“আমার ঠিকানা ছিল লকআপ”-নেশার জন্য চুরি করতেন রাহুল!

‘জানি দেখা হবে’ থেকে ‘চতুষ্কোণ’ পর্দায় ব্যাক টু ব্যাক কাজ করেছেন তিনি। সেই সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে কাজ করে চলেছেন টেলিভিশন এবং ওয়েব সিরিজে। খল চরিত্র থেকে পার্শ্ব চরিত্র সবেতেই দর্শকদের নজর কেড়েছেন তিনি। সম্প্রতি স্টার জলসার গাঁটছড়া ধারাবাহিকের হাত ধরে তার জনপ্রিয়তা পৌঁছেছে তুঙ্গে। তবে শুরুর থেকে অভিনেতার যাত্রাপথ এতটা মসৃণ ছিল না। একসময় মাদকাসক্ত ছিলেন তিনি। নেশার প্রতি এতটাই তার আসক্তি একটাই বেড়ে গিয়েছিল যে অপরাধ করতেও দুইবার ভাবেননি তিনি। নেশার দ্রব্য কেনার জন্য গাড়ি থেকে মোবাইল চুরি করে টাকা জোগাড় করতেন তিনি। এমনকি মায়ের গয়নাতেও হাত দিয়েছিলেন! সুস্থ হওয়ার জন্য একাধিকবার গিয়েছেন রিহ্যাবেও। তবে ফিরে এসে আসে যেই সেই।

মাদক সেবন করতে গিয়ে মারা গেছেন প্রিয় বন্ধুরাও। ভয় লেগেছে নিজেরও। কিন্তু তবু নিজের প্যাটার্ন ভাঙতে পারছিলেন না। তবে অবশেষে নেশার এই অন্ধকার জগৎ থেকে বেরিয়ে আলোর দিশা দেখেছেন তিনি। কথা হচ্ছে অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের। ১৫ বছর আগে ২২ জানুয়ারি নতুন জীবন পেয়েছিলেন অভিনেতা অনিন্দ্য। সম্প্রতি ফেসবুকে পুরোনো স্মৃতি চারণা করে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন অভিনেতা। জানিয়েছেন নেশার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গল্প।

কি বলেছেন অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়?

অভিনেতা জানান “আমার কাছে এখনো জলের মতো স্পষ্ট ২০০৮ সালে আজকের এই দিনটা। আর দেখতে পাই বলেই হয়তো আজ এই পোস্ট করতে পারছি। ব্যাঙ্কসাল কোর্টে হাজিরা দিয়ে আমাকে রিহ্যাবে ফিরতেই হতো। রাত নয়টার বনগাঁ লোকাল ধরে আমাকে যেতে হত হাবড়া। শেষবারের মতো নেশা করব বলে একটু ব্রাউন সুগার, কয়েকটা পাতা, একটা সিরিঞ্জ, একটু তুলো আর একটা চামচ সঙ্গে নিয়েছিলাম। হাবড়া স্টেশনে নেমে একটু এগোলেই সেই রিহ্যাব যেখান থেকে আমার ভালো থাকার লড়াই শুরু হয়েছিল। তার আগে প্রায় ২৮-২৯ বার ডিটক্স আর রিহ্যাব হয়ে গেছে। যেদিন ছাড়া পেতাম সেদিনকেই রিলাপস, এ রকম একটা প্যাটার্ন ছিল। আমাদের ভাষায় আমরা বলি ক্রনিক রিলাপসি।”

অভিনেতা আরও বলেন “ছয় থেকে সাত বছর ধরে অনবরত ঘুরতে থাকা একটা বৃত্ত। নয় বাইরে নেশা করছি নয় তালা চাবির ভিতরে ভালো আছি। তালা চাবির বাইরে বেরোলেই আবার নেশা। তিনি যে কোনো দিন নেশামুক্ত হতে পারবেন, এই বিশ্বাস তাঁর ছিল না। আর অন্য কেউও তাঁর ওপর বিশ্বাস করত না। রিহ্যাবের খরচ দিতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছিল পরিবার। অভিনেতা অনিন্দ্যর ধারণা, ‘লোহা, অ্যালুমিনিয়াম, কাঁসার জিনিস তখন আমার কাছে সোনার মতোই দামি। যেকোনো গাড়ির লক খুলতে লাগত ঠিক তিন মিনিট। একটা নোকিয়ার মোবাইল মানে নগদ দুই থেকে তিন হাজার। সেটাই অনেক তখন আমার কাছে। এমন একটা সময় আমি আমি বুঝতে পারছিলাম এভাবে যদি চলতে থাকে আমি ২৮ বছর অবধিও টানতে পারব না।”

আরও পড়ুন: টিআরপিতে মহা ধামাকা! প্রথম পাঁচে জায়গা করে নিলো জলসার শুভ বিবাহ!

বন্ধুর অকাল প্রয়াণে ফলেই জীবনে প্রথমবার ধাক্কা খেয়েছিল অনিন্দ্য। মনে জেগেছিল ভয়। আর সেই ভয় থেকেই নেশায় বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন অভিনেতা। অভিনেতার কথায়, “এভাবেই আমার ভালো থাকার শুরু । শুরুটা সত্যি কঠিন ছিল।’ তার সংযোজিত ‘আজ যখন রাস্তায় লোকে সেলফি তুলতে চায়, অটোগ্রাফ চায়, ভালোবাসা দেয় তখন আমি নিজেকে দেখি আর পুরোটাই কেমন স্বপ্নের মতো লাগে। আদৌ এটা সত্যি হচ্ছে তো। আজও নিজের ভেতরে থাকা নেশাতুর সত্তার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অনিন্দ্য। অভিনেতার শেষ মুহূর্তে বলেছেন “চলে যাওয়ার আগে আমাকে নেশামুক্ত অবস্থায় দেখে গেছে। কিন্তু বাবা চলে যাওয়ার আগে আমার ঘুরে দাঁড়ানো প্রত্যক্ষ করে গেছে। গর্ব করে সবাইকে বলত আমি অনিন্দ্যর বাবা। বোনের ও গর্ব আমি। আর কী চাই?”

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Anindya Chatterjee (@achatterjee4)

Back to top button