‘রাহুলের মৃ’ত্যুর দিনই ঠিক করেছিলাম ওই মহিলার সাথে আর…’ ‘একটা লাইনও বদলায় না লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের অমতে!’ সেটে নিরাপত্তার অভাব নিয়ে সরব অভিনেত্রী রেশমি সেন!

টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় এবং অভিজ্ঞ অভিনেত্রী রেশমি সেন (Reshmi Sen) দীর্ঘ সময় ধরে বাংলা টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্টুডিওপাড়ায় যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং এর ফলে টেকনিশিয়ান ও ফেডারেশনের মধ্যে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। মূলত ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা, নিরাপত্তা অভাব এবং পেশাদারিত্বের সংকটে গভীরভাবে ব্যথিত হয়েই রেশমি সেন সিটি সিনেমাকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন। একজন দায়িত্বশীল শিল্পী হিসেবে তিনি মনে করেন, এখন চুপ করে থাকার সময় নয়, কারণ স্টুডিওর ভেতরের পরিবেশ সুস্থ না হলে ভবিষ্যতে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবশালী চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের কাজের শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনার শুরুতেই রেশমি সেন এক গুরুত্বপূর্ণ সত্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সেটে প্রতিটি শব্দের গুরুত্ব অপরিসীম এবং সেখানে কোনো খামখেয়ালিপনার জায়গা নেই। রেশমি সেনের কথায়, “একটা লাইনও বদলায় না লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের অমতে”, যা দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে ইন্ডাস্ট্রিতে শৃঙ্খলার অভাব থাকলেও কিছু জায়গায় কাজ হয় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে। তবে কেন বর্তমানে বয়ান বা পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে, সেই রহস্য এবং তার পেছনের জটিলতা নিয়েই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যা দর্শকদের ভাবিয়ে তুলেছে।
সেটে কাজ করা টেকনিশিয়ান এবং সাধারণ কর্মীদের নিরাপত্তার অভাব নিয়ে রেশমি সেনের গলায় ধরা পড়েছে চরম উদ্বেগ। বড় বড় মেগা সিরিয়াল বা সিনেমার কাজ চললেও সেখানে কর্মরত মানুষদের জীবনের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। বীমা বা জীবনবিমার অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, *“সেফটি সিকিউরিটি অ্যাটলিস্ট থাকা দরকার, দুর্ঘটনা ঘটলে দায়িত্ব কে নেবে?” তার মতে, পরিকাঠামোর এই দুর্বলতা শুধুমাত্র টেকনিশিয়ান নয়, বরং গোটা ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি বড় লজ্জা। এই অব্যবস্থা দূর না হলে নতুন প্রতিভা বা দক্ষ কর্মীরা ভবিষ্যতে এই পেশায় আসতে ভয় পাবে।
অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ইন্ডাস্ট্রিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি একটি ‘এখনই নয়তো কখনোই নয়’ অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বছরের পর বছর ধরে চলা অন্যায়গুলো এখন এক চরম সীমায় পৌঁছেছে। আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ইটস নাউ অর নেভার” যা প্রমাণ করে যে ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটি স্তরে পরিবর্তনের জোয়ার আনা কতটা জরুরি হয়ে পড়েছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে বা ভয় পেয়ে সত্য গোপন করার দিন যে শেষ হয়ে এসেছে, তার কথাতে সেই স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সাক্ষাৎকারের শেষে রেশমি সেন শিল্পী হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতা এবং থিয়েটারের শিক্ষা নিয়ে কথা বলেন। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনেক জলঘোলা হলেও, কাজের জায়গায় ১০০ শতাংশ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনি মনে করেন, একজন প্রকৃত শিল্পীর পরিচয় তার কাজে এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষমতায়। অত্যন্ত আবেগী কণ্ঠে তিনি শেষ করেন এই বলে যে, “একজন মানুষ হিসেবে এবং একজন শিল্পী হিসেবে এটা করা আমার ডিউটি”। রেশমি সেনের এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারটি আসলে টলিপাড়ার বর্তমান সংকটের একটি দর্পণ হিসেবেই কাজ করেছে।

