পরিণীতা প্রথম নয়, এর আগেও অভিনয় করেছেন প্রিয় পারুল! জানেন কোথায় প্রথম বার অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল ঈশানী চ্যাটার্জিকে?

জি বাংলার (Zee Bangla) জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পরিণীতা’-র (Parineeta) মাধ্যমে বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় এক নতুন নক্ষত্রের উদয় হয়েছে, যার নাম ঈশানী চ্যাটার্জী (Ishani Chatterjee)। বর্তমানে তিনি দর্শকদের কাছে ‘পারুল’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। ঈশানীর এই সাফল্যের গল্পটি কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়, কারণ একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে থেকে প্রথম সারির চ্যানেলের প্রধান নায়িকা হয়ে ওঠার পথটি ছিল সংগ্রাম আর অধ্যাবসায়ে ঘেরা। পশ্চিমবঙ্গের শিল্পশহর দুর্গাপুরে ঈশানীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবেশে বড় হওয়া ঈশানীর শৈশব ছিল মাটির কাছাকাছি।
ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী এবং অসম্ভব পরিশ্রমী। শোনা যায়, একটা সময়ে তাদের পরিবারে বেশ আর্থিক প্রতিকূলতা ছিল, যা তাকে মানসিকভাবে অনেক বেশি দৃঢ় করে তুলেছিল। ঈশানীর জীবনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল চিকিৎসক হওয়া, কিন্তু ভাগ্যের চাকা তাকে বিনোদন জগতের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। ঈশানীর শিক্ষা জীবন যথেষ্ট উজ্জ্বল। তিনি কলকাতার অত্যন্ত স্বনামধন্য লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ (Lady Brabourne College) থেকে তার স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যামেরার প্রতি ভালো লাগা থেকে তিনি মডেলিংয়ের প্রতি আকৃষ্ট হন। অভিনয় জগতে পা রাখার আগে তিনি মডেলিং ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ কয়েক বছর কাজ করেছেন। বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের ফটোশুট, র্যাম্প ওয়াক এবং বিজ্ঞাপনে তার উপস্থিতি তাকে লাইমলাইটে নিয়ে আসে।
তবে জি বাংলার আগে তিনি অভিনয়ের কাজ শুরু করেন। বিশেষ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমেই তিনি অভিনয়ের প্রাথমিক পাঠগুলো রপ্ত করেছিলেন। টেলিভিশনে আসার আগে তিনি একজন পেশাদার মডেল হিসেবে প্রচুর কাজ করেছেন। বড় বড় ব্র্যান্ডের শাড়ি বা গয়নার বিজ্ঞাপনে তাকে নিয়মিত দেখা যেত। এই মডেলিং অভিজ্ঞতাই তাকে ক্যামেরার ভীতি কাটাতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু জানেন ঈশানীর প্রথম কাজ কি ছিল? কোন ধারাবাহিককে অভিনেত্রীকে প্রথম দেখা গিয়েছে?
তবে পরিণীতা ধারাবাহিকের হাত ধরেই লাইম লাইটে আসেন তিনি। যখন ‘পরিণীতা’-র প্রথম প্রোমো প্রকাশ্যে আসে, তখন তাকে দর্শকদের একাংশের তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়। তার গায়ের রং, শারীরিক গঠন এবং রূপ নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়েছিল। অনেকেই বলেছিলেন, তাকে পর্দায় নায়িকার চরিত্রে মানাবে না এবং এই ধারাবাহিক ব্যর্থ হবে। এই নেতিবাচক মন্তব্যগুলো নবাগতা ঈশানীকে মানসিকভাবে বেশ বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তিনি সংশয়ে পড়ে গিয়েছিলেন সত্যিই কি তিনি দর্শকদের মন জয় করতে পারবেন?
আরও পড়ুনঃ শমীক অধিকারীকে ঘিরে যৌ’ন হেনস্তা থেকে ধর্ষ’ণের অভিযোগ! তবে এইবার মামলায় নাটকীয় মোড়! জেরায় উঠে এলো চঞ্চল্যকর তথ্য! প্রতিবাদীর প্রতিবাদেই কি ষ’ড়যন্ত্রের জাল?
তবে দমে যাওয়ার পাত্রী ছিলেন না ঈশানী। ক্যামেরার সামনে তার সাবলীল অভিনয় এবং চরিত্রের প্রতি একাগ্রতা সমস্ত সমালোচনার যোগ্য জবাব দেয়। ফলাফল হাতেনাতে পায় চ্যানেল কর্তৃপক্ষ; ‘পরিণীতা’ টিআরপি তালিকার শীর্ষে উঠে আসে এবং বেশ কয়েকবার প্রথম স্থান দখল করে তাক লাগিয়ে দেয়। তবে সেইভাবে দেখতে গেলে এটাই অভিনেত্রীর প্রথম কাজ। ঈশানী প্রথাগতভাবে কোনো অভিনয় স্কুল থেকে অভিনয় শেখেননি। ছোটবেলায় শখের বশে দু-একবার শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করলেও, অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা তিনি কখনো গুরুত্ব দিয়ে ভাবেননি।

