‘আমি অনেক লড়াই করেছি…’ ‘ছোট্ট একটা কুঁড়েঘরে মাদুর পেতে আমরা…’ এখনো পরিশ্রম করে চলেছেন দুলাল লাহিড়ী! পরিশ্রমের ফল স্বরূপ কি পেলেন বৃদ্ধ অভিনেতা?

বাংলা অভিনয় জগতের (Tollywood) এক জীবন্ত কিংবদন্তি হলেন দুলাল লাহিড়ী (Dulal Lahiri)। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকহৃদয় জয় করে চলেছেন। সম্প্রতি জি বাংলার নতুন ধারাবাহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’-তে এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আবারও ছোটপর্দায় ফিরে এসেছেন, যা তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
দুলাল লাহিড়ীর অভিনয় জীবনের শুরুটা হয়েছিল মঞ্চ নাটক দিয়ে। সত্তরের দশকে তিনি পেশাদার থিয়েটারে পদার্পণ করেন। এরপর নব্বইয়ের দশকে টলিউড বাণিজ্যিক ছবিতে তিনি এক অপরিহার্য নাম হয়ে ওঠেন। মূলত খলনায়ক হিসেবে তাঁর পরিচিতি ব্যাপক হলেও, পরবর্তীকালে চারিত্রিক অভিনেতা হিসেবে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে তাঁর প্রত্যাবর্তন টলিউড ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি ইতিবাচক দিক। এই ধারাবাহিকে তিনি পরিবারের অভিভাবকের চরিত্রে অভিনয় করছেন।
সম্প্রতি অভিনেতা নিজের লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন অভিনেতাকে টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায়নি. আগে তো খলনায়কের চরিত্রে ভাবা হলেই অভিনেতার নাম উঠে আসতে প্রথম সারিতে। তবে দীর্ঘদিন অভিনেতাকে কোথাও দেখা যায়নি আবার বহু বছর পর তিনি ফিরেছেন টেলিভিশনের পর্দায়। তবে কি সেই লড়াইয়ের গল্পই সংবাদ মাধ্যমে জানালেন তিনি?
না আসলে সম্প্রতি অভিনেতাকে আর্টিস্ট ফোরাম নিয়ে নিজের বক্তব্য জানাতে শোনা গিয়েছে। আর্টিস্ট ফোরাম হলো পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন জগতের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের একটি প্রধান পেশাদার সংগঠন। ১৯৯৮ সালে মূলত প্রবীণ অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় এবং একঝাঁক নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এই কমিটির সভাপতি হলেন রঞ্জিত মল্লিক।
ফোরামের কমিটিতে বিভিন্ন সময়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, দিগন্ত বাগচী, ভরত কল এবং অপরাজিতা আঢ্যের মতো জনপ্রিয় তারকারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের বিনোদন জগতে ‘আর্টিস্ট ফোরাম’ কেবল একটি সংগঠন নয়, বরং এটি শিল্পীদের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর এবং সুরক্ষাকবচ। দীর্ঘ কয়েক দশকে টলিউড ইন্ডাস্ট্রি যে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে, সেখানে অভিনেতাদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক সম্মান রক্ষায় এই ফোরামের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও পড়ুনঃ সংসারের অশান্তির মাঝেই আগন্তুকের আনাগোনা! স্বতন্ত্র কমলিনীর জীবনে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
আর এই আর্টিস্ট ফোরামের কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা দুলাল লাহিড়ী জানিয়েছেন, ‘আমরা আর্টিস্ট ফোরামটা কেন তৈরি করেছিলাম? আমরা তৈরি করেছিলাম যাতে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অধিকার রক্ষা করা যায়। তাঁদের যেন কেউ অসম্মান করতে না পারে। কিন্তু আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমার মনে হয়, আর্টিস্ট ফোরামের সেই পুরনো গৌরবটা কোথাও যেন একটু ফিকে হয়ে আসছে। আমার অনেক লড়াই করে এই আর্টিস্ট ফোরাম তৈরি করেছি। সে সময় ১০ জন মিলে আমরা এই দল গঠন করেছিলাম। ছোট্ট একটা কুঁড়েঘরে মাদুর পেতে সেই দিনগুলো কাটিয়েছিলাম। এখন সবাই অনেক পরিশ্রম করছে। তার জন্য সবাইকে অভিনন্দন।’

