Exclusive: ‘আমি কোথাও যাবো না, টলিউডেই থাকবো’, হিন্দি সিরিয়ালের সুযোগ ছেড়েছেন, বাংলাতেই কাজ করতে চান বাংলার গর্ব সৌমিতৃষা

বাংলা টেলিভিশনের এই মুহূর্তে যে কজন অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রী রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুন্ডু। তবে বাংলার মানুষ তাকে “মিঠাই” নামেই চেনে। জি বাংলায় জনপ্রিয় ধারাবাহিক মিঠাই থেকেই তার পরিচিতি এমনভাবে বাংলা টেলিভিশনের দর্শকের কাছে পৌঁছয় যে একেবারে ঘরের মেয়ে হয়ে ওঠেন তিনি। কিছুদিন আগেই দীর্ঘ আড়াই বছরের বেশি যাত্রা শেষ করেছে মিঠাই। আর শেষের দিনগুলোতেই সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই বোঝা গেছে যে এই ক’বছরে মিঠাই মানুষের ঠিক কতটা আপন হয়ে উঠেছিল।

সৌমিতৃষা এর আগেও বেশ কিছু ধারাবাহিকে অভিনয় করেছে পার্শ্ব চরিত্র থেকে মুখ্য চরিত্রেও। কিন্তু জি বাংলার মিঠাই তাকে যে জনপ্রিয়তা দিয়েছে সেই জনপ্রিয়তা আর কোন কাজই দিতে পারেনি একথা অভিনেত্রী নিজেই স্বীকার করেন। তবে মিঠাই শেষ হওয়ার আগেই ভক্তদের কাছে এসেছে এক বিশাল সুখবর। আর কয়েক মাসের মধ্যেই বড় পর্দায় দেখা যাবে সকলের প্রিয় সৌমিতৃষাকে তাও আবার বাংলার সুপারস্টার দেবের বিপরীতে। এই নিয়ে সম্প্রতি অভিনেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। আসুন দেখে নেওয়া যাক ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা এমনকি হিন্দি সিরিয়ালে কাজ করা নিয়ে অভিনেত্রী কী বললেন?

প্রথমেই বলো তোমার শরীর কেমন আছে?

সৌমিতৃষা:
এখন একদম ভালো আছি কিছুদিন রেস্টে ছিলাম তারপরে এখন একদম ঠিকঠাক।

দীর্ঘ আড়াই বছরের মিঠাইয়ের যাত্রা শেষ করলে, এত দিনের অভ্যাস মিঠাইয়ের কল টাইম পাওয়া, সেটাকে কতটা মিস করছো?

সৌমিতৃষা:
ভীষণ মিস করছি। ওটাতো একটা অধ্যায় একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার মত বাবা-মা ফল খাইয়ে পাঠাতো সে সবকিছুই এখন খুব স্লো হয়ে গেছে। খুব মিস করছি।

মিঠাই শেষ হওয়ার আগেই সুখবর দিয়েছো। তাই আগেই বড় পর্দায় কাজ করার জন্য অনেক শুভেচ্ছা। এবার বলো বড় পর্দায় কাজ করার জন্য আলাদা কি কিছু প্রস্তুতি নিচ্ছো?

সৌমিতৃষা:
 
না আলাদা কোন প্রস্তুতির সেভাবে নিচ্ছি না। তবে এটুকু বলতে পারি যে চরিত্রটা মিঠাই এর থেকে আলাদা করার জন্য অনেকখানি চ্যালেঞ্জিং আমাদের পুরো টিমের কাছে।

