বঞ্চিত অভিনেতার আপন পরিবার? কাকে কোটি কোটি টাকা দান করে গেলেন ধর্মেন্দ্র?

বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র প্রয়াত হওয়ার পর থেকেই তাঁর বিপুল সম্পত্তি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। খামারবাড়ি থেকে রিসর্ট এবং একাধিক রেস্তরাঁ—ধর্মেন্দ্রের সম্পত্তির পরিমাণ ছিল বিশাল। হঠাৎই গুঞ্জন ওঠে, তিনি নাকি মৃত্যুর আগেই কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ছেলেমেয়েদের দিতে অস্বীকার করেছেন। কিন্তু আসল ঘটনাটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।

সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, তাঁর দুই ছেলে এবং চার মেয়েকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করার খবর সত্য নয়। বরং ধর্মেন্দ্র তাঁর পৈতৃক জমির একটি বড় অংশ দান করে গিয়েছিলেন কাকার নাতিপুতিদের। উদ্দেশ্য ছিল, গ্রামের এই আত্মীয়েরা যেন কোনও রকম আর্থিক সংকটে না পড়ে স্বচ্ছন্দে জীবন কাটাতে পারেন। কৃষিজমির দায়িত্বে নিয়মিত নজরদারি দরকার হয়—এই ভাবনা থেকেই তিনি জমি তাঁদের নামে লিখে দেন।

ধর্মেন্দ্র যখন খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছেন, তখন কাজের চাপ এতটাই বেড়ে যায় যে নিজের গ্রাম নাসরালির জমিগুলি ঠিকমতো দেখা সম্ভব ছিল না। উপরন্তু পৈতৃক জমির পরিমাণও ছিল অনেক। তাই তিনি বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নেন, যাঁরা কাছে থাকেন এবং জমির যত্ন নিতে পারবেন, তাঁদের হাতেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া ভালো। গ্রামের এই আত্মীয়েরা শুধু জমির পরিচর্যাই করেননি, বরং ধর্মেন্দ্রের দেওয়া আস্থাও সযত্নে রেখে চলেছেন।

অভিনেতার ভাগ্নে বুটা সিংহ জানিয়েছেন, জমি নিয়ে কোনও ধরনের বিবাদ শুরু হওয়ার আগেই ধর্মেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নেন। নিজের জন্মভিটের প্রতি তাঁর টান ছিল অসীম। শুটিংয়ের কাজ নিয়ে যতই ব্যস্ত থাকুন, গ্রামে গেলে তিনি মাটিতে হাত ছুঁইয়ে প্রণাম করতে ভুলতেন না। গ্রামের মানুষ আজও সেই দৃশ্য ভুলতে পারেননি এবং তাঁর উদারতা তাদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ধর্মেন্দ্রের প্রয়াণের দশ দিন পার! শেষদিনগুলোয় কি আবদার করতেন ধর্মেন্দ্র? কোন আবদার না মেটানোর আক্ষেপ রয়ে গেল হেমার?

ধর্মেন্দ্র যে জমি আত্মীয়দের হাতে তুলে গিয়েছিলেন, তার আনুমানিক মূল্য কম করে পাঁচ কোটি টাকা। গ্রামবাসী এবং পরিবারের দূরসম্পর্কের সদস্যরা আজও মনে করেন, ধর্মেন্দ্র শুধুমাত্র এক তারকা নন, বরং ছিলেন এক মানবিক মানুষ যিনি নিজের শিকড়কে কখনও ভুলে যাননি। তাঁর এই সিদ্ধান্ত তাই আজও নাসরালির মানুষের গর্ব।

Back to top button