ধর্মেন্দ্রর অস্থি বিসর্জন দেননি সানি-ববি! অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করেছে নাতি করণ! কিন্তু কেন? পুরোহিত জানালেন আসল কারণ!

বলা হয়, কোনও পরিবারের সংকটের মুহূর্তে কে কতটা দায়িত্ব নেয়, সেখানেই মানুষের চরিত্র ফুটে ওঠে। বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর ঠিক এমনই এক আবেগময় মুহূর্ত দেখা গেল হরিদ্বারের হর কি পৌরিতে। পরিবারের পক্ষ থেকে অস্থি বিসর্জনের সমস্ত আচার পালন করেন তাঁর নাতি করণ দেওল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়ো দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, সানি বা ববি কেন উপস্থিত নন। এবার সেই প্রশ্নের জবাব মিলল পরিবারের পুরোহিত পণ্ডিত রোহিত শ্রোত্রিয়ার কাছ থেকে।
পুরোহিত জানান, ধর্মেন্দ্রর পরিবার সে দিন হরিদ্বার পৌঁছেছিল ঠিকই, কিন্তু কিছু ব্যক্তিগত কারণে সানি দেওল এবং ববি দেওল অস্থি বিসর্জনের স্থানে যেতে পারেননি। তাই দায়িত্ব নেন করণ। তিনিই নিয়ম মেনে অস্থি বিসর্জন ও পিণ্ডদান সম্পন্ন করেন। তবে সানি-ববির অনুপস্থিতি মানে পরিবার অনুপস্থিত নয়। দু’জনেরই পরিবারের সব সদস্য সেই সময় উপস্থিত ছিলেন। বিসর্জনের আগের সমস্ত বিধি-আচার সম্পন্ন হয়েছিল একটি বেসরকারি হোটেলে, যেখানে পরিবারের সবাই অংশ নেন।
ধর্মেন্দ্রর শেষকৃত্য ঘিরেও নানা প্রশ্ন উঠেছিল। অনেক ভক্ত মনে করেছিলেন, সবকিছু নাকি খুব তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছে। এ নিয়ে হেমা মালিনী জানিয়েছিলেন, ধর্মেন্দ্র চাইতেন মানুষ তাঁকে সবসময় হাসিখুশি ও সুস্থ অবস্থায় মনে রাখুক। মৃত্যুর আগে তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছিল, আর সেই কারণেই পরিবার নীরবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করে। তিনি এও জানান, অযথা হৈচৈ বা ভিড় তিনি কখনও পছন্দ করতেন না।
ধর্মেন্দ্রর অনুরাগীদের জন্য রয়েছে আরও একটি খবর। সানি ও ববি দেওল আগামী ৮ ডিসেম্বর লোনাভালায় তাঁদের ফার্মহাউসে স্মরণসভা আয়োজন করছেন। সেখানে অভিনেতার ভক্তদেরও উপস্থিত থাকার সুযোগ দেওয়া হবে। পরিবারের ইচ্ছা, যারা তাকে এত দিন ভালোবাসা দিয়েছেন, তাঁরাও যেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ ইনস্টাগ্রাম ফেসবুকসহ সমাজ মাধ্যম থেকে উধাও দিতিপ্রিয়া! হঠাৎ সবকিছু থেকে বিরতি? পর্দার বাইরে এখন কি করছেন অভিনেত্রী?
গত অক্টোবর থেকেই ধর্মেন্দ্রর শারীরিক অবস্থা অবনতি হচ্ছিল। শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তাঁকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নানা গুজবের মাঝেই পরিবার জানিয়েছিল তিনি চিকিৎসার মধ্যে আছেন। কিন্তু ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়ে। ঘনিষ্ট আত্মীয়দের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয় শেষকৃত্যের সব আয়োজন এবং শেষ দায়িত্ব নিলেন সেই নাতিই, যাকে দেখে ‘ধরম পাজি’র হাসির মতোই পরিবারের আবেগ আরও একবার উথলে উঠল।

