ধরা পড়েছিল মা’রণ রোগ! অর্থাভাবে শেষ জীবনেও করেছেন অভিনয়! চোখে জল আনবে অভিনেত্রী সংঘমিত্রার জীবন সংগ্রাম

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন সংঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় (Sanghamitra Bandyopadhyay)। ৯০ দশকের সেরা খল নায়িকা বলতে উঠে আসতো অভিনেত্রীর নাম। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রতে অভিনয় করেছেন তিনি। একাধিক বাংলা ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছিলেন সেই সময়। বেশিরভাগ ছবিতেই তাকে খলনায়িকা (Villen) চরিত্রে দেখা যেত ঠিকই তবে অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও সমান ভাবে পারদর্শী ছিলেন অভিনেত্রী।

১৯৫৬ সালের ৮ আগস্ট বেনারসের একটি সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পরিবারের জন্মগ্রহণ হয় অভিনেত্রীর। বেনারসে জন্ম হলেও পরবর্তী সময় কলকাতায় চলে আসেন সপরিবারে। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে সংস্কৃতি স্নাতক পাস করে এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। এরপর ক্লাসিকাল নাচের তালিম নিয়েছিলেন ভারতনাট্যমের গুরু থাঙ্কু মনি কুট্টির কাছ থেকে। এছাড়াও নটরাজ পরিমল কৃষ্ণা, রামগোপাল ভট্টাচার্য এর কাছেও তালিম নিয়েছিলেন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন তিনি মহানায়ক উত্তম কুমারের নজরে আসেন। সেই সময় মহানায়ক তাকে নিজের শেষ ছবি কলঙ্কিনী কঙ্কাবতীতে অভিনয় করার সুযোগ দেন। এই ছবিতে অভিনয় করার মাধ্যমেই অভিনেত্রী ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। তবে অভিনেত্রীর সেই সময় অভিনয় করার কোন পরিকল্পনাই ছিল না। এরপর ১৯৮১ সালে উমানাথ ভট্টাচার্য তাকে ‘অশ্লীলতার দায়’ ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ দেন। তারপর থেকে অভিনেত্রীকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পরের ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ আসতে তাকে তার কাছে। এরপর একের পর এক ছবিতে অভিনয় করেছেন। বহুরূপী, ভালোবাসা, মিত্তির বাড়ির ছোট বউ, প্রেম সঙ্গী, সেদিন চৈত্র মাস, তারনি তারা মা, কারণা, লাথি, দিষ্টি এর মতন একাধিক ছবিতে দেখা গিয়েছে। অভিনেত্রী বেশিরভাগ ছবিতেই খল নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

তবে অভিনেত্রীর জীবনে একটা সময় নেমে আসে বিপর্যয়। ২০০০ সালের ২১শে এপ্রিল গাড়ি দু’র্ঘটনা তিনি ক্ষ’তবিক্ষত হয়ে যান। প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন সেই সময় ঠিকই তবে তার চোয়াল ভে’ঙ্গে গিয়েছিল সেই দু’র্ঘটনার পর। তবে সেই দুর্ঘটনা তাকে আটকে রাখতে পারেনি। অনেকেই ভেবেছিলেন এই দুর্ঘটনার পর হয়তো অভিনেত্রীকে আর অভিনয় জগতে দেখা যাবে না। কিন্তু দু’র্ঘটনার ৬ সপ্তাহ পরেই হরনাথ চক্রবর্তী সাথে ছবির হাত ধরে আবার বড় পর্দায় ফেরেন অভিনেত্রী। মনের মধ্যে অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা এবং অদম্য জেদ থাকার কারণেই ফিরে এসেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ‘বাবা বলে মানি না’- বাবার প্রতি সমস্ত ক্ষো’ভ উগরে দিলেন ঋতাভরী

বিয়ে করেছিলে না এলাহাবাদবাসী জয়ন্ত ব্যানার্জিকে। তার একমাত্র পুত্র অনুরাগ ব্যানার্জি এবং তার পুত্রবধূ শুক্লা ব্যানার্জিকে নিয়ে তার সুখী পরিবার ছিল। তবে শেষ জীবনে তার শরীরে বাসা বাঁধে মা’রণ রোগ ক্যা’ন্সার। তবে নিজের এই অসুস্থতার কথা তিনি কোনদিন ইন্ডাস্ট্রির কাউকে জানাননি। কারো থেকে কোনদিন অর্থ সাহায্য বা সহানুভূতি চাননি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত হাসিমুখে অভিনয় করে গিয়েছেন। দীর্ঘদিন মা’রণ রোগের সাথে লড়াই করার পর ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি শে’ষ নিঃশ্বাস ত্যা’গ করেন।

Back to top button