“অবিশ্বাস্য! এরা কারা?” এই প্রজন্মের ঔদ্ধত্য দেখে অবাক! মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের আচরণে বাক্যহারা ভাস্বর চ্যাটার্জি! কী বললেন তিনি?

‘পড়াশোনা করে যেইজন, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেইজন’ অর্থাৎ যাঁরা পড়াশোনা করে তারা আগামী দিনে ভালোভাবে জীবনে যাপন করতে পারে। প্রসঙ্গত বলা যায়, কিছুদিন আগেই এক সপ্তাহের বেশী সময় ধরে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে হয়ে গিয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। মাধ্যমিক পরীক্ষা মানেই যে কোনো পরীক্ষার্থীর কাছে জীবনের বড়ো পরীক্ষা।
কিন্তু, আজকালকার সময় যত দিন যাচ্ছে ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা বেড়েই চলেছে। বলাই বাহুল্য, মাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ দিন পরীক্ষার্থীরা রীতিমতো বইখাতা ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে ব্যান্ড বাজিয়ে নিজেরা স্বাধীন হয়েছে বলে মনে করছে। এই ভিডিও রাতারাতি ভাইরাল হয়ে ওঠে নেট পাড়ায়।

খুব স্বাভাবিকভাবেই এই ভিডিও দেখে অনেক নেটিজেনরাই মন্তব্য করেন। এমনকি, এই ভিডিও দেখে মস্ত বড়ো মন্তব্য করেন টলি অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, “আমরা কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি কে জানে! ক’দিন আগে পড়লাম, মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষার পর একটা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা মিলে স্কুল প্রপার্টি ভাঙচুর করেছে। কারণ? তারা স্কুল ছেড়ে যাচ্ছে সেই ফূর্তিতে। আবার সে দিন দেখলাম, মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার আনন্দে টেক্সট বুক ছিড়ে কুটিকুটি করে হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছে। আনবিলিভেবল! এরা কারা?”
আরও পড়ুনঃ ক্ষিদ্দা-র ‘কোনি’র পর আর ফিরলেন না অভিনেত্রী! কোথায় হারিয়ে গেলেন ‘কোনি’র শ্রীপর্ণা ব্যানার্জী? কেনই বা আর দেখা মিললো না তার?
অভিনেতার রীতিমত জানতে চেয়েছেন, “আনন্দের আতিশয্যে বই ছিঁড়ে কুটি-কুটি করবে! শ্রেণিকক্ষের পাখার ব্লেড বেঁকিয়ে দেবে? এরাই নাকি আগামী দিনের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার?” অভিনেতা আরও বলেন, “সময় এবং সমাজ নিত্য পরিবর্তনশীল। আমরাও আমাদের বাবা-কাকাদের মতো নই। আমরাও মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছি। আনন্দ করেছি। তার জন্য বিদ্যালয়ের সম্পত্তি ভাঙচুর করিনি। বইয়ের পাতাও ছিঁড়ে কুটি-কুটি করে বাতাসে ওড়াইনি!”
ভাস্বর এই প্রজন্মের দিকে আঙুল তুলে আরো প্রশ্ন করেন, “তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম প্রত্যেকে খুব ভাল ফল করবে। তা বলে এই আচরণ? এদের মা-বাবা কোন শিক্ষায় শিক্ষিত করছেন? আদৌ কি এরা তাঁদের মানে? সমাজ কোন অন্ধকার সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে?” অবশেষে অভিনেতা আফসোস জানিয়ে নিজের বক্তব্য “সব দেখে মনে হচ্ছে, এই প্রজন্মের শরীরে প্রচণ্ড রাগ। এরা সারা ক্ষণ রেগে থাকে। যার প্রভাব পড়ে আচরণে। এদের প্রতিক্রিয়াও তাই চরম। পাখার ব্লেড ভেঙে, বই ছিঁড়ে আনন্দ পায়। যা আমরা কখনও ভাবতেই পারিনি।” এই বলে শেষ করেন।

