‘একটা বাচ্চা হোক সব ঠিক হয়ে যাবে…ছেলে মা-বাবা সকলে মিলে মা’রত, ঘোমটা ছাড়া বেরোতে দিত না’ ‘আমি প্রতিবাদ করিনি, শুধু কেঁদেই গেছি…’ নি’র্যাতনের সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও ভোলেননি সংগীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়!

বাংলা সংগীত জগতের (Music Industry) অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় (Riddhi Banerjee)। যিনি মূলত পঞ্চকবির গান এবং বাংলা নাটকের গানের জন্য পরিচিত, আজ যেন নিজেকে ছাপিয়ে গিয়েছেন এক ভিন্ন রূপে। সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে আসা দুটি ভিডিওতে, সংগীতশিল্পীর একদম নতুন একটি দিক উন্মোচিত হয়েছে। সেখানে তিনি সম্পর্কের জটিলতা, পারিবারিক চাপ এবং বর্তমান সমাজের মানুষের অহংবোধ নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।

গায়িকা এমন কিছু কথা ভাগ করেছেন যা মূলত গৃহ নির্যাতনের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। তিনি বর্ণনা করেছেন, বিয়ের পর তাকে কীভাবে একটি দমবন্ধ করা পরিবেশে মানিয়ে নিতে হয়েছিল, যেখানে তাকে সবসময় শাড়ি ও ঘোমটা পরে থাকতে হতো। এমনকি তার নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ, যেমন বাড়িতে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য পোশাক পরাও বারণ ছিল। তার এই অভিজ্ঞতায় ফুটে উঠেছে কীভাবে বিয়ের পর একটি মেয়েকে তার নিজস্ব অস্তিত্ব হারিয়ে ভিন্ন একটি পরিবারের নিয়ম-কানুনের অধীনে বন্দি হতে হয়।

শিল্পী তার বক্তব্যে তুলে ধরেছেন যে, কথা না শুনলে তাকে কীভাবে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দ্বারা মারধর বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। তবে সবচেয়ে হতাশাজনক দিকটি ছিল যখন তিনি এই অসহ্য পরিস্থিতি থেকে নিষ্কৃতি পেতে নিজের পরিবারের শরণাপন্ন হন। একজন উচ্চশিক্ষিত ইংরেজির অধ্যাপক হয়েও তার বাবা আইনি বা নৈতিক সহায়তার পরিবর্তে পরামর্শ দিয়েছিলেন, “একটা বাচ্চা হোক, সব ঠিক হয়ে যাবে”। এই মন্তব্যটি সমাজে প্রচলিত সেই ভুল ধারণাটিকে ইঙ্গিত করে যে, একটি সন্তানের জন্মই হয়তো একটি ভাঙন ধরা সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে, যা কার্যত বাস্তবসম্মত নয়।

ঋদ্ধি সমাজের বর্তমান মানসিকতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি শিক্ষিত সমাজে মানুষের অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিকতা বা নার্সিসিস্ট পার্সোনালিটি-র ওপর আলোকপাত করেছেন। যারা মনে করেন কেবল তারাই সবথেকে ভালো কাজ করেন গান, অভিনয় বা শিল্প তাদের উদ্দেশ্যে শিল্পী বলেছেন, তারা আসলে নিজেদের তৈরি অহংকারের কবরেই ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, চারপাশে যারা কাজ করছেন, তাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব প্রতিভা ও গুণ আছে, যা শ্রদ্ধার দাবি রাখে।

আরও পড়ুনঃ ভূমিকম্পের আতঙ্কে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা! ফ্ল্যাটের চোদ্দ তলার ঘরে একা রাজা গোস্বামী! নড়ে উঠল গোটা ফ্ল্যাট! ১৪ তলা সিঁড়ি ধরে তৎক্ষণাৎ লাফ! কি জানালেন অভিনেতা?

ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কের সমীকরণে ক্ষমতার লড়াই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন। তিনি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার ওপর তোপ দেগে বলেছেন যে, অনেকেই চান না তাদের স্ত্রী বা সঙ্গী কাজের ক্ষেত্রে তাদের ছাড়িয়ে আরও এগিয়ে যাক। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, যারা নিজেদের বুদ্ধি ও শ্রম দিয়ে নিজের জায়গা তৈরি করছেন, তাদের উচিত অন্যদের সাথে নিয়ে এগিয়ে চলার মানসিকতা রাখা। তার এই বিশ্লেষণ স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতাই একটি সুস্থ সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি, ক্ষমতার দম্ভ নয়।

Back to top button