২৭ বছরের দাম্পত্যে হয়ে গিয়েছেন “ভাই বোন” ! স্বামীর সঙ্গে এক অদ্ভুত মুখের মিল! কি বললেন রূপঙ্কর পত্নী চৈতালী?

প্রবাদ আছে, দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে শুধু অভ্যাসেই নয়, চেহারাতেও নাকি মিল চলে আসে। কিন্তু সেই মিল যদি এতটাই চোখে পড়ে যে বাইরের মানুষ ভুল করে বসেন, তা হলে মজার পরিস্থিতি তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। ঠিক তেমনই এক অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি হাসির ছলে ভাগ করে নিয়েছেন জনপ্রিয় গায়ক রূপঙ্কর বাগচীর স্ত্রী চৈতালী লাহিড়ী। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করে তিনি জানালেন, সম্প্রতি এক ব্যক্তি নাকি তাঁকে দেখে মন্তব্য করেছেন যে তাঁকে অবিকল রূপঙ্করের মতো দেখতে। এই কথাই যেন মুহূর্তে উসকে দিয়েছে বাঙালির চিরাচরিত রসিকতা।

চৈতালীর পোস্টের ভাষাতেই স্পষ্ট, বিষয়টিকে তিনি একেবারেই হালকা মেজাজে নিয়েছেন। এক যুগ নয়, রীতিমতো সাতাশ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর তাঁর মনে প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি সেই বহুচর্চিত তত্ত্ব তাঁদের ক্ষেত্রেও খাটে। অনেকের মতে, বহু বছর একসঙ্গে কাটালে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে এমনই মিল আসে যে ভাই বোন বলে ভুল হয়ে যায়। চৈতালী সেই ধারণাকেই রসিকতার মোড়কে তুলে ধরেছেন। তাঁর এই পোস্ট মুহূর্তে নজর কেড়েছে নেটিজেনদের।

পোস্টের কমেন্ট বক্সে শুরু হয়ে যায় মন্তব্যের বন্যা। বিশিষ্ট শিল্পী জয়তী চক্রবর্তী লেখেন, তুমি কারও মতো নও, তুমি একেবারেই তুমি। রূপঙ্কর নিজেও মন্তব্য করতে ভোলেননি, যদিও তাঁর বাক্য অসম্পূর্ণ রেখে দিয়েছেন, যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই কৌতূহল বাড়িয়ে দিলেন। অনুরাগীদের কেউ লিখেছেন, মুখের মিল মানেই আপনাদের সম্পর্ক মেড ফর ইচ আদার। আবার কেউ মজা করে বলেছেন, রূপঙ্করের চশমাটা পরে নিলে তো আরও মিলবে। গায়কের স্ত্রীর এই স্বতঃস্ফূর্ত রসবোধে মুগ্ধ ভক্তরা।

এই হাসির আড়ালেই লুকিয়ে আছে রূপঙ্কর এবং চৈতালীর দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। কেরিয়ারের শুরুর দিকে যখন রূপঙ্কর কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন থেকেই পাশে ছিলেন চৈতালী। নান্দিপঠ দলে নাটক করতে গিয়ে তাঁদের আলাপ, সেখান থেকেই বন্ধুত্ব আর ধীরে ধীরে প্রেম। নানা সামাজিক জটিলতার মাঝেও ভালোবাসার টানেই একে অপরের হাত ধরেছিলেন তাঁরা। এমনকি বিয়ের সময় চৈতালীর বাড়িতে অনেকেই জানতেন রূপঙ্কর রেলে চাকরি করেন।

আরও পড়ুনঃ রায়ানের চরম প্রতি’শোধ! আশীর্বাদের আসরে পৌঁছানোর আগেই অ’পহৃত অনিরুদ্ধ! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব!

এই দাম্পত্যের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি তাঁদের মেয়ে মহুল, যাকে তাঁরা দত্তক নিয়েছেন। এক অনুষ্ঠানে চৈতালী বলেছিলেন, মহুল তাঁর হৃদয় থেকেই জন্মেছে। রূপঙ্করের জীবনের উত্থান পতন কিংবা সাম্প্রতিক নানা বিতর্ক, সবকিছুতেই চৈতালী ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা। বিজ্ঞান স্বামী স্ত্রীর মুখের মিলের ব্যাখ্যা দিক বা না দিক, চৈতালীর এই ভাই বোন তত্ত্ব আর তাঁদের নিজেদের খুনসুটি প্রমাণ করে দেয়, সাতাশ বছর পরেও রূপঙ্কর চৈতালীর সম্পর্ক আজও সমান টাটকা ও প্রাণবন্ত।

Back to top button