‘আমি যখনই ভেঙে পড়েছি, মা আমার শক্ত খুঁটি হয়ে দাঁড়িয়েছে!’ এই বিরাট পৃথিবীতে মা মেয়ের একলা লড়াইয়ের গল্প! জীবন যুদ্ধ নিয়ে কি বললেন “পুবের ময়না” ধারাবাহিকের ময়না?

ঐশানী দে (Aishani De) টলিউড বা বাংলা বিনোদন জগতের একজন উঠতি এবং সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী। তিনি মূলত টেলিভিশন ধারাবাহিক এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করার জন্য পরিচিত। সাধারণ দর্শকদের কাছে তিনি তার অভিনয় শৈলী এবং সাবলীল উপস্থাপনার কারণে পরিচিতি পাচ্ছেন। জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিক ‘পুবের ময়না’-তে নামভূমিকায় অভিনয় করছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে দর্শকরা তার পর্দার পেছনের আসল মানুষটিকে জানার সুযোগ পেয়েছেন।
গ্ল্যামার জগতের ঝলমলে আলোর পেছনে থাকে অনেক না বলা কথা, সংগ্রাম আর একরাশ আবেগ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ধরা দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঐশানী দে। পর্দার পুবের ময়না বাস্তবে কতটা সহজ-সরল এবং তার সাফল্যের পেছনে মায়ের অবদান কতখানি, সেই গল্পই ফুটে উঠল এই সাক্ষাৎকারে।
ঐশানীর মতে, তার মা শুধু তার জন্মদাত্রী নন, বরং তার সবচেয়ে বড় মেন্টর এবং শক্তি। অভিনয়ের কঠিন দুনিয়ায় পা রাখার সময় থেকেই মা ছিলেন তার ছায়াসঙ্গী। কোনো এক প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মা যেভাবে তাকে আগলে রেখেছেন এবং হাল না ছাড়ার প্রেরণা দিয়েছেন, তা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। ক্যারিয়ারের শুরুতে অডিশন দেওয়া থেকে শুরু করে আজ লিড হিরোইন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না।
ঐশানী জানান, লিড ক্যারেক্টার পাওয়ার খুশির চেয়েও বড় ছিল মায়ের চোখের সেই তৃপ্তির হাসি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কাজ করা এবং বড় বড় সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার সময়ও মা তাকে মানসিকভাবে ভরসা দিয়েছেন। অভিনয় আর শ্যুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও ঐশানী আজও সেই সাধারণ মেয়েটিই রয়ে গেছেন। বিরিয়ানি আর চিলি চিকেন খেতে ভালোবাসেন, আবার সুযোগ পেলে মায়ের সাথে শপিংয়ে বেরিয়ে পড়েন। জীবনের প্রতিটি ছোট ছোট মুহূর্তকে তিনি উপভোগ করতে চান মায়ের সাথে।
গ্ল্যামার জগতের বাইরে ঐশানী নিজেকে সাধারণ এক মেয়ে হিসেবেই তুলে ধরেছেন। শ্যুটিংয়ের ব্যস্ত শিডিউলের মাঝে মায়ের সাথে সময় কাটানোই তার কাছে সবচেয়ে বড় রিল্যাক্সেশন। এছাড়া, মায়ের সাথে শপিংয়ে যাওয়া এবং সাধারণ জীবনে ফিরে এসে নিজের মনের কথাগুলো মায়ের সাথে শেয়ার করাই তার নিত্যদিনের অভ্যাস।
আরও পড়ুনঃ অভিনেত্রীর হোটেলের পাশেই হঠাৎ বো’মা বর্ষণ! বি’স্ফোরণের কেঁপে উঠল ভূমি! অগ্নি’গর্ভ দুবাইয়ে এখনও ছেলেকে নিয়ে আটকে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়!
ইন্টারভিউতে ঐশানী কাজের প্রতি তার একাগ্রতা এবং সিনিয়র্সদের কাছ থেকে শেখার মানসিকতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কাজ করার সময় বা বড় কোনো পুরস্কার পাওয়ার মুহূর্তে তার প্রথম চিন্তা ছিল মাকে ফোন করে জানানো। তার মতে, পুরস্কারের ট্রফির চেয়ে মায়ের আশীর্বাদ তার কাছে অনেক বেশি মূল্যবান।

