মাথার উপর ছিল না ছাদ! অনাহারে রাস্তায় শুয়ে কেটেছে রাত! সেই ছেলেটাই আজ টলিউডের রাজা মিঠুন চক্রবর্তী!

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির (Film Industry) কিংবদন্তি তথা ডিস্কো ড্যান্সার মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty) জীবন কাহিনী যে কোন বলিউডের নায়ক নায়িকার জীবনের গল্পকে হার মানাবে। রাস্তা থেকে উঠে এসে রাতারাতি অভিনয়ে জগতে এনেছিলেন নতুন জোয়ার। বলিউড (Bollywood) থেকে টলিউড (Tollywood) সহ আরো অন্যান্য ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অভিনয়ের ছাপ ফেলে গিয়েছেন বিভিন্ন ভাষায় মোট ৩৫০ টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী।

মিঠুন চক্রবর্তীর জীবনের স্ট্রাগল

এমনও সময় গিয়েছে যখন বলিউডে কাজ পাওয়ার জন্য তাকে বড় বড় অভিনেতাদের ফাইফরমাস খাঁটতে হয়েছে। মুম্বাইতে থাকা খাওয়ার জন্য সামান্য টাকা টুকুও ছিল না তার কাছে। ফুটপাতেও কাটিয়েছেন রাতের পর রাত। সেই মিঠুন চক্রবর্তী আজ সকলের প্রিয় দাদা। যখন প্রথম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী তার মধ্যে হিরো হবার মতো কোনো রকম গঠন ছিল না অভিনেতার। ছিপচিপে চেহারা, চাপা গায়ের রং দেখে অনেকেই তাকে দূরে সরিয়ে দেন। সেইসময় বড় বড় অভিনেতা অভিনেত্রী তাকে দেখে দূরে সরে যেতেন। পরে তারাই আবার মিঠুনের সঙ্গে কাজ করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

বক্স অফিসে ১০০ কোটির গণ্ডি পার করা প্রথম ভারতীয় ছবি ছিল ‘মৃগয়া’। তারপর ১৯৮২ সালে বলিউডের ডিস্কো ড্যান্সার ছবিই মিঠুনের ভাগ্য বদলে দেয়। ডিস্কো ডান্সার ছবির গান, গল্প আর মিঠুনের নাচ ছিল দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এরপর পেয়ার হুয়া চোরি চোরি, ত্রিনেত্র, পেয়ার ঝুকতা নাহি, গুলামী সহ ৩০০ এর বেশি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন।

বলিউডের পাশাপাশি বাংলা ছবিতে তার অবদান কম নয়। মৃগয়া ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন অভিনেতা। আজও এই বয়সে এসে সমানতালে অভিনয় করে চলেছেন অভিনেতা। প্রজাপতি, শাস্ত্রীর মতো ছবিতে আজও তাকে সাবলীল ভাবে অভিনয় করতে দেখা যায়। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার আরও এক ছবি সন্তান। রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় এই ছবিতে বয়স্ক বাবার চরিত্রে দেখা যেতে চলেছে অভিনেতাকে।

আরও পড়ুন: শ্যামৌপ্তিকে সরিয়ে সৈরীতি? ফিরছে আদি-ইশা জুটি! অমর সঙ্গীর নায়িকা হয়েই ছোট পর্দায় সৈরীতি!

সন্তান ছবি নিয়ে অভিনেতা জানান “এই ছবিটা প্রত্যেকের দেখা উচিত। জীবনের শেষ জীবন পর্যন্ত আমাদের যত ক্ষমতা ততটুকু দিয়ে বাবা-মার সাথে থাকা উচিত। আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমাকে আমার বাবা অনেক মেরেছিল। বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল, খেতে দেয়নি। আমার রাজনৈতিক কিছু কাজকর্মের জন্য আমার বাবা সেগুলো পছন্দ করতেন না। কিন্তু তাও আমি আমার যতটুকু সামর্থ্য ততটুকু দিয়ে আমার বাবা মায়ের সঙ্গে জীবনে সেই সিন পর্যন্ত থেকেছি। আর এটাই আজকের সময়ের ছেলেমেয়েদের দেখা উচিত।”

Back to top button