‘ওনার অফিসে গিয়ে…অভদ্রতামি করেছেন উনি!’ টলিউডের জনপ্রিয় পরিচালককে ঘিরে বি’স্ফোরক অভিযোগ! মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাসবদত্তা চ্যাটার্জি!

বাসবদত্তা চ্যাটার্জি (Basabdatta Chatterjee) বর্তমান বাংলা বিনোদন জগতের একজন অত্যন্ত মার্জিত, রুচিশীল এবং প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী। বিশেষ করে টেলিভিশন এবং বিকল্প ধারার চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তিনি কেবল একজন অভিনেত্রীই নন, তাঁর স্পষ্টবাদিতা এবং গভীর জীবনবোধের জন্য তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে আলাদা সম্মানের অধিকারী।
অভিনয় জীবনের শুরুতে তিনি স্পোর্টস অ্যাঙ্করিং বা খেলাধুলার অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা দিয়ে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। এরপর অডিশনের মাধ্যমে তিনি ধারাবাহিকে সুযোগ পান। তাঁর এই যাত্রা খুব সহজ ছিল না, অনেক লড়াই এবং অডিশন দেওয়ার পরেই তিনি নিজের জায়গা তৈরি করতে পেরেছেন।
গানই মহাপ্রাণ, এক মুঠো আকাশ, বয়েই গেল এবং নেতাজি-র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে ‘গানই মহাপ্রাণ’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন। আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্তর আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ছবি ‘আসা যাওয়ার মাঝে’-এ তাঁর অভিনয় বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া তিনি ‘রানিং শাদি’, ‘রক্ত রহস্য’ এবং ‘অভিযান’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ছবিতে অভিনয় করেছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বাসবদত্তা জানান, তখন তিনি নেতাজি ধারাবাহিকের কাজে ব্যস্ত। সেই সময় প্রথম সারির এক অত্যন্ত জনপ্রিয় পরিচালক তাঁর সঙ্গে একটি কাজের বিষয়ে যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ দুই বছর ধরে সেই পরিচালকের সঙ্গে তাঁর কথা চলছিল। এমনকি কোন দিন শ্যুটিং হবে, কতদিন সময় দিতে হবে সবই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল।
অভিনেত্রীর কথায়, ‘চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল যে চরিত্রটা আমিই করছি। আমি সেটে কথাও বলে রাখলাম। পরপর তিনদিন আমি ওঁর অফিসে গিয়ে কথাও বলে এসেছি।’ কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, এত দূর এগিয়েও কাজ শুরু হওয়ার সময় বাসবদত্তা জানতে পারেন, ওই পরিচালক তাঁকে ছাড়াই অন্য একজনকে নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। আমি মনে করি এটাকে অভদ্রতা বলে। না বলতে জানতে হয়। আমাকে ওঁর ভালো নাই লাগতে পারে, কিন্তু উনি একবার আমায় জানাতেই পারতেন। মুম্বইয়ে আমি অনেকগুলো বিজ্ঞাপনী ছবিতে কাজ করেছি। ওখানে কিন্তু এমন নয়। কাজ না হলে বা প্রয়োজন না থাকলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়।’
আরও পড়ুনঃ ‘পিশাচ ছাড়া এরকম কেউ করতে পারে না…কাঞ্চন নিজের মেয়ের মতো নিজের ছেলেকেও একই রকম ভালোবাসে!’ পিংকির বিরুদ্ধে বি’স্ফোরক শ্রীময়ী! ছেলের শূন্যতা আজও অনুভব করে কাঞ্চন!
বাসবদত্তা স্পষ্ট করেছেন যে, টলিউডের এই বড় মাপের পরিচালকদের অনেকের মধ্যেই নূন্যতম সৌজন্যবোধের অভাব রয়েছে। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর সময় এবং তাঁর পেশাদারিত্বের সম্মান রক্ষা করা যেকোনো পরিচালকের নৈতিক দায়িত্ব। কাউকে তিনবার অফিসে ডেকে, দিনের পর দিন কথা বলে শেষে কোনো খবর না দিয়ে অন্যকে নিয়ে কাজ শুরু করাটা “অসভ্যতা” ছাড়া আর কিছুই নয়।

