গান শুরুর আগে তৈরি করতে হবে উপযুক্ত ‘পরিবেশ’! ছাত্র-ছাত্রীদের গান শেখানোর আগে ঠিক কি কি নিয়ম পালন করেন গায়িকা ইমন চক্রবর্তী?

বাংলা সংগীত জগতের (Music Industry) অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ইমন চক্রবর্তী (Iman Chakraborty)। তাঁর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ আপামর বাঙালি। রবীন্দ্রসংগীত থেকে শুরু করে লোকগান কিংবা চলচ্চিত্রের প্লে-ব্যাক—সব মাধ্যমেই তিনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ‘প্রাক্তন’ চলচ্চিত্রে ‘তুমি যাকে ভালোবাসো’ গানের জন্য জাতীয় পুরস্কার জয়ের পর থেকে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। তবে কেবল স্টেজ শো বা রেকর্ডিং স্টুডিওতেই তিনি সীমাবদ্ধ নন বরং নতুন প্রজন্মের মধ্যে শুদ্ধ সংগীতের ধারাকে ছড়িয়ে দিতে তিনি সমানভাবে নিবেদিতপ্রাণ।
সম্প্রতি তাঁর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তাঁকে এক ভিন্ন রূপে দেখা গেছে। শিল্পী তাঁর নিজস্ব সংগীত একাডেমি, ‘ইমন সংগীত একাডেমি’ (Iman Sangeet Academy)-তে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যস্ত। সেখানে গায়িকা হিসেবে নয়, বরং একজন আদর্শ শিক্ষিকা হিসেবে তিনি ধরা দিয়েছেন। তাঁর পরনে ছিল কালো রঙের একটি এমব্রয়ডারি করা কুর্তা এবং চোখে চশমা, যা তাঁর ব্যক্তিত্বে এক গাম্ভীর্য যোগ করেছে।
সংগীত শিক্ষার অন্যতম প্রধান ধাপ হলো সঠিক পদ্ধতিতে রেওয়াজ করা। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ইমন তাঁর ছাত্রছাত্রীদের বোঝাচ্ছেন যে গানের মূল পর্বে যাওয়ার আগে কীভাবে একটি যথাযথ পরিবেশ বা ‘অ্যাটমোসফিয়ার’ তৈরি করতে হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেন যে কণ্ঠকে গানের জন্য প্রস্তুত করতে হলে মানসিক স্থিরতা এবং উপযুক্ত পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। হারমোনিয়ামের সুরে সুর মিলিয়ে তিনি প্রতিটি পদক্ষেপ যত্ন সহকারে বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
গলা সাধার আধুনিক কৌশল হিসেবে ইমন এই ক্লাসে ‘লিপ ট্রিল’-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি হাতে-কলমে শিক্ষার্থীদের শেখাচ্ছেন কীভাবে ঠোঁটের এই ব্যায়ামের মাধ্যমে গলার জড়তা কাটানো যায়। এরপর তিনি একটি উচ্চাঙ্গ সংগীত ঘরানার বন্দিশ বা ঠুমরি শৈলীর গান যাত নেহি চুনরি রাঙডারি শেখাতে শুরু করেন। তাঁর গায়কীর সূক্ষ্ম কাজগুলো শিক্ষার্থীরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছে এবং তাঁর সাথে গলা মেলাচ্ছে।
বর্তমানে এই সংগীত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির ক্লাস চলছে কলকাতার বাঁশদ্রোণী এলাকায়। ভিডিওর শেষে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তির তথ্য এবং যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হয়েছে। সংগীতের প্রতি ইমনের এই ভালোবাসা এবং তা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। নতুন প্রতিভাদের সঠিক দিশা দেখাতে ইমনের এই একাডেমি এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

