এই প্রথম বাংলা সিরিয়ালে “ধুমতানানা” করে স্মৃতি না ফিরে বিজ্ঞানসম্মতভাবে আসতে আসতে স্মৃতি ফিরছে! ‘গাঁটছড়া’তে নাটকীয় ঘটনা না দেখানোর জন্য প্রশংসা দর্শকদের

স্টার জলসার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারাবাহিক হলো ‘গাঁটছড়া’। যেটিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যায় অভিনেতা গৌরব চ্যাটার্জী এবং অভিনেত্রী সোলাঙ্কি রায়কে। এই ধারাবাহিকে খড়িদ্ধি জুটি দশকের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রথম থেকেই। সেই সঙ্গে তিন ভাই ও তিন বোনের গল্প যা দর্শকদের মন ছুয়েছিল। শুরুর প্রথম দিকে টিআরপি তালিকাতে মিঠাই ধারাবাহিককে রীতিমতো টক্কর দিত ‘গাঁটছড়া’। এই ধারাবাহিক বহুবার শীর্ষস্থান দখল করেছে টিআরপি তালিকায়। তবে ধারাবাহিকের খড়ির চরিত্রটি সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে।

গল্পে দেখানো হয় ঋদ্ধিমানের কাকা ডিয়ের চক্রান্তে খড়ি হারিয়ে যায় এবং তার পরেই এক বছরের লিপ নেওয়া হয় গল্পে। তারপর খড়ির মতো দেখতে একটি মেয়ে আসে যার নাম ইশা কিন্তু সে নিজেকে খড়ি বলে মানতে নারাজ। ইশা মনে করত যে সে একমাত্র সিংহ রায় জুয়েলার্স এবং ঋদ্ধিমান সিংহ রায়ের শত্রু, তাকে কোনভাবে সিংহ রায় জুয়েলার্সকে ধ্বংস করতে হবে। কিন্তু ঋদ্ধি যবে থেকে ইশাকে দেখেছে তবে থেকেই জানে যে সেটাই তার খড়ি, কোন কারণবশত তার কিছু মনে নেই। বহু চেষ্টা করার পরেও ইশার কোন কিছু মনে পড়ে না। কিন্তু গল্প এগোতে থাকলে দর্শকরা বুঝতে পারে যে ইশা ডি এবং তার স্ত্রীয়ের চক্রান্তের শিকার।

ইশাই আসলে খড়ি, সেই রহস্য দর্শকের কাছে কিছুদিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যায়। উল্টোদিকে ঋদ্ধিমানের সঙ্গে সময় কাটাতে কাটাতে ইশার মনেও অনেক রকম প্রশ্ন উঠতে থাকে। এরপরেই দেখা যায় মৈনাক সঙ্গে ইশার বিয়ে ঠিক হয় এবং মৈনাক হল ডিয়ের ছেলে। আর উল্টোদিকে ঋদ্ধির সঙ্গে তার ছোটবেলার বন্ধু তানির বিয়ে ঠিক হয়। তারপরেই যে ক্রুজের ওপর তাদের বিয়ে চলছিল সেখানে একটা বড় দুর্ঘটনা ঘটে এবং সেখান থেকে ঋদ্ধি এবং ইশা তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যায় না। পরে দেখা যায় তারা সেখান থেকে পালিয়ে একটি জঙ্গলে যায় এবং ইশার মাঝে মাঝে পুরনো স্মৃতি মনে পড়তে লাগে।

এরপরই দেখা যায় ঋদ্ধি এবং ইশা একসঙ্গে বাড়ি ফেরে । আর ইশা সকলকে জানায় যে তার সবকিছু মনে পড়ে গেছে সে আসলে খড়ি। তারপরেই যখন দেবলীনা সিংহরায় বাড়ি দখল করতে আসে তাকে উচিত শিক্ষা দেয় খড়ি। সে বলে যে তার সব কিছু মনে পড়ে গেছে এবং সে আর কোন ক্ষতি করতে দেবে না সিংহরায় পরিবারের। দেবলীনা যখন জানায় যে ইশার কাছে রাহুল সিংহ রায় পরিবারের সকল সম্পত্তি বেচে দিয়েছে। আর এখন ইশা বেঁচে নেই তার জন্য এই সকল সম্পত্তির মালিক হলো দেবলীনা। কিন্তু খড়ি জানায় যে রাহুল যে সম্পত্তি বিক্রি করেছে আদতে সেই সম্পত্তির অধিকার রাহুলের নিজেরও নেই। তাই জন্য এই সম্পত্তি কোনভাবেই দেবলীনার নয় আর সেটা জানার পরেই দেবলীনা পাগলের মতো করতে থাকে এবং মৈনাকের সামনেও তার মা এবং বাবার আসল সত্যিটা চলে আসে।

কিন্তু পরে জানা যায় আদতে ইশা ওরফে খড়ির কোন কথাই মনে পড়েনি। সে পুরোটাই ঋদ্ধির কথা শুনে অনুমান করেছে। ওষুধের কড়া ডোজের কারণে তার স্মৃতি ফিরতে দেরি হবে কিন্তু দেবলীনাকে শায়েস্তা করার জন্যই খড়ি সকলের সামনে বলেছে যে তার সবকিছু মনে পড়ে গেছে। আর এই দৃশ্য দেখেই সোশ্যাল মিডিয়াতে ভক্তরা প্রশংসা করছে ‘গাঁটছড়া’র। তারা বলছে যে বাংলা ধারাবাহিকে এই প্রথমবার হুট করে স্মৃতি না ফিরিয়ে বিজ্ঞানসম্মত মতে স্মৃতি ফেরানো দেখা যাচ্ছে। এই নিয়ে এক নেটিজেন লিখেছেন,”একটা জিনিস নতুন কিন্তু, বিয়ের দিন খড়ির ধুমতানা করে স্মৃতি ফেরেনি কড়া dose এর ওষুধের জন্য খড়ির স্মৃতি ফিরতে সময় লাগবে। বাংলা সিরিয়ালে এটা আম ঘটনার মধ্যেও আলাদা আর বিজ্ঞানসম্মতও।”

Back to top button