‘ইচ্ছে করে এসব করে যাতে কেউই কান সরাতে না পারে!’ ‘উনি তো হাতে মাথা কা’টেন…’ টলিউডেই রাজনীতি! ক্ষমতার চোখ রাঙানি নিয়ে অকপটে চন্দন সেন!

চন্দন সেন (Chandan Sen) বাংলা বিনোদন জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি একাধারে অভিনেতা, নাট্যকার এবং পরিচালক। ১৯৭৭ সালে থিয়েটারের মাধ্যমে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তিনি ‘নাট্য আনন’ নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন। টেলিভিশনের পর্দায় তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ, বিশেষ করে ‘ইষ্টি কুটুম’ ধারাবাহিকের ‘সত্যকাম’ বা ‘খড়কুটো’ ধারাবাহিকের ‘ত্রিলোকশ্বর’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে গেঁথে আছে।
রাজনীতির ময়দানে নেতাদের আচরণের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মনস্তত্ত্ব নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অভিনেতা। সম্প্রতি একটি ডিজিটাল সাক্ষাৎকারে তিনি রাজনৈতিক নেতাদের দ্বৈত সত্তা এবং তাঁদের কাজের ধরণ নিয়ে যে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন, তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অভিনেতার মতে, রাজনীতির অলিন্দে যা দেখা যায়, বাস্তবে অনেক সময় পরিস্থিতি হয় তার ঠিক উল্টো।
প্রতিবেদনের শুরুতেই অভিনেতা রাজনৈতিক নেতাদের জনসমক্ষে বজায় রাখা ‘শান্ত’ ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান, অনেক নেতা মিটিং বা জনসভায় অত্যন্ত ধীরস্থির এবং নিচু স্বরে কথা বলেন, যা দেখে সাধারণ মানুষের মনে হতে পারে তাঁরা অত্যন্ত বিনয়ী। অথচ পর্দার ওপারে বা নিজেদের ব্যক্তিগত পরিসরে তাঁদের আচরণের দাপট এতটাই বেশি যে অভিনেতা ব্যঙ্গ করে বলেছেন, তাঁদের কথা বলার জ্বালায় বাড়িতে ‘কাক’ পর্যন্ত বসতে পারে না। অর্থাৎ, এই শান্ত ভাবমূর্তি আসলে একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল বা ‘ইমেজ বিল্ডিং’ মাত্র।
চন্দন সেন তাঁর দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রাজনীতির জগতের এক কঠোর বাস্তবকে সামনে এনেছেন। তিনি জানান, অনেক সময় প্রভাবশালী নেতারা এমনভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন যেখানে প্রকৃত অপরাধী আড়ালে চলে যায় এবং উল্টে আক্রান্ত ব্যক্তিকেই ‘ভিলেন’ বা খলনায়ক হিসেবে প্রতিপন্ন করা হয়। এই মনস্তাত্ত্বিক খেলা বা ‘সাইকোলজি অব পলিটিক্স’ সাধারণ মানুষের বোঝার অনেক বাইরে। নেতাদের এই ঠান্ডা মাথার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আলোচনার এক পর্যায়ে অভিনেতা বামপন্থী নেতাদের চারিত্রিক দৃঢ়তা ও কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে একটি রূপক উদাহরণ ব্যবহার করেছেন। তিনি তাঁর পরিচিত এক কর্মীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, কিছু নেতার ব্যক্তিত্ব এতটাই হিমশীতল যে তাঁরা কোনো নিষ্ঠুর কাজ করার সময়ও অবিচল থাকেন। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়, যদি তাঁরা কারও হাত করাত দিয়েও কাটেন, আক্রান্ত ব্যক্তির যন্ত্রণার চিৎকার তাঁদের বিচলিত করে না। বরং তাঁরা এমন দৃষ্টিতে তাকান যেন সেই ব্যক্তিই তাঁদের কাজে বাধা দিয়ে অপরাধ করছেন। এই উদাহরণটি দিয়ে তিনি রাজনীতির জগতে মানবিকতার অভাব ও কঠোর নিয়মানুবর্তিতার দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন।
আরও পড়ুনঃ মেজ়ারমেন্ট টেপের পোশাকে নজর কাড়লেন মনামী ঘোষ! দর্জি ভাইদের সম্মান জানাতে নতুন উদ্যোগ! ‘বাংলার উরফি’ ধেয়ে এল কটাক্ষ!
চন্দন সেনের এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই নেটপাড়ায় বিতর্কের ঝড় উঠেছে। একদিকে যেমন অনেকে তাঁর সাহসিকতা ও স্পষ্টবাদিতার প্রশংসা করেছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অস্বস্তিতে পড়েছে। বর্তমান সময়ের উত্তাল রাজনৈতিক আবহে একজন বিশিষ্ট শিল্পীর এই ধরণের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ সাধারণ মানুষকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। ভিডিওটি শেয়ার করে অনেকেই বলছেন, পর্দার বাইরের এই অন্ধকার সত্যগুলো তুলে ধরার জন্য চন্দন সেনের মতো ব্যক্তিত্বদেরই প্রয়োজন।

