নিজের শেষ ছবি দেখতে চাননি ধর্মেন্দ্র! কেন এমন বলেছিলেন তিনি? কি জন্য এই ছবি দেখার ইচ্ছে ছিল না তার?

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র চলে গিয়েছেন, কিন্তু রেখে গিয়েছেন অসংখ্য স্মৃতি আর অসমাপ্ত আক্ষেপ। গত ২৪ নভেম্বর মুম্বইয়ের জুহুর বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মেগাস্টার। তাঁর প্রয়াণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মুক্তি পেতে চলেছে শেষ অভিনীত ছবি ‘ইক্কিস’। দুঃখের বিষয়, নিজের এই শেষ কাজটি আর পর্দায় দেখে যেতে পারলেন না অভিনেতা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ছবির পরিচালক শ্রীরাম রাঘবন জানান, ছবির কাজ চলাকালীনই ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন ধর্মেন্দ্র। অক্টোবর মাসে ডাবিংয়ের শেষ পর্যায়ে শরীর খুব একটা সঙ্গ দিচ্ছিল না। তবুও কাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা এক মুহূর্তের জন্যও কমেনি। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি ছবির প্রতিটি খুঁটিনাটি নিয়ে ভীষণ সচেতন ছিলেন।

রাঘবন স্মৃতিচারণায় বলেন, ধর্মেন্দ্র ছিলেন পুরনো ঘরানার অভিনেতা। প্রতিটি সংলাপ তিনি নিজে উর্দুতে লিখে রাখতেন। শুধু নিজের নয়, সহ অভিনেতাদের সংলাপও নোট করে রাখতেন। চরিত্র বোঝা আর দৃশ্যের গভীরতা উপলব্ধি করার জন্য তাঁর প্রস্তুতির কোনও তুলনা ছিল না। এই পেশাদারিত্বই তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক অংশটি হল, ধর্মেন্দ্র ছবির প্রথমার্ধ দেখতে পেলেও দ্বিতীয়ার্ধ আর দেখা হয়ে ওঠেনি। পরিচালক চেয়েছিলেন তিনি পুরো ছবি দেখুন, কিন্তু অভিনেতার একটাই ইচ্ছে ছিল সিনেমা হলে বসে দর্শকদের সঙ্গে ছবিটি দেখার। বিশেষ স্ক্রিনিং তিনি চাননি। সেই অপেক্ষাই অপূর্ণ থেকে গেল চিরকালের জন্য।

আরও পড়ুনঃ ‘ও কোনোভাবেই দায়িত্ব নিতে চায় না…’- বয়সের ফারাক ১৪ বছর! কেন মা হননি সোহিনী? কেন বাবা হতে চান না অভিনেতা সপ্তর্ষি? মুখ খুললেন তারকা দম্পতি!

ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে বলিউড হারিয়েছে এক সোনালি অধ্যায়ের নায়ককে। তাঁর জন্মদিনে হেমা মালিনীর লেখা আবেগঘন বার্তা সকলকে নাড়া দেয়। তিনি লেখেন, প্রিয় মানুষটিকে হারানোর শূন্যতা এখনও মেনে নিতে পারছেন না। আজ যখন দর্শক ‘ইক্কিস’ দেখে তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করবেন, তখন সেই ভালোবাসা উপভোগ করার জন্য ধর্মেন্দ্র আর আমাদের মধ্যে নেই, এটাই সবচেয়ে বড় বেদনা।

Back to top button