‘আগে নিজে স্বাভাবিক হন, তারপর রূপচর্চার জ্ঞান দিন’ এক্সপার্ট নৃপেন্দ্র গুহর চেহারা নিয়ে সমাজ মাধ্যমে সমালোচনার বন্যা!

বর্তমান যুগে নিজেকে সুন্দর ও পরিপাটি রাখার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই চাহিদাকে মাথায় রেখেই কলকাতায় সম্প্রতি যাত্রা শুরু করেছে অত্যাধুনিক স্কিন, হেয়ার এবং লেজার ক্লিনিক ‘Lumiera’। তবে এই ক্লিনিকের কর্ণধার, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এসথেটিক এক্সপার্ট নৃপেন্দ্র গুহ-র (Nripendra Guha) একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। চিকিৎসার গুণগত মান বা আধুনিক প্রযুক্তির আলোচনার চেয়েও এখন নেটিজেনদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে খোদ বিশেষজ্ঞের নিজের শারীরিক গঠন ও মুখশ্রী, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়।

সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ভিডিওর কমেন্ট বক্সে মন্তব্যের পাহাড় জমেছে, যার সিংহভাগই নেতিবাচক ও আক্রমণাত্মক। নেটিজেনদের একটি বড় অংশ নৃপেন্দ্র গুহ-র চেহারা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাঁকে তীব্রভাবে ‘ট্রল’ করছেন। দর্শকদের দাবি, অন্যদের সুন্দর করার পরামর্শ দিলেও নৃপেন্দ্র বাবু নিজের চেহারায় অত্যধিক কৃত্রিম পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। অনেকেই তাঁর বর্তমান লুককে ‘অস্বাভাবিক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং মন্তব্য করেছেন যে, যিনি নিজের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারেননি, তাঁর দেওয়া পরামর্শ সাধারণ মানুষের মনে ভীতি ও সংশয় তৈরি করছে।

Aesthetic Expert

এই বিতর্কের মূলে রয়েছে ‘প্লাস্টিক সার্জারি’ ও ‘কসমেটিক সার্জারি’-র তকমা। ভিডিওর নিচে দর্শকদের একাংশ অভিযোগ করেছেন যে, বোটক্স বা ফিলার এর মতো কৃত্রিম পদ্ধতির অপব্যবহারের ফলেই এই বিশেষজ্ঞের চেহারা এমন রূপ নিয়েছে। তাঁদের মতে, বিজ্ঞানের আড়ালে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে নষ্ট করে কৃত্রিমতার পথে হাঁটা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। জনৈক দর্শক কটাক্ষ করে লিখেছেন, “বিজ্ঞানের আশীর্বাদ যখন বিকৃতিতে রূপ নেয়, তখন তা অনুপ্রেরণার চেয়ে আতঙ্ক বেশি ছড়ায়।” এমনকি অনেকে এই পরিবর্তনকে ‘প্লাস্টিক লুক’ হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন।

আরও পড়ুনঃ অভিনয় নয়, গান দিয়েই শুরু! রজতাভ দত্তের জীবনে ‘কুইনাইন’! জেনে নিন সেই অজানা অধ্যায়!

অন্যদিকে, ভিডিওতে নৃপেন্দ্র গুহ নিজের ওপর কোনো অস্ত্রোপচারের কথা সরাসরি না বললেও, তিনি সৌন্দর্যের একটি নিজস্ব ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, সৌন্দর্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং আপেক্ষিক একটি বিষয়। তিনি জানিয়েছেন, যদি আয়নায় নিজেকে দেখে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ে, তবে সেই পরিবর্তনই ইতিবাচক। তিনি তাঁর ক্লিনিকে মেডিকেটেড ফেশিয়াল, লেজার ট্রিটমেন্ট এবং চুলের আধুনিক চিকিৎসার ওপর জোর দিয়েছেন, যা মূলত ত্বকের গভীরে গিয়ে সমস্যার সমাধান করে এবং মানুষের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে ট্রলিংয়ের এই জোয়ারে সৌন্দর্য বনাম কৃত্রিমতার এক চিরন্তন দ্বন্দ্ব পুনরায় সামনে চলে এসেছে। সাধারণ মানুষের মতে, যখন একজন বিশেষজ্ঞ নিজেই কৃত্রিমতার চাদরে ঢাকা পড়ে যান, তখন সেই চিকিৎসার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এই মুহূর্তে কলকাতার এই নামী বিশেষজ্ঞকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া কার্যত দ্বিধাবিভক্ত। একদিকে আধুনিক চিকিৎসার সমর্থকরা রয়েছেন, অন্যদিকে রয়েছেন তারা যারা মনে করেন কৃত্রিম পরিবর্তন আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও তা ব্যক্তিত্বের স্বাভাবিকতা কেড়ে নেয়। এই প্রবল ট্রলিং ও বিতর্কের মুখে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও কোনো পালটা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Back to top button