শকদের। শাশুড়ি-বৌমার সম্পর্কের টানাপোড়েন পছন্দ করছে দর্শক।
বর্তমানে টিআরপির দিক থেকেও টপ করছে এই ধারাবাহিক। প্রতি সপ্তাহেই এক থেকে পাঁচের মধ্যে থাকছে ধারাবাহিকটি। ধারাবাহিকটির একটি বড়ো গুণ হলো এখানে একটি ট্র্যাক এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলে না। তাই একঘেয়ে মনে হয় না দর্শকদের। বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কারের বিরোধিতা করছে এই ধারাবাহিক আর প্রমাণ করছে সত্যি সব সময় যেতে আর মিথ্যা সব সময় হেরে যায়।
সম্প্রতি এই ধারাবাহিকে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি এবং আজকের দিনে এমন কুসংস্কারকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা মানুষগুলোকে দেখে, রীতিমতো অবাক হয়েছিলেন দর্শকরা। বউ হয়ে এই বাড়িতে আসার পর থেকে পর্ণার সব সময় পাশে থেকেছে সৃজনের ছোটকা। আর এইবার সেই ছোটকার সঙ্গে ঘটে গেল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। হল গাড়ির সাথে এক্সিডেন্ট। যার ফলে মৃত্যু শয্যায় সৃজনের ছোটকা। আর তার দোষ গিয়ে পরল তার বউ নিলাঞ্জনার উপর।
সৃজনের বাড়ির লোকজন বরাবরই কুসংস্কারে বিশ্বাসী। এই অ্যাক্সিডেন্টের জন্য ছোটকার বউ নীলাঞ্জনা কে দোষারোপ করতে থাকে সৃজনের জেঠু এবং সৃজনের মা। সৃজনের মা এর মতে কুষ্টিতেই ছিল নীলাঞ্জনা তার স্বামীর জন্য দুর্ভাগ্য ডেকে আনবে। সৃজন এর ছোটকার আর তাই আজ এত অমঙ্গল। ধাক্কা মেরে বাড়ির বাইরে বার করে দেওয়া হচ্ছিল নীলাঞ্জনা কে কিন্তু সেখানে রুখে দাঁড়ায় পর্ণা। সে একটি প্রদীপের ওপর নিজের এবং সৃজনের দুজনের হাত রাখে আর বলে সে প্রমাণ করে দেবে কুসংস্কারের থেকে ভালোবাসার জোর অনেক বেশি। তার শাশুড়ি মায়ের থেকে কিছুটা সময় চেয়ে নেয় পর্ণা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে পর্ণা কি সত্যিই পারবে সবাইকে প্রমাণ করে দিতে যে এই সমস্ত কুসংস্কারে কেবল মানুষের ক্ষতি হয় আর ভালোবাসা দিয়ে সবকিছু জয় করা যায়।

