‘এ বছর শুধুই স্মৃতি…’- নেই মায়ের আঁচল! তাই হবে না ভাইফোঁটা! আবেগঘন মুহূর্ত ভাগ করে নিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত!

ভাইফোঁটা—ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর জীবনে শুধুই একটি আচার নয়, এক আবেগ, এক গভীর পারিবারিক বন্ধনের দিন। প্রতি বছর এই দিনটায় সাজে তাঁর ঘর, ভরে ওঠে হাসিতে-আড্ডায়। শুধু নিজের ভাই নয়, ছোটবেলা থেকে যাঁরা ভাইয়ের মতো স্নেহ পেয়েছেন, সেই তুতো ভাই বা পাড়ার ছেলেদেরও ফোঁটা দেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, “রক্তের সম্পর্কই সব নয়। যাঁরা আপন হয়ে ওঠেন, তাঁরাই তো আসল ভাই।” কিন্তু এ বছর সেই হাসি-খুশির উৎসব যেন নিভে গিয়েছে। কারণ, এ বছর নেই তাঁর মা।
ছোটবেলা থেকেই ভাইফোঁটা ছিল তাঁদের পরিবারের অন্যতম বড় উৎসব। ঠাকুমা, মা, পিসি—সবাই মিলে কী খাবার হবে, কীভাবে সাজানো হবে, সেই সব পরিকল্পনা চলত বহু আগে থেকে। সকালবেলায় শুরু হত রান্নার ধুম, দুপুরে একসঙ্গে পাতপেড়ে খাওয়া, হাসিঠাট্টা, খুনসুটি—ভাইফোঁটার আনন্দ ছিল একেবারে উৎসবের রঙে রাঙানো। “তখন পরিবার এত বড় ছিল যে দূরের সম্পর্ক হলেও সবাই সবাইকে চিনত,” স্মৃতির পাতা ওল্টাতে ওঁর চোখ ভিজে আসে।
ঋতুপর্ণা জানান, মায়ের হাত ধরেই এই প্রচলন শুরু হয়। মা ছিলেন পরিবারের প্রাণকেন্দ্র, উৎসবের হাসির আলো। এখন সেই আলোর উৎস হারিয়ে গেছে। তাই এ বছর ভাইফোঁটা পালন হবে না। “সব আলো যেন কেন নিভে যাওয়া,” বললেন আবেগঘন কণ্ঠে অভিনেত্রী।
তবে ভাইদের জন্য ভালোবাসা, শুভেচ্ছা তো কখনও কমে না। দূরে থেকেও তাঁদের জন্য মনের শুভকামনা রয়ে যাবে, জানালেন ঋতুপর্ণা। ভাইয়েরাও মাকে খুব মনে করছে, তাই এ বছরের ভাইফোঁটা হবে শুধুই স্মৃতিময়।
আরও পড়ুনঃ জীবন ম’রণ সংকটে কমলিনী! অপারেশন থিয়েটারে ঘটে গেল বিরাট অঘটন! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
শেষে অভিনেত্রীর মৃদু কণ্ঠে এক দীর্ঘশ্বাস—“এই দিনটা মানেই তো ভাইদের সঙ্গে কাটানো সময়, হাসির মুহূর্ত, ভালোবাসার ছোঁয়া। এ বছর সেটা হবে না। কিন্তু মনটা ওদের কাছেই থাকবে… মায়ের আশীর্বাদ নিয়েই।”

