‘ডিভোর্সের পরই বিয়ে করব, কথা দিয়েছিল কাঞ্চন!’- নিন্দুকদের কটাক্ষ বিরুদ্ধে এবার মুখ খুললেন শ্রীময়ী!

এতদিন টলিপাড়ার (Tollywood) ওপেন সিক্রেট ছিল তাঁদের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কে সিলমোহর পড়েছে চলতি বছরের প্রেম দিবসে। বাগদেবীর আশীর্বাদে তাদের প্রেম আর বসন্ত মিলে হয়েছে একাকার। এদিন সই সাবুদ করে আংটি বদল করেছে অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ (Shreemoyee Chottoraj) ও কাঞ্চন মল্লিক (Kanchan Mullick)। মার্চের ৬ তারিখ সামাজিক বিয়ে সারবেন লাভ বার্ডস। তবে আইনি বিয়ে সেরে এই প্রথম সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি শ্রীময়ী চট্টরাজ।

প্রশ্নঃ বন্ধুত্ব থেকে প্রেম আর তারপর বিয়ে, কেমন ছিল জার্নিটা?

শ্রীময়ীঃ কাঞ্চনদাকে চেনা অনেকদিন ধরেই। তখন ছোট আমি। সদ্য ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছি। জানিও না কীভাবে ক্যামেরার সামনে হাঁটতে হয়, কথা বলতে হয়, পোজ দিতে হয়। তবে সেই সময় কাজ শিখিয়েছিলেন কাঞ্চনদা। তারপর একটি ছবিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছিলাম। আমাদের অনেক দিনের আলাপ। তবে প্রথম থেকে প্রেম বলে কিছু ছিল না।ছিল নিখাদ বন্ধুত্ব। তারপর লোকে বলে বলে আমাদের প্রেমটা করিয়ে দিয়েছে।

তবে মাঝের কিছুটা সময় খুব কঠিন ছিল। কাঞ্চনদাকে বা আমাকে অনেক ওঠানামা দেখতে হয়েছে। খুব কাছের বন্ধু, তবুও হঠাৎই সেও সরে যায়। এতটাই দুর্নাম রটে যে মাক্স পরেও বাড়িতে ঢুকতে চাইত না বন্ধুরা। তবে সেসব কিছু উপেক্ষা করে, মোকাবিলা করে আমরা ভালোবাসায় থেকেছি। ভাল থেকেছি।

প্রশ্নঃ একটা বিতর্কিত সম্পর্ক বয়ে নিয়ে যাওয়া, লোকের নানা কথার সম্মুখীন হয়েও একে অপরের সঙ্গে থাকা কঠিন নয়?

শ্রীময়ীঃ প্রথমদিন থেকে আমরা জানি আমরা একে অপরের কী আর আমাদের কাছের মানুষেরা জানেন আমরা কী। মানুষের আমাদের দিয়ে নানা মন্তব্য রয়েছে। কেউ বলেছেন আমি কাঞ্চনের ‘মাল’। ওর পয়সার জন্য আমি ওর সঙ্গে থাকছি। ওকে উপরে ওঠার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করছি। তবে আজ সেসব কিছু পেরিয়ে মিসেস। সময় উত্তর দিয়ে দিয়েছে।

প্রশ্নঃ সময় প্রসঙ্গে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, এত কটাক্ষ, এত খারাপ কথা! শ্রীময়ী নিজে কি শক্ত থাকতে পেরেছে সব সময়?

শ্রীময়ীঃ নাহ। আমার মন খারাপ হয়েছে। ডিপ্রেশন হয়েছে। আমি উত্তর কলকাতার একান্নবর্তী পরিবারের মেয়ে। সেখানে ঘরে গিয়ে দোর দিয়ে দুঃখ যাপন করার উপায় নেই। সকলকে জবাবদিহি করতে হয়েছে। শুনতে হয়েছে একজনের সাজানো সংসার আমার জন্য শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে একটা জিনিস বুঝেছি যত মানুষের কাছে নিজের দুর্বলতা তুলে ধরবে তত সে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দেবে।

entertainment

প্রশ্নঃ কাঞ্চনদাকে এই সময় কীভাবে কাছে পেয়েছেন শ্রীময়ী?

শ্রীময়ীঃ কাঞ্চনের নিজের জন্য সময়টা কঠিন ছিল। কারণ দশ বছরের বিবাহিত জীবনে তখন ওঠাপড়া চলছে। তবে কাঞ্চন সবসময় পাশে ছিল। আমাদের সম্পর্কের মধ্যে কখনও চাওয়া-পাওয়া ছিল না।

প্রশ্নঃ অনেকটা লড়াই আর তারপর স্বীকৃতি। শ্রীময়ীর বাড়ির লোক কেমন ভাবে নিয়েছিলেন তাঁর ও কাঞ্চনের সম্পর্ককে?

শ্রীময়ীঃ আমার বাড়ির লোক কাঞ্চনদাককে অভিনেতা কাঞ্চন হিসেবেই ভালোবেসেছে। তবে বাড়ির লোককে কাঞ্চন কথা দিয়েছিলেন যেদিন তার ডিভোর্স হবে সেদিন শ্রীময়ীকে স্বীকৃতি দেবেন। ব্যস ওইটুকু। বাকিটা সময় উত্তর দিয়ে দিয়েছে।

Back to top button