‘পুজোয় এইসব খারাপ কাজ করেছি বলেই হয়তো আজও আমি একা’, কি জন্য দুঃখ করছেন আরাত্রিকা?

বর্তমান সময় টেলিভিশনের দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন আরাত্রিকা মাইতি (Aratrika Maity) এবং মোহনা মাইতি (Mohona Maiti)। দুজনেই প্রায় একই সময় ধারাবাহিক জগতে প্রবেশ করেছিলেন। মোহনার প্রথম ধারাবাহিক ছিল ‘গৌরী এলো’ এবং আরাত্রিকার প্রথম ধারাবাহিক ছিল ‘খেলনা বাড়ি’ দুই ধারাবাহিকই ছিল জি বাংলার চ্যানেলে ব্যাপক জনপ্রিয়। নিজেদের প্রথম ধারাবাহিকের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিলেন তারা।
কিছুদিন আগেই মোহনার দ্বিতীয় ধারাবাহিক ‘কে প্রথম কাছে এসেছি’ শেষ হয়েছে। যদিও ধারাবাহিকটি একেবারেই জনপ্রিয়তা পায়নি দর্শকমহলে। যার কারণে মাত্র তিন মাসের মাথাতেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চ্যানেলের পক্ষ থেকে। আর অন্যদিকে বর্তমানে আরাত্রিকা অভিনয় করছে তার দ্বিতীয় ধারাবাহিক মিঠিঝোরা তে।ধারাবাহিকটি ভালোই চলছে টেলিভিশনের পর্দা। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই সম্প্রচারিত হচ্ছে টেলিভিশনের পর্দায়।
এবারে পূজোর আড্ডায় ধরা দিল আরাত্রিকা এবং মোহনা। একটি পুজো মন্ডপে ঠাকুর দেখতে গিয়েই সাক্ষাৎকারে ধরা দিয়েছেন দুজনে। ছোটবেলায় দুজনের পূজো কেমন কেটেছে জিজ্ঞাসা করায় মোহনা জানায় ছোটবেলা থেকেই তিনি বাবা-মার সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরোন। তিনি যেহেতু বহরমপুরের মেয়ে তাই সেখানেই পুজোটা ছোটবেলায় কেটেছে। তবে ছোটবেলায় কেনাকাটি করার জন্য মা বহরমপুর থেকে এসপ্ল্যানেড এবং গড়িয়াহাটে নিয়ে আসতেন। সেই দু’বছর থেকেই তাই গড়িয়াহাট এবং এসপ্ল্যানেডের উপর অদ্ভুত ভালোবাসা রয়েছে। আরাত্রিকাও মোহনার কথায় সম্মতি জানিয়ে বলেন স্ট্রিট শপিং ছাড়া পুজোর কেনাকাটা অসম্পূর্ণ। যতই অনলাইন থেকে কেনাকাটি করা হোক না কেন সব কেনাকাটির শেষে একবার হলেও এই দুই জনপ্রিয় স্ট্রিট শপিং এলাকায় যেতেই হবে।
এছাড়াও মোহনা জানায় সামনেই তার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। আগামী বছর মার্চ মাসেই তিনি পরীক্ষায় বসবেন। আর এখন ধারাবাহিক শেষ হওয়ায় তার মাথায় বিশেষ চাপ নেই। তাই পড়াশোনা দিকেই মন দিয়েছেন। পুজার পাশাপাশি পড়াশোনা করতে হচ্ছে টুকটাক। কারণ গৌরী এলো ধারাবাহিক চলাকালীন তিনি মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন তাই চাপটা তিনি খুব ভালোভাবে অনুভব করেন।
আরাত্রিকা-মোহনার ছোটবেলার পূজোর প্রেম
এদিকে পুজো প্রেম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আর আরাত্রিকা জানান ‘ছোটবেলায় আমি যা সব করে বেরিয়েছি সেটা যদি এখন দর্শক জানতে পারে আমাকে কোনদিনও ক্ষমা করবেন না। আর যাদের সাথে করেছি তারা হয়তো অভিশাপ দিয়েছে বলেই আজকে আবার এই অবস্থা।’ কিন্তু কি এমন করেছিলে আরাত্রিকা যার জন্য তাকে আজও পস্তাতে হচ্ছে?
আরও পড়ুন: রাজনীতির ময়দানে নামতেই নেমে এল স’র্বনাশ! কেমন আছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়?
অভিনেত্রী জানান ‘ছোটবেলায় যখন ঠাকুর দেখতে বেরোতাম সবাই তখন জোড়ায় জোড়ায় বের হতো, আর আমি আমার বন্ধুদের সাথে নিয়ে সেই কাপলদের বলতাম এর সাথে একে মানাচ্ছে না। এদের ব্রেকআপ হয়ে যাবে। তখন ছোট ছিলাম বলে এই সমস্ত ভুলভাল কাজ করে বেড়াতাম। আর তাদের অভিশাপে আজও আমি সিঙ্গেল, আমার পুজোর প্রেম আজও জুটলো না।’ এদিকে মোহনা জানান ছোটবেলা থেকে আমি সব সময় বাবা মায়ের সাথেই ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছি। তাই ঝারি মা’রার কোন প্রশ্নই ওঠে না। কোনদিনও কারো দিকে তাকিয়েও দেখিনি। কোনো ছেলে যদি আমাকে ঝাড়ি মা’রতো তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতাম, সেদিকে আর তাকাতামি না।’ এভাবেই পুজোর রাতে আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

