শমীক অধিকারীকে ঘিরে যৌ’ন হেনস্তা থেকে ধর্ষ’ণের অভিযোগ! তবে এইবার মামলায় নাটকীয় মোড়! জেরায় উঠে এলো চঞ্চল্যকর তথ্য! প্রতিবাদীর প্রতিবাদেই কি ষ’ড়যন্ত্রের জাল?

গত চব্বিশ ঘণ্টায় সোশাল পাড়ার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন পরিচিত ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারী। সায়ক চক্রবর্তীর গোমাংস বিতর্কের আবহ কাটতে না কাটতেই আর এক কনটেন্ট ক্রিয়েটারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় নেটদুনিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। প্রেমিকাকে ফ্ল্যাটে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্তার অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালে বেহালা থানায় এফআইআর দায়ের করেন এক তরুণী। অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই রাতেই শমীককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শুক্রবার আলিপুর আদালতে অভিযুক্তকে পেশ করা হবে। তার আগেই পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরার সময় মামলাটি আরও জটিল দিকে এগিয়েছে। প্রাথমিক ধারার পাশাপাশি আরও গুরুতর অভিযোগ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন তদন্তকারীরা। সেই কারণে অভিযুক্তের মেডিকো লিগ্যাল পরীক্ষা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্যাতিতারও শারীরিক পরীক্ষা হবে। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় প্রমাণ সংগ্রহের দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে বন্ধুত্বের সূত্রে শমীকের ফ্ল্যাটে যান ওই তরুণী। কথাবার্তার পর রাতের দিকে বাড়ি ফেরার সময় তাঁকে আটকানো হয় বলে দাবি। মোবাইল কেড়ে নিয়ে মারধর করা হয় এবং একটি ঘরে জোর করে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ। খুনের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি অনুমতি ছাড়াই পোশাক খোলার চেষ্টা করে যৌন হেনস্তার অভিযোগও তোলা হয়েছে। আরও দাবি করা হয়েছে, পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে থাকাকালীনই এই ঘটনা ঘটে।
নির্যাতিতার বক্তব্য অনুযায়ী, সারারাত ধরে চলা অত্যাচারের ফলে তাঁর মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে। সকালে উঠে চোখ খুলতেও অসুবিধা হচ্ছিল বলে জানান তিনি। প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা তাঁকে ফ্ল্যাটে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি। তবু সাহস করে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। আগের ধারার সঙ্গে এবার আরও কঠোর ধারা যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুনঃ হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে মিঠি! সকলের আড়ালে গোপন রিপোর্টের সন্ধানে ভয়ঙ্কর চক্রান্ত বর্ষার! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে সোশাল মাধ্যমে। একটি ভিডিও ঘিরে রাজনৈতিক প্রচারের অভিযোগ তুলে কেউ কেউ বিষয়টিকে অন্য খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন। যদিও অভিনেতা ও ইনফ্লুয়েন্সার অরিত্র দত্ত বণিক প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা নয়। তাঁর মতে, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিতে আঘাতের চিহ্নের উল্লেখ রয়েছে। ফলে মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বলেই মত নেটিজেনদের একাংশের।

