মহালয়ার ভোরে তাঁর উপস্থিতি ছিল অনিবার্য! নিভে গেল দূরদর্শনের সেই অতি পরিচিত মুখ! চির বিদায় জানালেন অমল চৌধুরী!

দূরদর্শনের মহালয়ার ইতিহাসে একসময় যাঁর গর্জন কাঁপিয়ে দিয়েছিল পর্দা, আজ তিনি হারিয়ে গেলেন নিঃশব্দে, অবহেলায়। প্রয়াত হয়েছেন মহালয়ার অসুররূপী অভিনেতা অমল চৌধুরী। বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগলেও চরম আর্থিক অনটনের কারণে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি। জীবনের শেষ অধ্যায়ে খাবারের সংস্থান করতেও হিমশিম খেতে হয়েছে তাঁকে। যে মানুষটি একদিন লক্ষ লক্ষ দর্শকের মনে ভয় আর বিস্ময় জাগিয়েছিলেন, তাঁর এই পরিণতি যেন সমাজের কাছে এক নির্মম প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়।

মহালয়ার ভোরে দূরদর্শনের পর্দায় দোর্দণ্ডপ্রতাপ অসুরের ভূমিকায় অমল চৌধুরীর অভিনয় আজও বহু দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। চোখে চোখ রেখে তাঁর সংলাপ বলার ভঙ্গি, শরীরী ভাষা এবং গম্ভীর উপস্থিতি মহালয়ার আবহকে আরও গা ছমছমে করে তুলত। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তার কোনও স্থায়ী প্রতিদান পাননি অশোকনগরের বাসিন্দা এই অভিনেতা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আলো ঝলমলে দুনিয়া তাঁকে ভুলে গেলেও, পর্দায় তাঁর সৃষ্টি করা চরিত্র আজও বেঁচে রয়েছে দর্শকের মনে।

দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন অকৃতদার অমল চৌধুরী। অশোকনগরের নিজের বাড়িতে একাই থাকতেন তিনি। প্রতিবেশীরা সুযোগ পেলে খোঁজখবর রাখতেন, সামান্য সাহায্যও করেছেন অনেকে। বুধবার দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না মেলায় সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। শেষে বাড়ির তালা ভেঙে ঘরের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় তাঁর নিথর দেহ। খবর পেয়ে অশোকনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

মহালয়া ছাড়াও বেশ কিছু সিনেমা ও মেগা ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন অমলবাবু। পর্দার আড়ালে তাঁর সংগ্রামী জীবনের কথা আজ মনে পড়ছে প্রতিবেশী ও পরিচিতদের। কয়েক বছর ধরে আর্থিক দুরবস্থার মধ্যেই দিন কাটছিল তাঁর। এর মধ্যেই একটি দুর্ঘটনার পর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় আয়ও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। একা জীবন কাটানো এই অভিনেতার পাশে তখন খুব কম মানুষই ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ ডিএনএ টেস্টেই সর্বনাশ? নাকি চমৎকার? অবাক স্বয়ং গোরাচাঁদ! কে এই অদ্বিতীয়া? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

আজ বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অশোকনগর থানার তরফে অমল চৌধুরীর দেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। তাঁর মৃত্যু যেন আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, জনপ্রিয়তা ক্ষণস্থায়ী হলেও শিল্পীর জীবনসংগ্রাম কতটা কঠিন হতে পারে। দূরদর্শনের মহালয়ার এক অধ্যায় আজ চিরতরে শেষ হয়ে গেল, কিন্তু অসুররূপী অমল চৌধুরীর অভিনয় বেঁচে থাকবে বাঙালির স্মৃতিতে অনেক দিন।

Back to top button