Exclusive: ‘মিঠাই’ থেকে ‘মিঠি’ হওয়ার চ্যালেঞ্জ থেকে নেগেটিভ কমেন্ট কীভাবে সামলেছেন, ‘মিঠাই ২’ কি আসছে ? জানালেন সৌমিতৃষা

বাংলা টেলিভিশনের এই মুহূর্তের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন সৌমিতৃষা কুন্ডু, আর কিছুদিনের মধ্যে যিনি বড় পর্দায় পা দিতে চলেছেন। ছোট পর্দায় বেশ কিছু বছর ধরে কাজ করলেও জি বাংলার ‘মিঠাই’ ধারাবাহিক থেকে তিনি অগাধ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তার এত সাবলীল অভিনয় ছিল মিঠাই চরিত্রতে যার জন্য বাংলার দর্শকরা তাকে একেবারে ঘরের মেয়ে করে তুলেছে। আর তাই মিঠাইয়ের যাত্রা শেষ হতে না হতেই তিনি পেয়ে গেছেন বড় পর্দায় সুযোগ সে কথা এর আগে এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউতে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন।

আজ আপনাদের জানাবো সেই এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ এর আরও একটি পার্ট মানে যেখানে অভিনেত্রী তার মিঠাইয়ের জার্নি থেকে শুরু করে মিঠি চরিত্রে অভিনয় করাটা ঠিক কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল সেটা বলেছেন। এছাড়া ‘সিধাই’ জুটি থেকে ‘মিহিত’ জুটি এইসব টাই তার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এসব উল্লেখ করার সাথে সাথে তিনি এটা উল্লেখ করেছেন মিঠাই ২ আসার খবর কতটা সত্যি!

১.মিঠাইয়ের সাথে সাথে সিধাইকে তুমি কতটা মিস করছো?

সৌমিতৃষা – হ্যাঁ নিশ্চয়ই, দেখো মিঠাইকে মিস করা মানেই শুধু সিড মিঠাই। কেন দাদু আর মিঠাইয়ের যে বন্ডিংটা ছিল সেই জুটিটাও কিন্তু দারুণ সুপারহিট। সিড মিঠাই থেকে শুরু করে দাদু মিঠাই বা ওই ধারাবাহিকে আরো যে যে চরিত্র ছিল তাদের সকলের সাথে মিঠাইয়ের একটা আলাদা বন্ডিং ছিল বাড়ির প্রত্যেকটা সদস্যের সাথে। আর সেই জন্যই মিঠাই কোথাও গিয়ে বাড়ির বউ এর থেকে মেয়ে হয়ে উঠেছিল। তাই প্রত্যেককে খুব মিস করি আর তার সঙ্গে সঙ্গে মিঠি রোহিতের জুটিটাও খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল অল্প সময়ের মধ্যেই। কিন্তু আমাদের হাতে ওই জুটিটা নিয়ে এগোনোর মত সময় ছিল না যদি সময় থাকতো তাহলে হয়তো অন্যভাবে এগোনো যেত।

২.মিঠাই তোমাকে অনেক জনপ্রিয়তা দিয়েছে, যদি জিজ্ঞাসা করি মিঠাই কি তার উচ্চেবাবু ছাড়া এতোটা জনপ্রিয়তা পেত না! তাহলে তুমি কী বলবে?

সৌমিতৃষা– তুমি যদি বলো যে শুধু মিঠাই সিরিয়াল বা মিঠাই চরিত্রটার জনপ্রিয়তার কথা তাহলে সেটা শুধু আমাদের অ্যাক্টরদের জন্য নয় আমাদের গোটা টিম ছিল যাদের জন্য এত সাফল্য পেয়েছে। তাই আমি জানিনা এখন ঠিক ক’বছরে এত জনপ্রিয় একটা ধারাবাহিক আসে। তাই আমি শুধু বলতে পারব না যে আমাদের শুধু আর্টিস্টদের জন্যই হয়েছে। যিনি ডায়লগ লিখছেন তার থেকে শুরু করে যিনি ডিওপি প্রত্যেকেই এই ধারাবাহিকের জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ। তারপর এডিট যে করছে থেকে যারা প্রোডাকশন বয় তারা প্রত্যেকে, পুরো টিম থেকে শুরু করে চ্যানেল প্রত্যেকেই মিঠাই সিরিয়াল তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

৩. মিঠাই পরিবারের অনেকেই তো ঘুরতে গেছে মিঠাই শেষ হতেই আদৃত, ধ্রুব, ঐন্দ্রিলা, দিয়া তোমার তেমন কোনো প্ল্যান নেই?

