‘ওর স্বামী একবারও ফোন করেনি, ও বেঁচে আছে না ম’রে গেছে… মানতে পারছে না, বারবার কেঁদে ফেলছে বোন’- একবারও খোঁজ নেননি স্বামী প্রবাহ! মৃ’ত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেও মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েছে দেবলীনা! চোখে জল নিয়ে অকপটে দিদি শর্মিষ্ঠা!

সম্প্রতি গায়িকা দেবলীনা নন্দীকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনা সকলকে নাড়িয়ে দিয়েছে। জানা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়ির তরফে তাঁকে বারবার চাপ দেওয়া হচ্ছিল যেন তিনি নিজের মায়ের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক শেষ করে দেন। কিন্তু দেবলীনা এই দাবি মানতে পারেননি। পরিবার এবং নিজের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার মানসিক যন্ত্রণা তাঁকে ক্রমশ ভেঙে দিচ্ছিল। এই লাগাতার চাপ আর মানসিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরেই তিনি চরম সিদ্ধান্তের পথে এগিয়ে যান। তবে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ায় মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি এবং বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় স্থিতিশীল।

দেবলীনাকে ঘিরে আর একটি বিষয় সামনে এসেছে, যা আরও বেশি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তাঁর স্বামীর নাম প্রবাহ, যিনি পেশায় একজন বিমানচালক। এত বড় একটি শারীরিক ও মানসিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পরও দেবলীনাকে নিয়ে স্বামীর কোনও খোঁজখবর নেই বলেই দাবি পরিবারের। দেবলীনা বেঁচে আছেন কি না, তাঁর অবস্থা কেমন, কোথায় চিকিৎসা চলছে এসব বিষয়ে একবারও যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানা যাচ্ছে। এই বিষয়টি দেবলীনাকে আরও ভেঙে দিয়েছে বলে পরিবার সূত্রে খবর।

দেবলীনাদের দিদি শর্মিষ্ঠা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর থেকে দেবলীনা প্রবল মানসিক ধাক্কায় রয়েছেন। প্রতি মুহূর্তে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। বহু বছর ধরে যাঁকে ভালোবেসেছেন, সেই মানুষটি একবারও তাঁর খোঁজ নেননি, এই সত্যটা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। কেমন আছেন, কতটা সুস্থ হচ্ছেন, কবে বাড়ি ফিরতে পারবেন বা শরীরের কী কী ক্ষতি হয়েছে এসব নিয়ে কোনও আগ্রহ দেখানো হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।

শর্মিষ্ঠার কথায়, গোটা সোশ্যাল মিডিয়া, দেবলীনাদের বন্ধু মহল এবং অসংখ্য অনুরাগী যখন গায়িকার জন্য উদ্বিগ্ন, তখন তাঁর নিজের স্বামীর উদাসীনতা দেবলীনাকে আরও আতঙ্কিত করে তুলেছে। দেবলীনা ভয় পাচ্ছেন, দর্শকরা যেন তাঁকে ভুল না বোঝেন বা এমনটা মনে না করেন যে সেলিব্রিটি বলেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিবার চেষ্টা করছে তাঁকে বোঝাতে যে বহু মানুষ তাঁর পাশে রয়েছেন এবং তাঁর সুস্থতা কামনা করছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘বাবার বারণ শুনে জেদ চেপে গিয়েছিল, আমি তাই…’- বাবার কোন কথা মানেননি অভিনেতা? বিমানের বন্ধুত্বের উষ্ণতা! জোজোর কাঁধে মাথা রেখে ঘুমে আচ্ছন্ন বিশ্বনাথ!

এই ঘটনা ফের একবার মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। সম্পর্কের চাপ, একাকীত্ব এবং অবহেলা একজন মানুষকে কতটা গভীর অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারে, দেবলীনা নন্দীর ঘটনাই তার প্রমাণ। আপাতত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। পরিবারের একটাই আশা, দেবলীনা যেন এই কঠিন সময় কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস ফিরে পান।

Back to top button