ধর্মেন্দ্রের প্রয়াণের দশ দিন পার! শেষদিনগুলোয় কি আবদার করতেন ধর্মেন্দ্র? কোন আবদার না মেটানোর আক্ষেপ রয়ে গেল হেমার?

২৪ নভেম্বর পর্দার কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এক সপ্তাহ কেটে গেলেও তাঁর চলে যাওয়া যেন এখনও মানতে পারছেন না স্ত্রী হেমা মালিনী। স্মরণসভায় তাঁকে দেখা না গেলেও নিজের বাড়িতেই স্বামীকে স্মরণ করে গীতাপাঠের আয়োজন করেছিলেন তিনি। তবে তাঁর নীরবতার আড়ালে যে প্রবল শোক জমে আছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সম্প্রতি।
ধর্মেন্দ্রের প্রয়াণের পর পরিচালক হামাদ আল রেয়ামি দেখা করতে যান হেমার সঙ্গে। তিনি ফিরে এসে জানান, হেমা বাইরে থেকে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করলেও ভিতরে ভিতরে ভেঙে পড়েছেন পুরোপুরি। কথা বলতে বলতে বারবার চোখ ভিজে আসছিল তাঁর। বহু বছরের সঙ্গীকে হারানোর কষ্ট কোনও শব্দেই তুলে ধরা যায় না—হেমার অবস্থাই যেন সেই অনুভূতি।
অভিনেতার সঙ্গে কাটানো অসংখ্য স্মৃতিই এখন ঘুরে ফিরে আসছে তাঁর মনে। সেই সব মধুর মুহূর্ত যেন আবার একবার ছুঁয়ে দেখতে চান তিনি। কথার ফাঁকে ফাঁকেই যেন ফিরে যাচ্ছিলেন অতীতে, মনে পড়ছিল দু’জনের একান্তে ভাগ করে নেওয়া ছোট ছোট সময়গুলোর কথা। ধর্মেন্দ্রের উপস্থিতি বাড়ির প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে ছিল, আর এখন সেই শূন্যতাই তাঁকে আরও তীব্রভাবে আঘাত করছে।
হেমার মনে সবচেয়ে বড় যে আক্ষেপটা রয়ে গেছে, তা হল ধর্মেন্দ্রের অপ্রকাশিত কবিতাগুলো। তিনি জানান, ধর্মেন্দ্র অসাধারণ লেখক ছিলেন। প্রায়ই তাঁকে বলতেন, লেখাগুলো বই হয়ে বের করা উচিত। কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রতিবারই বলতেন, “আরও কিছু লেখা বাকি আছে।” সব লেখা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি, অথচ সময় তাঁকে আর সেই সুযোগ দিল না। হেমার কথায়, এখন নানা মানুষ এ নিয়ে লেখালিখি করবেন, কিন্তু তাঁর নিজের লেখা লাইনগুলো আর দিনের আলো দেখল না—এটাই সবচেয়ে কষ্টের।
আরও পড়ুনঃ পর্দায় জীতুর সঙ্গে রোম্যান্স তুঙ্গে! বাস্তবে কার হাতে হাত রেখেছেন শিরিন? অভিনেত্রীর প্রেমিকও বাকি অভিনেতা! কে সেই ব্যক্তি?
দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় পর্দার ‘বীরু’-কে। তাঁর চলে যাওয়া শুধুই এক অভিনেতার বিদায় নয়, বরং এক যুগের শেষও। তবে তাঁকে ঘিরে থাকা স্মৃতি, সৃষ্টিকর্ম আর অপূর্ণ স্বপ্নগুলোই চিরকাল বয়ে নিয়ে চলবেন হেমা।

