‘ঠাকুমা হয়ে গেছো তুমি…’ ‘কারোর মা বাবা চিরকাল থাকে না, যতদিন আছে…’ সত্যিটা প্রকাশ্যে আনলেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী!

বর্তমান সময়ের সোশ্যাল মিডিয়া সেনসেশন এবং অত্যন্ত সুকণ্ঠী গায়িকা হিসেবে দেবলীনা নন্দী (Debolina Nandy) আজ ঘরে ঘরে পরিচিত। মাত্র আড়াই বছর বয়সে হারমোনিয়ামে হাত রাখা এই শিল্পীর গানের সফর শুরু হয়েছিল শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের হাত ধরে। রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি থেকে শুরু করে আধুনিক এবং লোকসঙ্গীতেও তিনি সমান পারদর্শী। ইউটিউব এবং ফেসবুকে তাঁর গাওয়া কভার গানগুলি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছেছে। শুধুমাত্র সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেই নয়, তাঁর প্রাণখোলা হাসি এবং ভ্লগিংয়ের মাধ্যমেও তিনি অগণিত মানুষের ভালোবাসা জয় করেছেন। সম্প্রতি তিনি প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবেও নিজের আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

তবে এই সাফল্যের পথ দেবলীনার জন্য মোটেও মসৃণ ছিল না। একসময় চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। বাবার অসুস্থতায় যখন সংসার প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল, তখন দেবলীনা ও তাঁর মা লড়াই করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। এমনকি পড়াশোনা চালানোর জন্য পাড়া-প্রতিবেশীর সাহায্যের ওপরও নির্ভর করতে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু সম্প্রতি দেবলীনার ব্যক্তিগত জীবনে এক বড় ঝড় বয়ে যায়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পারিবারিক বিবাদ ও মানসিক নির্যাতনের জেরে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সেই সংকটময় মুহূর্তে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর মা এবং প্রিয় বন্ধুরা। সেই যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় সরিয়ে রেখে তিনি এখন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই চালাচ্ছেন।

অতীতের সেই অন্ধকার কাটিয়ে দেবলীনা এখন অনেকটা শান্ত ও ইতিবাচক। সম্প্রতি তাঁর শেয়ার করা একটি ‘মিনি ভ্লগ’ নতুন করে নেটিজেনদের চোখে জল এনে দিয়েছে। ভিডিওতে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তিনি কেন সারাক্ষণ ‘মা মা’ করেন? এর উত্তরে দেবলীনা এক অত্যন্ত গভীর জীবনবোধের কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, “মা-বাবা সারাজীবন কারোর থাকে না। তাই যতটুকু সময় পাচ্ছ, জাস্ট ধরে আগলে টেনে রেখে দাও।” এই বার্তাটি শুধুমাত্র তাঁর ভক্তদের জন্য নয়, বরং তাঁর নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতারই নির্যাস।

দেবলীনার পেশাগত জীবনের প্রতিটি ধাপে তাঁর মা একটি শক্ত খুঁটির মতো দাঁড়িয়ে আছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, গানের প্রোগ্রাম বা শুটিং যেখানেই হোক না কেন, মা তাঁর ছায়ার মতো সঙ্গী। দেবলীনা বাইরের খাবার একদমই পছন্দ করেন না, তাই তাঁর মা বাড়ি থেকেই চা এবং খাবার গুছিয়ে নিয়ে ছোটেন। মায়ের হাতের তৈরি ভেজ রুটি আর সয়াবিনই তাঁর কাছে শ্রেষ্ঠ খাবার। মেয়ের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে মা যেন সবসময় অতন্দ্র প্রহরী।

আরও পড়ুনঃ ইঁটের বদলে পাটকেল! রক্তিমের নোংরা চালের মুখে দিতির পাল্টা চাল! পরিবারের সম্মান বাঁচাতে এবার রণংদেহী দিতি! প্রকাশ্যে নতুন প্রোমো!

মায়ের এই অক্লান্ত পরিশ্রম আর ভালোবাসাকে দেবলীনা মজা করে ঠাকুরমার ঝোলার সাথে তুলনা করেছেন। খিদে পেলেই মায়ের ব্যাগ থেকে জাদুর মতো বেরিয়ে আসছে প্রোটিন বার কিম্বা পিনাট চিকি। ভিডিওর শেষে দেবলীনা তাঁর মাকে ‘ঠাকুরমা’ বলে মজা করলেও, তাঁর চোখে-মুখে মায়ের প্রতি যে গভীর শ্রদ্ধা ও নির্ভরতা দেখা গেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অন্ধকার দিনগুলো পেরিয়ে দেবলীনা এখন তাঁর মায়ের হাত ধরেই জীবনের নতুন আলো খুঁজে পাচ্ছেন।

Back to top button