চলচ্চিত্র দুনিয়ায় শোকের ছায়া! থেমে গেল বিনোদন জগতের গতি! বাড়ি থেকে উদ্ধার চলচ্চিত্র নির্মাতার নি’থর মৃ’তদেহ!

হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের এক প্রবীণ নির্মাতার জীবনের শেষ অধ্যায় যেন লিখে দিল গভীর নিঃসঙ্গতার গল্প। একসময় যিনি পর্দায় রঙিন স্বপ্ন বুনতেন, যাঁর কাজ দর্শকদের আনন্দ দিত, তাঁর জীবনাবসান হলো নিঃশব্দে, নিঃসঙ্গ ঘরে। শুধু সফল পরিচালকই নন, তিনি পরিচিত ছিলেন জনপ্রিয় শিশুশিল্পী বেবি গুড্ডুর বাবা হিসেবেও। একসময় আলো ঝলমলে জীবনের সঙ্গে যুক্ত এই মানুষটির এমন পরিণতি যেন অবিশ্বাস্যই মনে হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রির বহু মানুষের কাছে।

ঘটনাটি সামনে আসে মুম্বইয়ের বাসভবন থেকে উদ্ধার হওয়া এক পচাগলা দেহকে কেন্দ্র করে। সপ্তাহের শুরুতেই পুলিশ সেই দেহ উদ্ধার করে। পরিচালকের জনসংযোগ আধিকারিক জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। টানা কয়েকদিন তাঁকে ঘরের বাইরে না দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে নিথর দেহ উদ্ধার করে। সেই মুহূর্তে যেন স্পষ্ট হয়ে যায়, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নিঃসঙ্গতায় দিন কাটাচ্ছিলেন।

এরপর গভীর রাতে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ নিয়ে যাওয়া হয় কুপার হাসপাতালে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যার জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে চলচ্চিত্র জগতে। যাঁরা একসময় তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন বা তাঁর ছবি দেখে বড় হয়েছেন, সকলেই স্তব্ধ। আলো, ক্যামেরা আর মানুষের ভিড়ের বাইরে তাঁর শেষ সময় যে এত নির্জন ছিল, তা যেন মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে উঠছে অনেকের কাছে।

চলচ্চিত্র জীবনের শুরু হয়েছিল সহকারী পরিচালক হিসেবে। সে সময় তিনি একাধিক প্রতিষ্ঠিত পরিচালকের সঙ্গে কাজ করে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। মূলধারার বহু জনপ্রিয় ছবির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরে স্বাধীন পরিচালক হিসেবেও নিজের পরিচয় তৈরি করেন। তাঁর পরিচালনায় নির্মিত কিছু ছবি মুক্তি না পেলেও শিল্পমহলে আলোচনায় ছিল। একসময় বলিউডে তাঁর অবদান এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা তাঁকে বিশেষ মর্যাদার জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ ‘অভিনয় ছেড়ে দেবো…রোজ কাঁদতাম!’ ‘বাবা রোজ বকাবকি করত…’ অপমান আর লাঞ্ছনা সয়েই সাফল্যের শিখরে নন্দিনী দত্ত!

যাঁর জীবন নিয়ে আজ এত আলোচনা, যাঁর নিঃসঙ্গ পরিণতি সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে, তিনি হলেন বলিউডের প্রবীণ চলচ্চিত্র নির্মাতা এম এম বেগ। তাঁর কন্যা শিশুশিল্পী হিসেবে একসময় দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। আজ সেই সাফল্যের স্মৃতি আর অসংখ্য ছবির ইতিহাসই রয়ে গেল তাঁর জীবনের সাক্ষ্য হয়ে। আলো ঝলমলে এক জীবন শেষ হলো নিঃশব্দে, রেখে গেল গভীর শূন্যতা আর অজস্র প্রশ্ন।

Back to top button