দুর্ঘটনার কিছুদিন আগেই বন্ধু সায়কের সঙ্গে রত্ন কিনতে গিয়েছিলেন দেবলীনা! য’ন্ত্রণাময় জীবনে শান্তি খুঁজতেই রত্নের খোঁজ করছিলেন গায়িকা?

গায়িকা দেবলীনা নন্দী সম্প্রতি যে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছেন তা নাড়িয়ে দিয়েছে তার অনুরাগী এবং সাধারণ মানুষকে। দীর্ঘদিন ধরেই দেবলীনা মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। শ্বশুরবাড়ি থেকে বারবার তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল যেন তিনি নিজের মা বাবার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন। দেবলীনা এই শর্ত মানতে রাজি ছিলেন না। পরিবারের প্রতি টান এবং নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখার লড়াইয়ে একসময় তিনি চরম মানসিক অবসাদের মধ্যে চলে যান। অতিরিক্ত মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। সৌভাগ্যবশত সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হওয়ায় দেবলীনা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন এবং বর্তমানে আগের থেকে অনেকটাই ভালো আছেন।

এই ঘটনার পর আরও যেটা সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে তা হলো দেবলীনাকে নিয়ে তার স্বামীর নির্লিপ্ত মনোভাব। দেবলীনাদের স্বামীর নাম প্রবাহ এবং তিনি পেশায় একজন বিমান চালক। এত বড় একটি শারীরিক অবনতি ঘটার পরেও দেবলীনাকে নিয়ে একবারও খোঁজ নেননি তিনি। দেবলীনা বেঁচে আছেন কিনা কিংবা তার শারীরিক অবস্থা কেমন সে বিষয়ে কোনও আগ্রহই দেখাননি বলে পরিবারের তরফে অভিযোগ। যেখানে বন্ধু, পরিচিত মানুষ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুরাগীরা দেবলীনাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন সেখানে স্বামীর এই নীরবতা আরও গভীর করেছে গায়িকার মানসিক ক্ষত।

পরিবার সূত্রে জানা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরেই দেবলীনা নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক দেখালেও ভেতরে ভেতরে তিনি একা হয়ে পড়েছিলেন। নিজের কষ্ট কাউকে বোঝাতে না পারার যন্ত্রণা এবং অবহেলার অনুভূতি ধীরে ধীরে তাকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। তবুও দেবলীনা চেষ্টা করেছিলেন স্বাভাবিক থাকার, হাসিমুখে সকলের সামনে নিজেকে তুলে ধরার। কিন্তু চাপ জমতে জমতেই একসময় তিনি সেই ভয়ংকর সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যান যা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

এই ঘটনার কিছুদিন আগেই দেবলীনা তার বন্ধু সায়ককে নিয়ে একটি রত্নের দোকানে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। সেই দোকানে এমন সব রত্ন ছিল যেগুলি নাকি সম্পর্ক, শরীর, মন এবং আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে সাহায্য করে। দেবলীনা বিভিন্ন রত্ন দেখছিলেন এবং কেনার কথাও ভাবছিলেন। অনেকের ধারণা, নিজের বৈবাহিক জীবনকে সুখের করে তুলতে এবং দীর্ঘদিনের মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেই তিনি এই পথে হেঁটেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতে চেয়েছিলেন যে হয়তো জীবনে আবার শান্তি ফিরবে।

আরও পড়ুনঃ বেঙ্গালুরু যাত্রাপথেই গুরুতর অসুস্থ সুস্মিতা দে! বাতিল একাধিক অনুষ্ঠান! কি হয়েছে অভিনেত্রীর?

কিন্তু বাস্তবটা ছিল অনেক বেশি কঠিন। টাকা দিয়ে কেনা কোনও রত্নই দেবলীনাকে সেই মানসিক স্বস্তি দিতে পারেনি যার জন্য তিনি আকুল ছিলেন। অবহেলা, দাম্পত্য টানাপোড়েন আর দীর্ঘদিনের মানসিক যন্ত্রণা শেষ পর্যন্ত তাকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করে। যদিও এই মুহূর্তে দেবলীনা অনেকটাই সুস্থ আছেন এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। তার এই লড়াই অনেকের কাছেই নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব এবং সম্পর্কের মধ্যে সহানুভূতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে।

Back to top button