তোমার কাছে জিতের সাথে কাজ করার সুযোগ এসেছিল সেটা করতে পারোনি…

সৌমিতৃষা:
হ্যাঁ আসলে আমার কাছে প্রধানের আগে আরো তিনটে ছবির অফার ছিল। তার মধ্যে আমি বেছে নিয়েছিলাম জিৎ দার প্রোডাকশন হাউজের কাজটা। কারন এই মুহূর্তে বড় পর্দার কাজটা আমার কাছে নতুন আর আমি এখন একটা সময়ে, একটা কাজই করতে পারব। তিনটে প্রজেক্টের গল্পই সুন্দর ছিল কিন্তু তার মধ্যে থেকে আমি বেছে নিয়েছিলাম জিৎ দার কাজটাই। আর তারপরেই যখন আমার কোমরে ব্যথাটা শুরু হলো তখন আমি একটু দোনো মনোতে ছিলাম যে আমি কি ঠিকঠাক শুটিংটা করতে পারব! কারণ জুন মাস থেকে শুরু হতো এই ছবির শুটিং। আর আমার প্রথম ছবিতে আমি চাইনি কেউ আমাকে বলুক যে ও ওর ১০০% দিতে পারেনি। তখন থেকেই আমি ভাবছিলাম যে আমি কি না করে দেবো! আবার নিজেই যেহেতু এটা করবো বলে মনস্থির করেছিলাম তাই কিছু বলতে পারছিলাম না। এরপরে প্রধানের জন্য আমাকে অতনু স্যার ফোন করেন। তখন আমি ডিসাইড করি যে এদের শুটিংটা যেহেতু একটু পরে হবে তখন আমি কিছুটা রেস্ট নিয়ে আগস্ট থেকে শুটিং টা শুরু করতে পারব। যখন ১২ দিনের রেস্ট নিয়েও আমি সুস্থ হইনি তখন আমি জানিয়ে দি ওদেরকে যে জুনে শুটিং হলে আমার শারীরিক কিছু প্রবলেম রয়েছে যার জন্য আমি করতে পারবো না। আর ওরাও আমার সঙ্গে অনেক সহযোগিতা করেছে।

তাহলে তোমার তো জিৎ দার সাথে কাজটা হয়ে উঠলো না, তার জন্য একটা আফসোস রয়েছে। নিশ্চয়ই পরবর্তীকালে কখনো কাজ করবে?

সৌমিতৃষা:
একটা আফসোস রয়েছে, কিন্তু আশা করব যদি আমি কাজ করার যোগ্য হই তাহলে পরবর্তী দিনে আবার কাজ করার সুযোগ পাবো।

“প্রধান” ডিসেম্বরে মুক্তি পাচ্ছে তারপরে অর্থাৎ এই মুহূর্তে কি আর ছোট পর্দায় ফেরার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে?

সৌমিতৃষা:
দেখো অদূর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আমি করি না। তবে এই মুহূর্তে ছোট পর্দায় ফেরার ইচ্ছা নেই এই মুহূর্তে ছবি করার ইচ্ছা আছে। প্রধান নিয়েই আপাতত ভাবছি। আর এটুকু বলতে পারি যে ওয়েব সিরিজ নিয়ে আমি ভাবছি না, ওয়েব সিরিজেরও অফার ছিল কিন্তু এখন আমি সেটা করছি না।

কমার্শিয়াল নাকি মেনস্ট্রিম কোনটা তোমার বেশি পছন্দের?

সৌমিতৃষা:
এখন কমার্শিয়াল খুব কম হচ্ছে। এখন বেশিরভাগই মানুষ গল্প দেখতে চায় তাই মেনস্ট্র্রীমই হচ্ছে। তাই এটা আশা রাখবো এখন আবার যেভাবে বাংলা সিনেমার হল ভরে যাচ্ছে তাতে আস্তে আস্তে আবার দেখবো কমার্শিয়াল ছবির জন্যই হল ভরে যাচ্ছে। এটা আমার স্বপ্ন কারণ ওইসব সিনেমা দেখে তো বড় হয়েছি কমার্শিয়াল ছবি আমার খুবই পছন্দের।

অনেকেই টলিউড থেকে বলিউডে পাড়ি দিচ্ছে, এখন বলিউডের ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় কাজ করছে। তো তোমার কি এরকম কোন সুযোগ এসেছে? আর যদি পরবর্তী দিনে আসে তাহলে কি তুমি করবে?

সৌমিতৃষা:
দেখো, যখন আমি মিঠাই করছিলাম মানে মিঠি চরিত্র করছিলাম সেই সময় আমার কাছে একটা হিন্দি সিরিয়ালের জন্য অফার আসে। কিন্তু সেটা আমার কিছু ব্যক্তিগত কারণের জন্য আমি করিনি। দেখো, আমার মনে হয় না যে আমি অন্য কোথাও যাবো। আমার মনে হয় আমি এখানেই থাকবো। আসলে এখানে মানুষ এত ভালোবাসা দিয়েছে যে এখান থেকে যেতে ইচ্ছা করে না।

মিঠাই কেন এতটা বিশেষ হয়ে উঠেছিল? সিধাই থেকে মিহিত জুটি হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ এবং মিঠাই ২ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত সে কোথাও জানালেন অভিনেত্রী। কী বললেন সৌমিতৃষা আসবে পরের পার্টে।

সাক্ষাৎকার – নবনিতা ঘোষ

Back to top button