হিন্দু ধ’র্ম ও দেবদেবীকে নিয়ে মশকরা ! নায়ক নায়িকার রোম্যান্সে খুলছে ঘোমটা কালীর ঘোমটা! দর্শকদের মধ্যেকার প্রতিক্রিয়া নিয়ে কী বলছেন পর্দার গৌরী অর্থাৎ অভিনেত্রী মোহনা?

ধর্ম আর বিজ্ঞানের মিল মিশে তৈরি হওয়া ধারাবাহিকের চাহিদা দর্শকদের মধ্যে বরাবরই। তাই এইরকম ধারাবাহিক তৈরি করার ক্ষেত্রে যেমন লাভ রয়েছে, তেমনই বহু বিষয় খেয়াল রাখতে হয় ধারাবাহিক নির্মাতাদের। কারণ, একটু এদিক ওদিক হলেই ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগে যেতে পারে। আর তাতে বয়কট ডাক দিতে আর কতক্ষণ! এরকমই একটা ধর্ম সংকটে রয়েছে জি বাংলার (Zee Bangla) “গৌরী এলো” ধারাবাহিক।
যারা গৌরী এলো ধারাবাহিকের নিয়মিত দর্শন তাঁরা জানেনই যে, নায়ক নায়িকা অর্থাৎ গৌরী এবং ঈশান হল হর পার্বতীর মানব রূপ। আর এটা প্রতিষ্ঠা করতে বহুবার বহু রকমের ঘটনাও ঘটানো হয়েছে। এমনিতেও ঘোষাল বাড়ির মা ঘোমটা কালী গৌরীকে দিয়ে অনেক ঘটনাই ঘটানো করিয়েছেন।

এতগুলো দিন পরে গৌরীকে কাছে পেয়ে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত তৈরি হলো স্বামী স্ত্রীর মধ্যে। গৌরী আর ঈশানের কাছাকাছি আসাতেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে ঘোমাটা খুলে গেল মা কালীর। আর সিরিয়ালের এই দৃশ্য দেখে নানা জনের নানা মন্তব্য। চারিদিকে হাসির রোল। কেউ লিখেছেন, “কী হাস্যকর দৃশ্য”, কারও আবার মন্তব্য, “গল্পের গরু গাছে উঠছে।” এই মন্তব্য অভিনেতাদের উপর কতটা প্রভাব ফেলে?
বরং বহু মানুষ খচে যান। অনেকেই মনে করেন এটা ধর্ম নিয়ে বুজরুকি করা। আর ধর্ম নিয়ে এরকম চ্যাবলামি করলে সেটাকে কখনোই সহ্য করা যায় না। তাই বহু লোকই ধারাবাহিকটি দেখা বন্ধ করে দেন। কিন্তু যারা আবার সম্প্রতি দেখতে বসেছেন তাঁরা একটু লজ্জাই পেয়ে গিয়েছেন বটে। ধর্মীয় ধারাবাহিক বলে পরিবার নিয়ে এই ধারাবাহিক দেখাই যায়। কিন্তু সম্প্রতি গৌরী ও ঈশানের ঘনি’ষ্ট হওয়ার মুহূর্ত দেখানো হয়। আর হর পার্বতীর মানব রূপের এই মহামিলনে মা ঘোমটা কালির ঘোমটার চাঙরে ফাটলও ধরেছে। তাই অনেকেই এবার বলছেন, অবশেষে মা হতে চলেছে গৌরী। কিন্তু গৌরী ও ঈশানের মিলনে কার জন্ম হয় সেটাই দেখার।
গৌরী ওরফে মোহনা মাইতি বলেন, “সত্যি বলতে যে গতিতে গল্প এগোচ্ছে, শুটিংয়ের ব্যস্ততায় আমার পক্ষে কোনও মন্তব্য পড়া সম্ভবই হচ্ছে না। তবে এটা ঠিক প্রতিটা সময়ই নানা রকমের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়। খারাপ মন্তব্যের মধ্যেও আমি পজ়িটিভ দিকটা খুঁজে বার করার চেষ্টা করি। আর সত্যিই যদি দর্শকের কটাক্ষকে গুরুত্ব দিতাম, তা হলে তো কাজটাই মন দিতে করতে পারতাম না। যার যেমনটা মনে হচ্ছে সে তেমনটা লিখেছে। আমার কিছু যায়-আসে না।”

