কেউ দিনমজুর আবার কারো দিন কাটে ইটভাটায়! আধপেটা খেয়ে, চোখে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে জামশেদপুর থেকে ডান্স বাংলা ডান্সের মঞ্চে এই পাঁচ প্রতিযোগী!

বাংলার রিয়েলিটি শো গুলির মধ্যে দর্শকদের অন্যতম পছন্দের হলো জি বাংলার (Zee Bangla) জনপ্রিয় নাচের রিয়েলিটি শো ডান্স বাংলা ডান্স (Dance Bangla Dance)। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই রিয়েলিটি শো দর্শকদের মন জয় করে আসছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী শোনা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই আবারো শুরু হতে চলেছে এই শো।
দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরেই জি বাংলায় পর্দায় সম্প্রচিত হচ্ছে এই শো। দর্শক মহলে এই শোয়ের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। প্রতিটি সিজনে দর্শকদের জন্য থাকে নতুন নতুন চমক। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসে নৃত্যশিল্পীরা তাদের প্রতিভা দেখানোর জন্য। দুর্ধর্ষ সব প্রতিযোগীদের মাঝে প্রত্যেকেই নিজেকে প্রমাণ করার লড়াইয়ে নামে।

এবারেও ডান্স বাংলা ডান্সের মঞ্চে প্রতিবছরের মতো প্রধান বিচারকের আসনে রয়েছেন সকলের প্রিয় মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। আর বিচারকের আসনে রয়েছেন টলিপাড়ার চারজন জনপ্রিয় অভিনেতা অভিনেত্রী। রয়েছেন যীশু সেনগুপ্ত, শুভশ্রী গাঙ্গুলী, কৌশানি মুখার্জী, অঙ্কুশ হাজরা। দীর্ঘ কয়েক বছর পর আবার ডান্স বাংলা ডান্সের হাত ধরে জি বাংলার পর্দায় ফিরেছেন যীশু সেনগুপ্ত। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে এবারের ডান্স বাংলা ডান্স বেশ জমজমাট হতে চলেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘যখনই হোঁচট খাই, ও ঠিক হাতটা ধরে নেয়…’- ঠিক প্রথম দিনের মতনই রয়েছে এই ৪০ বছরের সম্পর্ক! মা’রণ রোগে আ’ক্রান্ত মিঠুকে বুকে আগলে রেখেছেন সব্যসাচী!
তবে এবারে ডান্স বাংলা ডান্সের মঞ্চে সকল প্রতিযোগীদের মাঝে উপস্থিত রয়েছে একটি একেবারে অন্যরকম নাচের দল। সে দলের সকলেই ছেলে এবং সেই পাঁচজনই অত্যন্ত গরীব ঘরের। তাদের দলের নাম ডিএসআর। তারা প্রত্যেকেই জামশেদপুরের বাসিন্দা। আর প্রত্যেকেই খেটে খাওয়া মানুষ। নিজেদের সংসার খরচা চালানোর জন্য তারা নিজেই পরিশ্রম করে টাকা রোজগার করে। কেউ সেখানে মায়ের সঙ্গে ইটভাটায় কাজ করে, কেউ আবার দিনমজুরের খাটনি ঘাটে, আবার কেউ বাড়ি বাড়ি সাতসকালে খবরের কাগজ ডেলিভারি করে, কেউ খাবার ডেলিভারি করে। তবে তারা যেই কাজই করুক না কেন তাদের মধ্যে নাচের প্রতিভা অন্যদের তুলনায় কিছু কম নয়। তাদের নাচ অন্যান্য সমস্ত বড় বড় জায়গা থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পীদেরকেও তাক লাগিয়ে দেবে।
তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখে তো মুগ্ধ শুভশ্রী, যীশু সহ প্রত্যেক দর্শক। এমনকি মিঠুন চক্রবর্তীও নিজে তাদের এই পরিশ্রমের কথা শুনে বাহবা জানিয়েছেন। কারণ আমরা প্রত্যেকেই জানি মিঠুন চক্রবর্তীও একসময় বড় জায়গায় যাওয়ার জন্য কতটা পরিশ্রম করেছেন তাই তিনি সেই ছেলেগুলির মধ্যে নিজের ছোটবেলাটা খুঁজে পাচ্ছিলেন। প্রত্যেক বারের তুলনায় এইবার ডান্স বাংলা ডান্সের মঞ্চে প্রতিযোগীদের প্রতিভা এবং তাদের জীবনের লড়াই দর্শকদের মনে দাগ কাটতে বাধ্য।

