‘আমি হলাম একমাত্র গায়ক যে…’ ‘কেউ আমাকে পছন্দ না করলে তাকে আমার সামনে আনো, আর আমাকে একটা…’ নিজের প্রতি দৃঢ় আত্মবিশ্বাস! ‘না’ কে ‘হ্যাঁ’ করার ক্ষমতা রাখেন গায়ক রূপম ইসলাম?

বাংলা রক সংগীতের জগতে রূপম ইসলাম (Rupam Islam) শুধু একটি নাম নয়, বরং একটি উন্মাদনার নাম। নব্বইয়ের দশকের শেষে বাংলা গান যখন বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন তাঁর হাত ধরেই ‘ফসিলস’ (Fossils) ব্যান্ডের মাধ্যমে বাংলা হার্ড রক এক নতুন মাত্রা পায়। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে গায়ক তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং সংগীতের শক্তি নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। গায়ক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সুরের জাদুতে তিনি যে কাউকে নিজের দলে টেনে আনার ক্ষমতা রাখেন।
রূপম ইসলামের জন্ম এক সংগীতানুরাগী পরিবারে। তাঁর বাবা নূরুল ইসলাম এবং মা ছন্দিতা ইসলাম উভয়ই সংগীত জগতের মানুষ ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই গানের আবহে বড় হওয়া রূপম ১৯৯৮ সালে গঠন করেন তাঁর আইকনিক ব্যান্ড ‘ফসিলস’। ‘হাসনুহানা’, ‘একা নও’, ‘বিষাক্ত মানুষ’-এর মতো গানে তিনি যেমন দ্রোহের কথা বলেছেন, তেমনি ‘নীল রং ছিল ভীষণ প্রিয়’-র মতো গানে ছুঁয়ে গেছেন মানুষের আবেগ। কর্মজীবনে তিনি কেবল ব্যান্ডের ফ্রন্টম্যান হিসেবেই নন, একক সংগীতশিল্পী, প্লেব্যাক সিঙ্গার এবং লেখক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর প্রতিটি গান বা মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অমোঘ আকর্ষণ।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের অদম্য জেদ এবং গানের প্রতি গভীর বিশ্বাসের কথা বলতে গিয়ে রূপম ইসলাম এক অভাবনীয় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত এবং দর্শকদের উন্মাদনা দেখা এই শিল্পী মনে করেন, গান দিয়ে মানুষের মন জয় করা তাঁর সহজাত প্রবৃত্তি। ঠিক এই প্রসঙ্গেই তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন, ‘আমি একমাত্র গায়ক যাকে যে কোন পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া যেতে পারে। যদি কখনো এরকম হয় কেউ আমাকে পছন্দ করে না তাকে আমার সামনে বসিয়ে দাও আর আমার হাতে একটা গিটার দাও দেখা যাক তাকে আমি আমার দলে নিয়ে আসতে পারি কি না। যদি তাকে আমি আমার দলে নিয়ে আসতে না পারি, তাহলে আমি আর কোন গর্ব করবো না।’
গায়কের এই বলিষ্ঠ বক্তব্যের গভীরে লুকিয়ে আছে তাঁর দীর্ঘ দুই দশকের সাধনা। রূপম ইসলাম এখানে কেবল অহংকার প্রদর্শন করেননি, বরং সংগীতের যে এক সর্বজনীন ভাষা আছে এবং তা দিয়ে যে ঘৃণা বা অপছন্দকেও জয় করা যায়, সেই সত্যটিই প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন শিল্পী যখন গিটার হাতে সরাসরি শ্রোতার চোখের দিকে তাকিয়ে গান গোন, তখন সেই সুরের কম্পন পাষাণ হৃদয়েও দোলা দিতে সক্ষম। যারা তাঁকে অপছন্দ করেন, তাঁদের তিনি শত্রু মনে না করে বরং নিজের গানের মাধ্যমে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেওয়ার এক ইতিবাচক লড়াইয়ে নামার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়েও মিঠির সুরক্ষায় মরিয়া পল্লবী! হাজার অপমানের পর সে ফিরে গেল সাগরের অফিসে! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
পরিশেষে বলা যায়, রূপম ইসলামের এই মন্তব্য তাঁর ‘রকস্টার’ ইমেজের সাথে যেমন মানানসই, তেমনি এটি সংগীতের ক্ষমতার ওপর এক বিশাল সার্টিফিকেট। তিনি নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যেখানে হার-জিতের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে শিল্পের প্রতি তাঁর অটল বিশ্বাস। ভক্তরা মনে করছেন, এই আত্মবিশ্বাসই রূপমকে আর দশজন শিল্পীর থেকে আলাদা করে রাখে। আর যাঁরা সমালোচক, তাঁদের জন্য তাঁর এই ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ বাংলা সংগীতের ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। সুরের কাছে যে শেষ পর্যন্ত সবাইকেই হার মানতে হয়, রূপম ইসলাম যেন সেই সত্যটিকেই পুনরায় মনে করিয়ে দিলেন।

