‘আমার একটু ছেলে ছেলে হাবভাব…ট্রেন থেকে নামিয়ে থাপ্পড় মেরেছিলাম!’ অন্যায় মেনে নিতে শেখেননি সংঘমিত্রা তালুকদার! ট্রেনে হওয়া অ’সভ্যতামির কি শাস্তি দিয়েছিলেন অভিনেত্রী?

টেলিভিশন পর্দার (Bengali Television) অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী সঙ্ঘমিত্রা তালুকদারের (Sanghamitra Talukder) অভিনয় জীবনের সফরটি বেশ বৈচিত্র্যময়। জি বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘আমার দুর্গা’-র হাত ধরে তিনি বিনোদন জগতে পা রাখেন এবং প্রথম কাজ দিয়েই দর্শকের মনে নিজের পাকাপাকি জায়গা করে নেন। তাঁর শান্ত অথচ দৃঢ় চারিত্রিক উপস্থাপন সেই সময় তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। তবে কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকা অবস্থাতেই তিনি ব্যক্তিগত কারণে কাজ থেকে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছরের একটি বিরতি নিয়েছিলেন।
সঙ্ঘমিত্রাকে বিরতির আগে শেষবার দেখা গিয়েছিল ‘গ্যাংস্টার গঙ্গা’ ধারাবাহিকে, যেখানে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। তবে দেড় বছর পর যখন তিনি আবারও ছোট পর্দায় কামব্যাক করেন, তখন তাঁর সেই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটে ‘সর্বজয়া’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে। ফিরে আসার পর সঙ্ঘমিত্রা নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার তাগিদ অনুভব করেন এবং প্রথাগত নায়িকার চরিত্রের বাইরে বেরিয়ে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের ঝুঁকি নেন। তিনি ‘গীতা এলএলবি’ ধারাবাহিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
সঙ্ঘমিত্রা কেবল একজন অভিনেত্রী নন, বরং কাজের প্রতি প্রচণ্ড একনিষ্ঠ একজন মানুষ। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান শক্ত করা সহজ ছিল না, কিন্তু প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ে না শামিল হয়ে তিনি নিজের মেধা দিয়ে একের পর এক চরিত্র জয় করে নিচ্ছেন।
তবে কর্মজীবনে সফল হলেও ব্যক্তিগত জীবনে কিন্তু এখনো সিঙ্গেল রয়েছেন সংঘমিত্রা। কল্যাণী ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় ট্রেনে যাতায়াতের পথে এক যুবক ট্রেনে অত্যন্ত অসভ্য আচরণ করে। সেই অন্যায়ের সাথে আপস না করে অভিনেত্রী যুবকটিকে শ্যামনগর স্টেশনে নামিয়ে সবার সামনে থাপ্পড় মারেন এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে তুলে দেন। এখানেই শেষ নয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি চলন্ত ট্রেনের লোকো-পাইলটকে হাত দেখিয়ে ট্রেন থামানোর মতো দুঃসাহসিক কাজও করেছিলেন। তার এই নির্ভীক মানসিকতা সাধারণ মানুষের কাছে তাকে এক লড়াকু ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরে।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি একটা হতদরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে, বিদেশে আমায়…’ বিদেশের বৈভব দেখে ঘুম উড়ে যায় অভিনেতার! প্রথম বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে অকপটে চন্দন সেন!
পর্দার বাইরে এই ডানপিটে স্বভাবই অভিনেত্রীর সিঙ্গেল থাকার অন্যতম কারণ বলে তিনি মনে করেন। সংঘমিত্রার মতে, তিনি একটু ‘টমবয়’ টাইপের এবং তার এই চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখে অনেক ছেলেই তার প্রেমে পড়ে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তার এই বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব এবং সোজাসাপ্টা স্বভাবের সাথে মানিয়ে নিতে না পারায় সেই প্রেমগুলো বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। দিদি নাম্বার ওয়ানের মঞ্চে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তার এই ডানপিটে আচরণের কারণে হয়তো কোনো পুরুষ তাকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে বেছে নিতে দ্বিধাবোধ করেন, আর এই কারণেই ক্যারিয়ারে সফল হলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এখনো একা।

