‘ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব যাতে তোমাদের জীবনও নেগেটিভিতে ভরে যায়…’ সমাজ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিলেন সায়ক চক্রবর্তী!

সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakrabarty) ও দেবলীনা নন্দী (Debolina Nandy) দীর্ঘদিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সম্প্রতি দেবলীনার আত্মহত্যার পর দুজনের সম্পর্ক নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। দেবলীনা নন্দী ২০২৪ সালে পাইলট প্রবাহ নন্দীকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির সাথে তার সমস্যার কথা জানা যায়। বিশেষ করে তার মাকে সাথে রাখা নিয়ে বিতণ্ডা চরমে পৌঁছায়, যার ফলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সায়কের মতে, তিনি দেবলীনাকে অনেক আগেই এই বিষাক্ত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই কথা সোশ্যাল মিডিয়াতে জানানোর পর তুমুল হইচই পড়ে যায়।

দেবলীনার সাথে সায়কের ঘনিষ্ট বন্ধুত্ব দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে তাদের মধ্যে পরকীয়া বা প্রেমের সম্পর্কের ইঙ্গিত দিতে শুরু করেন। এমনকি সায়ককে ‘ঘরভাঙানি’ তকমাও শুনতে হয়েছে। অনেক নেটিজেনের ধারণা, দেবলীনা ও তার স্বামী প্রবাহর বৈবাহিক বিচ্ছেদের পেছনে সায়কের হাত রয়েছে। সায়কের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পোস্টের কমেন্ট সেকশনে অনেকে অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করছেন। বিশেষ করে দেবলীনা যখন হাসপাতালে ছিলেন, তখনও সায়ককে উদ্দেশ্য করে নানা বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করা হয়।

দেবলীনা হাসপাতালে থেকে ফিরে ভিডিও পোস্ট করেছেন। এদিকে সায়কও নিজের ফেসবুক একাউন্ট থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সায়ক অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দেবলীনার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তাকে দায়ী করে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যারা তাকে ‘ঘরভাঙানি’ বলছেন, তাদের প্রতি তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ঘটনার দিন দেবলীনা তাকে ফোন করে যখন বিপদের কথা জানান, তখন বন্ধু হিসেবে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ছিল সায়কের প্রধান কর্তব্য। তিনি যদি তখন ব্যবস্থা না নিতেন, তবে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত।

ভিডিওতে সায়ক দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এ দেশে একজন ছেলে ও একজন মেয়ে গভীর বন্ধু হতে পারে। এটি সমাজ এখনো বিশ্বাস করতে চায় না। বিপদের সময় পাশে দাঁড়ালেই সেখানে পরকীয়া বা অবৈধ সম্পর্কের তকমা দেওয়া হয়। এই সন্দেহপ্রবণ মানসিকতা অত্যন্ত নিম্ন রুচির পরিচয়। কোনো ঘটনার সত্য-মিথ্যা বিচার না করেই মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচারকের আসনে বসে পড়ে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে ‘ঘরভাঙানি’ বলা বা তার চরিত্র নিয়ে নোংরা ইঙ্গিত করাকে তিনি মানসিক বিকৃতি। তিনি দর্শকদের প্রশ্ন করেছেন— “একজন বন্ধুকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো কি অপরাধ?”

আরও পড়ুনঃ ‘দম বন্ধ হয়ে আসছে…’ হাসপাতালের বিছানাতেই আবার কি ঘটালেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী?

সায়কে সমকামী অর্থাৎ গে তকমা দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তার লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে ট্রোল করা অত্যন্ত নিচু রুচির কাজ। যারা এই ধরণের মন্তব্য করেন, তাদের উদ্দেশ্যে সায়ক বলেছেন যে তারা আধুনিক যুগের মানুষ হওয়ার যোগ্য নন। নেটিজেনরা সায়ককে নিয়ে দ্বিমুখী আক্রমণ করছে। একদিকে তাকে দেবলীনার ‘প্রেমিক’ বা ‘ঘরভাঙানি’ বলে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, আবার অন্যদিকে তাকে ‘সমকামী’ বলে বিদ্রূপ করা হচ্ছে।

Back to top button