‘ও কোনোভাবেই দায়িত্ব নিতে চায় না…’- বয়সের ফারাক ১৪ বছর! কেন মা হননি সোহিনী? কেন বাবা হতে চান না অভিনেতা সপ্তর্ষি? মুখ খুললেন তারকা দম্পতি!

ভালোবাসার কোনও নির্দিষ্ট বয়স নেই, আর সেই কথার সবচেয়ে জীবন্ত উদাহরণ টলিপাড়ার সোহিনী সেনগুপ্ত ও সপ্তর্ষি মৌলিক। বয়সের ফারাক, সমাজের চোখরাঙানি কিংবা ব্যক্তিগত অতীত কোনও কিছুই তাঁদের সম্পর্ককে থামাতে পারেনি। দেখতে দেখতে বিয়ের তেরো বছর পার করে ফেলেছেন তাঁরা, অথচ এখনও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহ এবং চর্চা তুঙ্গে। নাটকের মঞ্চ থেকেই শুরু হয়েছিল এই প্রেমের গল্প, যেখানে গুরু শিষ্য সম্পর্ক ধীরে ধীরে বদলে গিয়েছিল বিশ্বাস আর ভালবাসার বন্ধনে।
নান্দিকার দলে নাটক শেখার সময় তরুণ সপ্তর্ষির সঙ্গে পরিচয় সোহিনীর। ২০১৩ সালে নাচনী নাটকে কাজ করতে গিয়ে সেই বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। মাত্র তিন মাসের প্রেমেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা, যা অনেকের কাছেই ছিল চমকপ্রদ। সোহিনীর এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে, আর সপ্তর্ষি তাঁর থেকে বয়সে চৌদ্দ বছরের ছোট। তবুও সমস্ত বাধা পেরিয়ে তাঁরা একসঙ্গে পথ চলার সাহস দেখিয়েছেন, যা আজও বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা।
তবে বয়সের ফারাক নিয়েই থেমে থাকেনি কটাক্ষ। কখনও কখনও সপ্তর্ষিকে সোহিনীর ছেলে বলেও ব্যঙ্গ করা হয়েছে। সেই সব মন্তব্যকে বরাবরই গুরুত্ব দেননি অভিনেত্রী। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে সোহিনী আরও একবার প্রমাণ করলেন, নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি কতটা স্পষ্ট। সেখানেই উঠে এল তাঁদের বাবা মা না হওয়ার সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ।
সোহিনী অকপটে জানান, এটি তাঁদের দুজনেরই সচেতন সিদ্ধান্ত। তাঁর কথায়, সপ্তর্ষি কোনও দিনই বাবা হওয়ার দায়িত্ব নিতে চায়নি। তিনি নিজেও কখনও প্রবলভাবে মা হতে চাননি। অন্যদের দেখে এক সময় মনে হয়েছিল, সন্তান থাকলে কেমন হয় তা দেখা যেতে পারে। কিন্তু গভীরে গিয়ে বুঝেছেন, সামাজিক প্রত্যাশা আর নিজের চাওয়ার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। সন্তান মানেই সুখ এই ধারণায় তিনি বিশ্বাসী নন।
আরও পড়ুনঃ বিরাট ঘোষনা! রাতারাতি বন্ধ হতে চলেছে জি বাংলার জনপ্রিয় চ্যানেল! বন্ধ হচ্ছে সম্প্রচারিত সমস্ত ধারাবাহিক! কেন এমন সিদ্ধান্ত চ্যানেল কর্তৃপক্ষর?
নিজের জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে সোহিনী আজ সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত। তিনি বারবার বলেছেন, আবার জন্ম নিলেও তিনি সপ্তর্ষিকেই বিয়ে করবেন। মানুষের কথা তাঁকে আর স্পর্শ করে না। ভালবাসা, বোঝাপড়া আর সম্মানের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সম্পর্কই তাঁর কাছে আসল সাফল্য। সমাজের নিয়ম নয়, নিজেদের সত্যিকারের অনুভূতিই যে জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত, সেই বার্তাই যেন আবারও দিলেন সোহিনী সেনগুপ্ত।

