মাত্র ৩১ বছর বয়সেই সব শেষ! ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও টেকনিশিয়ান!

অন্ধকারের বুক চিরে ছুটে চলা একটি দ্রুতগতির গাড়ি যে মুহূর্তের মধ্যে শ্মশানের স্তব্ধতা নিয়ে আসবে, তা হয়তো কারো কল্পনাতেও ছিল না। শনিবারের শান্ত রাত আচমকাই বিষাদে ভরে উঠল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবরে। কাজ সেরে ঘরে ফেরার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারালেন এক প্রতিভাবান শিল্পী। তাঁর অকাল প্রয়াণে শোকাতুর হয়ে পড়েছে গোটা বিনোদন জগত (Film Industry)। এই আকস্মিক বিয়োগে শুধুমাত্র একটি জীবন শেষ হয়ে যায়নি, বরং থমকে গেল ইন্ডাস্ট্রির এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।
দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন সকলেই হতবাক। জানা গিয়েছে, গভীর রাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ, ঠিক সেই সময় হায়দ্রাবাদের আউটার রিং রোডে ঘটে যায় এই বিপর্যয়। অভিনেতা নিজেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন একজন সিনেমাটোগ্রাফার বন্ধু। পেদ্দাম্বার পেট এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় দ্রুতগতির গাড়িটি হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং সামনে থাকা একটি বিশাল কন্টেইনার ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতায় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে যে অতিরিক্ত গতি এবং সাময়িক অসাবধানতাই হয়তো এই কালান্তক পরিণতির কারণ। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ যখন গাড়ির নম্বর এবং মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে, তখন তারা বুঝতে পারে যে বিনোদন জগতের এক পরিচিত মুখ আজ চিরতরে হারিয়ে গিয়েছে। মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানিয়া হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সহকর্মী এবং অনুরাগী মহলে কান্নার রোল পড়ে যায়। অনেকেই সমাজমাধ্যমে তাঁদের শোকবার্তা জানাচ্ছেন এবং বিশ্বাস করতে পারছেন না যে এত প্রাণবন্ত এক মানুষ আর নেই।
ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই ক্ষতি অপূরণীয়। মাত্র ৩১ বছর বয়সেই তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন নানা ক্ষেত্রে। পর্দার সামনে তাঁর অভিনয় যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করত, তেমনই পর্দার পিছনে তাঁর প্রাণবন্ত স্বভাবের জন্য তিনি সবার প্রিয় ছিলেন। ভবিষ্যতে তাঁর আরও অনেক বড় প্রজেক্টে কাজ করার কথা ছিল এবং সবাই আশা করেছিলেন তিনি সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছাবেন। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল এক নিমেষে। চলচ্চিত্র জগতের নক্ষত্ররা জানাচ্ছেন, একজন দক্ষ অভিনেতা ও টেকনিশিয়ানকে হারানো মানে ইন্ডাস্ট্রির একটি বড় স্তম্ভ ভেঙে পড়া।
আরও পড়ুনঃ ‘দুটো বছর তোমাকে ছাড়া…’ ‘তোমায় অনেক মিস করি মা…’ মাকে হারানোর দুই বছর! সমাজ মাধ্যমে অভিনেত্রীর আবেগঘন পোস্ট! ভেঙে পড়লেন মাতৃহারা তন্বী লাহা রায়!
চিরবিদায় নিলেন হায়দ্রাবাদের জনপ্রিয় অভিনেতা ভরত কান্ত। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একাধারে ছিলেন দক্ষ নৃত্যশিল্পী ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত টেনেন্ট ছবিতে তাঁর অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের কাছে বিশেষ সমাদর পেয়েছিল। তাঁর সাথে প্রাণ হারানো সহযাত্রী ছিলেন দক্ষ সিনেমাটোগ্রাফার জি সাই ত্রিলোক। নেলোরে পেশাদার কাজ সেরে শহরে ফেরার পথেই ঘটে গেল এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি, যা দক্ষিণ ভারতীয় বিনোদন জগতে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করল।

