‘গায়ের রং কালো তাই শ্বাশুড়ি পছন্দ করতেন না…’- স্বামীর কাছেও জুটেছিল লাঞ্ছনা! বিয়ের পর দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল জীবন! কিভাবে সব সামলে এত বড় শিল্পী হয়ে উঠলেন অনামিকা সাহা?

টলিউড ইন্ডাস্ট্রির (Tollywood Industry) জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন অনামিকা সাহা (Anamika Saha)। বর্ষিয়ান অভিনেত্রীকে আমরা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অভিনয় জগতে দেখছি। একাধিক জনপ্রিয় বাংলা ছবিতে তিনি ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন যেতে নিয়েছেন বারবার। বেশিরভাগ সময় অভিনেত্রীকে নেগেটিভ চরিত্রেই দেখে এসেছেন দর্শক। নিজের অভিনয় দিয়ে সকলের মন জিতেছেন অভিনেত্রী।

এখন অভিনেত্রীর বয়স হয়েছে। তবুও অভিনয় তার সঙ্গ ছাড়েনি। ধারাবাহিক জগতেও তাকে দেখা গেছে। বিভিন্ন ধারাবাহিকে ঠাকুমা, দিদার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে অভিনেত্রীকে। কিছুদিন আগে একটি বড় অপারেশন হয়েছিল অভিনেত্রীর। যার কারণে অভিনয় জগত থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। বর্তমানে অভিনেত্রী যতটা দর্শকমহলের জনপ্রিয়, পরিচিত এই জায়গায় আসতে কিন্তু অনেক বাধা-বিপত্তি পেরোতে হয়েছে। শুনতে হয়েছে অনেক কটাক্ষ, সমালোচনা। অভিনেত্রীর পরিবারকেও সেইকেও সেই সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল একসময়।

actress

অভিনেত্রী খুব অল্প বয়সে অভিনয় জগতে আসেন। সেই সময় বাড়ির মেয়েরা অভিনয় করবে এ কথা ভাবলেই শিউরে উঠতেন সকলে। এই কথা কেউ মানতেই পারতেন না বাড়ির মেয়েরা অভিনয় জগতে কাজ করবে। কিন্তু এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন অভিনেত্রী অনামিকা। এমনও হয়েছে অভিনয় জগতে কাজ করার জন্য অভিনেত্রীকে মায়ের হাতে মার পর্যন্ত খেতে হয়েছিল। পাড়া-প্রতিবেশীরা এসে বাড়ি বয়ে অভিনেত্রীর মা-বাবাকে বলে গিয়েছেন ‘তোমরা কি খেতে পাও না? যে মেয়েকে অভিনয় করতে নামিয়েছ।’

সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন তিনি অভিনয় জগতে কখনোই বাড়ির লোকের থেকে সাপোর্ট পাননি। না বাপের বাড়ির লোক তাকে সাপোর্ট করছে না শ্বশুরবাড়ির লোক তাকে সাপোর্ট করেছে। ২৭ বছর বয়সে অভিনেত্রীর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় অভিনেত্রীর শ্বাশুড়ি তাকে দেখতে এসে কেঁদে দিয়েছিলেন। অভিনেত্রীর গায়ের রং কালো সেটা তিনি মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু অভিনেত্রীর স্বামী তাকেই বিয়ে করার জেদ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনিও পাশে থাকেননি।

আরও পড়ুনঃ বিয়ের দু’মাসের মাথাতেই শ্বেতার জীবনে ছোট্ট অতিথি! নতুন সদস্যের আগমনে আনন্দে আত্মহারা অভিনেত্রী! সোহাগ করে কি নাম রাখলেন শ্বেতা?

তারপর ২৮ বছর বয়সে সন্তানের জন্ম দেন অভিনেত্রী। দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর সংসার-সন্তান নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। ৩৩ বছর বয়সে আবারো ফিরে আসেন অভিনয় জগতে। কিন্তু ততদিনে চেহারার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। সন্তান হওয়ার পর মোটা হয়ে গিয়েছিল অভিনেত্রী। কিন্তু চিরঞ্জিত চক্রবর্তী তাকে বলেছিলেন তিনি অনেক বড় শিল্পী হবেন।

অভিনেত্রীকে বেশিরভাগ সময় ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে। খুব কম সংখ্যক পজেটিভ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। কিন্তু সেই ভিলেন চরিত্রগুলিতে অভিনয় করেই দর্শক মহলে সারা ফেলে দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। যার কারণে আজও দর্শক তাকে মনে রেখেছে। যে চরিত্রই হোক না কেন অভিনেত্রী কোনদিনই চরিত্র নিয়ে বাছাই করেননি। যে কোন চরিত্রে সাবলীল ভাবে নিজেকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। এমনকি বোম্বে থেকে যে সমস্ত অভিনেত্রীরা অভিনয় করতে এসেছিলেন বাংলায় তাদের প্রত্যেকের ডাবিং এর গলা অভিনেত্রী অনামিকা সাহার ছিল।

Back to top button