মায়ের হাতের খুন্তি আর মেয়ের চোখে বড় হওয়ার স্বপ্ন! নারী শক্তির জয়গান গাইতে আসছে জি বাংলার নতুন মেগা ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’!

জি বাংলা (Zee Bangla) দর্শকদের জন্য নিয়ে আসছে এক লড়াকু মা ও তাঁর তিন কন্যার অদম্য জেদের নতুন গল্প ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’। সম্প্রতি চ্যানেলের পর্দায় মুক্তি পেয়েছে এই ধারাবাহিকের প্রথম প্রোমো, যা ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। প্রোমোটির শুরুতেই দেখা যায় সমাজের সেই চেনা রূপ, যেখানে আজও মনে করা হয় বাবার সম্পত্তিতে মেয়েদের কোনো অধিকার নেই। কিন্তু সমাজ ও পাড়া-প্রতিবেশীর সেই ভ্রান্ত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এক নতুন যুদ্ধের ডাক দিয়েছে অন্নপূর্ণার মেজ মেয়ে স্নেহা। বাবার ছায়া ছাড়াই কীভাবে মেয়েরা নিজেদের যোগ্যতায় সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, সেই লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটেই বোনা হয়েছে এই ধারাবাহিকের কাহিনী।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন অন্নপূর্ণা এবং তাঁর তিন মেয়ে সাথী, স্নেহা ও সোমা। আর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা ঘোষ। অন্নপূর্ণা একাই একটি ভাতের হোটেল চালিয়ে মেয়েদের বড় করে তুলছেন। বড় মেয়ে সাথী রান্নায় নিপুণা, যার হাতের স্বাদ টানে গ্রামের মানুষকে সে যেন তার মায়েরই দ্বিতীয় রূপ। মেজ মেয়ে স্নেহা সব পরীক্ষায় প্রথম হওয়া এক মেধাবী ছাত্রী, যার লক্ষ্য কালেক্টর হয়ে সত্যের পথে লড়াই করা। আর ছোট মেয়ে সোমা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও পারদর্শী। এই তিন কন্যাক রত্নকে ঘিরেই আবর্তিত হবে ধারাবাহিকের মূল স্রোত, যেখানে প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার কাহিনী ফুটে উঠবে।
এই ধারাবাহিকের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর সামাজিক সচেতনতা। প্রোমোতে দেখা গেছে, পৈতৃক সম্পত্তিতে মেয়েদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মেজ মেয়ে স্নেহা অত্যন্ত সাহসের সাথে ‘হিন্দু সাকসেশন অ্যাক্ট, ১৯৫৬’-এর কথা উল্লেখ করে। সে মনে করিয়ে দেয় যে আইনের চোখে পুত্র ও কন্যা সন্তানের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। সাধারণ বিনোদনের পাশাপাশি আইনি অধিকার এবং নারী ক্ষমতায়নের এই বার্তা দর্শকদের কাছে একটি বড় পাওনা হতে চলেছে। গ্রামের পরিবেশে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যন্ত্রণার মাঝেও কীভাবে আইন ও আদর্শের জয় হয়, সেটাই হবে গল্পের অন্যতম আকর্ষণ।
পারিবারিক জীবন এবং সংগ্রামের এই সংমিশ্রণ দর্শকদের মনে আবেগঘন আবহ তৈরি করেছে। প্রোমোর একটি দৃশ্যে দেখা যায়, পাড়ার লোকজন যখন অন্নপূর্ণার মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কটাক্ষ করে বলে “বাপ ছাড়া ঘুড়ি ওড়ে না”, তখন অন্নপূর্ণা দৃঢ়কন্ঠে উত্তর দেন যে তাঁর মেয়েরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে তুলবে। এই সংলাপটি সমাজকে একটি শক্ত বার্তা দেয় যে নারীরা আজ আর কারো দয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়। মায়ের এই আত্মবিশ্বাস এবং মেয়েদের প্রতিভা কীভাবে গ্রামের রক্ষণশীল চিন্তাধারাকে বদলে দেয়, তা দেখতেই এখন মুখিয়ে আছেন বাংলার দর্শকরা।
আরও পড়ুনঃ ‘খুব স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে সবাই, আমার…’ ‘কিছু না জেনেই অসম্মান করা হয়েছে আমায়!’ কাজের অভাব আর চোখে স্ট্রোকের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা! মুখ খুললেন অভিনেত্রী সাগরিকা রায়!
যদিও চ্যানেলের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকটি সম্প্রচারের নির্দিষ্ট সময় বা তারিখ এখনো জানানো হয়নি, তবে খুব শীঘ্রই এটি জি বাংলার পর্দায় আসতে চলেছে। অন্নপূর্ণার চরিত্রে পরিচিত মুখ এবং তিন মেয়ের চরিত্রে নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের অভিনয় দর্শকদের কতটা মন জয় করতে পারে, এখন সেটাই দেখার। নারী শক্তির জয়গান গেয়ে ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’ বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের জন্য যে এক নতুন স্বাদের বিনোদন নিয়ে আসছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রোমো আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকদের কৌতূহল তুঙ্গে।

