২৫ বছর বয়সেই শেষ হয়ে গেল একটি জলজ্যান্ত জীবন! আ’ত্মহত্যা করলেন টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা! শোকাহত টলিপাড়া!

জলগাঁও জেলার পারোলার ছেলে সচিন ছিলেন পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। কাজ করতেন পুনে আইটি পার্কে। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ছিল তাঁর। সেই ভালোবাসারই প্রকাশ ঘটেছিল ‘জামতাড়া ২’-এ তাঁর চরিত্রে, আর আসন্ন মারাঠি ছবি ‘আসুরবান’-এ, যেটি মুক্তি পাওয়ার কথা চলতি বছরেই।

মৃত্যুর মাত্র পাঁচ দিন আগে, নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ‘আসুরবান’-এর মোশন পোস্টার শেয়ার করেছিলেন সচিন। খুব নিয়মিত না হলেও, কাজের ছবি তিনি পোস্ট করতেন। ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি আপলোড করেছিলেন ‘জামতাড়া ২’-এর সেট থেকে এক ঝলক। আসুরবান ছবিতে সহ-অভিনেতা ছিলেন পূজা মইলি ও অনুজ ঠাকরে। পরিচালনা করেছেন সচিন রামচন্দ্র আমবাত। ছবির প্রচার শুরু হয়েছিল মাত্র কয়েকদিন আগে, তখনই নেমে এলো এই অন্ধকার খবর। বলা হচ্ছে, ছবিটিতে সচিন ছিলেন অন্যতম মুখ্য চরিত্রে।

মহারাষ্ট্র টাইমস জানিয়েছে, ২৩ অক্টোবর তাঁর পরিবার জলগাঁওয়ের বাড়িতে সচিনকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ধুলে-র হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ২৪ অক্টোবর রাত দেড়টা নাগাদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সচিন।

জামতাড়া: সবকা নম্বর আয়েগা সিরিজের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘জামতাড়া ২’–এ সচিনকে দেখা গিয়েছিল এক চরিত্রে, যা দর্শকের মনে ছাপ ফেলেছিল। ফিশিং নিয়ে গড়া এই গল্পে দ্বিতীয় মরশুমে দেখা যায়, গুডিয়া নামের এক মেয়েকে রাজনৈতিক লড়াইয়ে সাহায্য করতে ফের একত্রিত হয় পুরনো দল। রকি ও সান্নি নতুন উপায়ে প্রতারণা চালিয়ে তহবিল জোগাড়ের চেষ্টা করে। নোটবন্দির পরবর্তী সময়ে যখন মানুষ হয়ে উঠেছে আরও সতর্ক, তখনই শুরু হয় তাদের নতুন কৌশল, নতুন যুদ্ধ।

ছোট শহরের সেই লড়াই, পরিশ্রম আর আলো ছোঁয়ার আকাঙ্ক্ষা— সবটাই যেন মিশে ছিল সচিনের জীবনের গল্পে। দিনমজুরের মতোই পরিশ্রম করতেন নিজের স্বপ্নের জন্য। দিনের বেলায় সফটওয়্যার অফিস, রাতে অভিনয়ের অনুশীলন— এমন জীবনেই বেঁচে ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ দাদুর স্বাধীনতা সংগ্রামী, বাবা রবীন্দ্র গবেষক! সেই বাড়ি থেকে কিভাবে হিয়া হলেন গীতা এলএলবি?

তাঁর বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা মনে করেন, সচিন ছিলেন অদম্য পরিশ্রমী, সর্বদা হাসিখুশি এক তরুণ। যিনি ছোটবেলা থেকেই সবাইকে বিনোদন দিতে ভালোবাসতেন। কিন্তু হয়তো সেই হাসির আড়ালেই ছিল এক গভীর ক্লান্তি, যেটি কেউ বুঝতে পারেনি। মাত্র ২৫ বছর বয়সে, জীবনের ঠিক সেই মোড়ে দাঁড়িয়ে যেখানে সামনে ছিল নতুন ছবি, নতুন যাত্রা, নতুন সম্ভাবনা— সেখানে সচিন নিজেই শেষ টানলেন নিজের গল্পে।

Back to top button