সৌমিতৃষা– আমার বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান ছিল। কিন্তু যেহেতু আমি একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম, তাই না হলে আমি ট্রেকিংয়ে যেতাম। আমাদের ট্রেকিং এ যাওয়ার একটা প্ল্যান ছিল। কিন্তু সেটা এখন চাইছি না তার কারণ এখন শরীরটা সুস্থ রয়েছে আর সেটা থাক। আমি যেহেতু আড়াই বছর এত ননস্টপ পরিশ্রম করেছি আমি ছুটি খুব কম নিয়েছি। ওই জন্য শরীরের একটা রেস্টের খুব প্রয়োজন।

৪.মিঠাই করার সময় তোমার ডায়লগের সাথে নিজে মডিফাই কতটা করতে? মানে নিজের থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কিছু স্ক্রিপ্টে যোগ করা বা শুটিংয়ের সময়ে কিছু পাল্টানো নিজের মতো করে এরকম করতে?

সৌমিতৃষা– আমাদের রাইটার খুবই অন্যরকম ছিলেন। আর আমি পার্সোনালি বলছি, আমি বেশ কিছু ইনপুট করতাম ডায়লগে সেটা আমাদের রাইটারের পছন্দ হলে সেটা পরের দিন স্ক্রিপ্টে চলে আসতো। সেই স্বাধীনতাটা সব সময় আমাদের দিয়েছিলেন। আমি যদি কিছু দিতাম সেটা যদি পরের দিন স্ক্রিপ্টে আসে তাহলে আমি বুঝতাম যে তার মানে এটা রাখি ম্যামের পছন্দ হয়েছে। আমি প্রতিটা ক্যারেক্টারে একটা ইউনিক বডি ল্যাঙ্গুয়েজ রাখার চেষ্টা করি। এটা আমার খুব ভালো লাগে। আর এখানে আমি মিঠাই ক্যারেক্টার করার সময় কোমরে হাত দিয়েছিলাম সেটাই খুব হিট হয়ে গিয়েছিল। তাই যখন মিঠি আসে সেটা আমরা খুব চ্যালেঞ্জিং ভাবে নি। কারণ মানুষ মিঠাইকে এতো ভালোবাসা দিয়েছে তখন মিঠি চরিত্রটিকে ঠিক কতটা ভালোবাসা দেবে তা আমরা বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কিন্তু মানুষ সৌমিতৃষাকে এত ভালবেসেছে যে মিঠিকেও আপন করে নিয়েছিল। আর তখনই আমি আর রাখি ম্যাম বসে ভাবতাম যে মিঠি চরিত্রটাকে আলাদা করে কী দেওয়া যায়? সেখান থেকেই রাখি ম্যাম বলেন যে মিঠি হিন্দি বলবে আর আমি ঠিক করি যে চুলে হাত দেওয়ার ওই স্টাইলটা করবো আর সেটাও হিট হয়ে যায়।

৫.তোমার আর আদৃতের জুটি দর্শক আবার দেখতে চায়… মিঠাই ২ নিয়ে এর মধ্যে চর্চা তুঙ্গে, তেমন কোনো পরিকল্পনা আছে?

সৌমিতৃষা– এটা শুধু আমাদের সিরিয়াল বলে নয় এখনো পর্যন্ত আমি যতগুলো ভালো ভালো সিরিয়াল দেখেছি যেগুলো মানুষদের মনের দাগ কাটতে পেরেছে, সেই সিরিয়ালগুলোর দ্বিতীয় অধ্যায় আশা নিয়ে কথা উঠেছে বা ভক্তরা দাবি তুলেছে।

৬. মিঠাই ২ কি আসার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে?

সৌমিতৃষা– না

৭.মিঠাই- এর সময় নেগেটিভ পজিটিভ দুটো কমেন্ট পেয়েছ নেগেটিভ কমেন্ট গুলো কীভাবে নিয়েছো?

সৌমিতৃষা– কাজ ভালো করলে নেগেটিভ কমেন্ট এলে তখন অতটাও খারাপ লাগে না। কারণ কাজের জন্য জনপ্রিয়তা পাচ্ছি আর কাজের জন্য নেগেটিভ কথাবার্তা উঠবে। কিছু মানুষ কাজ বাদ দিয়ে নেগেটিভ কমেন্টেই আটকে যায়, সেই জায়গায় যেন কখনো যেতে না হয়। তাছাড়া চর্চায় থাকা ভালো।

সাক্ষাৎকার – নবনিতা ঘোষ

Back to top button