যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মেলেনি সম্মান! শেষ বয়সে ক্ষো’ভ নিয়েই ইহলোক ছেড়েছেন ললিতা চট্টোপাধ্যায়

বাংলা এবং হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের এক সময়কার জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে তিনি ছিলেন। খুব অল্প বয়সে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। উত্তম কুমারের নায়িকা হিসেবে পেয়েছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা। আজকের প্রতিবেদনে সেই জনপ্রিয় অভিনেত্রী ললিতা চ্যাটার্জিকে (Lolita Chatterjee) নিয়েই কথা বলব। ১৯৩৭ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন ললিতা, মাত্র চার বছর বয়সেই নিজের মাকে হারিয়েছিলেন। বাবা ছিলেন একজন আর্মি অফিসার, সেই জন্য বাবার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ছিলেন বিভিন্ন সময়। পরবর্তী সময়ে অবশ্য পাকাপাকিভাবে পরিবারের সবাইকে নিয়ে কলকাতায় থাকতে শুরু করেন।

ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের প্রতি ললিতা দেবীর ছিল অসম্ভব ভালোবাসা। যার কারণে মাত্র ৮ বছর বয়সেই অনন্যা ছবিতে কাননবালা দেবীর ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এই ছবির কাহিনী লিখেছিলেন সুজাতা ছদ্মবেশে তার দিদি কল্যাণী। সাত ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবথেকে ছোট। মাত্র ১০ বছর বয়সে রেডিওতে গান গাওয়া শুরু করেন। এরপর ইংল্যান্ডে পড়াশোনা জন্য পারি দেন। ছোট থেকে লেখাপড়ার গান বাজনাতে খুব ভাল ছিলেন অভিনেত্রী। পড়াশুনা শেষ করে ফিরে আসার পর মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পরেও পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন প্রাইভেটে।

টলিউডের পাশাপাশি বলিউডেও কাজ করেন ললিতা চ্যাটার্জী

একবার নিজের বৌদির সঙ্গে উত্তম কুমারের ছবি রাই কমলের শুটিং দেখতে গিয়ে সেখানে মহানায়কের সাথে আলাপ হয় ললিতার। প্রথমবার দেখেই মহানায়ক তাকে নায়িকা বানানোর প্রস্তাব দেন। এরপর ১৯৬৪ সালে বিভাস ছবিতে তার নায়িকা হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান ললিতা। তারপর উত্তম কুমারের সঙ্গে এন্টনি ফিরিঙ্গি, মেমসাহেব, হার মানা হার, জয়জয়ন্তী ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। কয়েকটি বাংলা ছবিতে অভিনয় করে অবশেষে মুম্বাই চলে যান। ১৯৬০ এবং ৭০ এর দশকে বলিউডের বিভিন্ন ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। রাত আন্ধেরি থি, আপ কি কসম, তালাশ এবং পুষ্পাঞ্জলি -তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

lolita chatterjee

দশ বছর বলিউডে কাটিয়ে ফের চলে আসেন কলকাতায়। কলকাতায় এসে আবারো বাংলা চলচ্চিত্র জগতে অভিনয় শুরু করেন। সেই সময় বাংলা ছবি পাশাপাশি যাত্রাতে অভিনয় করা শুরু করেন তিনি। যাত্রাতে অভিনয় করতে গিয়ে প্রথম পাহাড়ি ভট্টাচার্যের সঙ্গে তার আলাপ হয়। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পর পাহাড়ি ভট্টাচার্যকে বিয়ে করেন ললিতা দেবী। তাদের বিয়ের সাক্ষী হিসেবে সই করেন স্বয়ং উত্তম কুমার। সেই সম্পর্ক অবশ্য বেশিদিন টেকেনি। এরপরে আবারো লিভ ইন সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ মাঠে মা’রা গেল বৃন্দার প্ল্যান! আক্কুর বুদ্ধিতে ফাঁ’স আসল রহস্য! জমে গেল আজকের পর্ব

শেষ জীবনে অভিনেত্রীর আফসোস ছিল যথাযথ যোগ্যতা এবং ট্যালেন্ট থাকা সত্ত্বেও তাকে কখনো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন যদি পুনর্জন্ম বলে কিছু হয় তাহলে তিনি পরবর্তী জন্মে গায়িকা হয়ে জন্মাতে চান। তবে শেষ জীবনেও বেশ কিছু কাজ করেছিলেন। তারপর অবশেষে ২০১৮ সালের ৯ই মে ৮১ বছর বয়সে কলকাতার নার্সিংয়ে সেরিব্রাল স্ট্রোক হয়ে মা’রা যান তিনি।

Back to top button