‘মিষ্টি নিজেই নিজের জন্মদিনের কেক নিয়ে আসতো…’ মায়ের স্মৃতিতেই স্বর্গীয় মেয়ের অদৃশ্য উপস্থিতি! চোখে জল নিয়ে স্মৃতিচারণে মত্ত ঐন্দ্রিলা শর্মার পরিবার!

শরীর ভালো না থাকলেও এই দিনটায় রান্নাঘরে ঢোকার ইচ্ছে থামাতে পারেন না তিনি। কারণ এই দিনটা মানেই তাঁর কাছে মিষ্টি। মেয়ের জন্মদিন এলেই প্রতি বছর পায়েস রান্না করেন মা। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। শরীর সায় না দিলেও আবেগের কাছে হার মানে সব ক্লান্তি। তাঁর কথায়, মিষ্টি মানেই ছিল আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। নিজের জন্মদিন নিজেই আয়োজন করত সে। কারও জন্য অপেক্ষা করত না, বরং সবাইকে ডেকে পাশে বসাত, যেন এই দিনটা একান্ত নিজের মতো করে উপভোগ করতে পারে।
মাত্র দুদিন আগেই বড় মেয়ে ঐশ্বর্যার আংটিবদল অনুষ্ঠান সেরে ফিরেছেন তিনি। সেই অনুষ্ঠান চলাকালীন মনখারাপ থাকলেও কিছুই বুঝতে দেননি মেয়েকে। অনুষ্ঠান শেষে বহরমপুরে ফিরে এসেছেন। সেখানেই হাসপাতালে মিষ্টির উদ্দেশে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করেছেন। ভেবেছিলেন রক্তদান শিবিরের আয়োজন করবেন, কিন্তু শরীরের অসুস্থতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবুও জন্মদিন এলেই পায়েস রান্নার নিয়ম ভাঙেননি তিনি, কারণ এই রান্নাতেই যেন মেয়ের ছোঁয়া খুঁজে পান।
মিষ্টি নিজের জন্মদিন নিজেই উদযাপন করত। কেক আনত নিজের হাতে, সন্ধ্যাবেলা নতুন জামাকাপড় পরে সেজেগুজে বসে পড়ত। তারপর সবাইকে ডেকে নিত কাছে। অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরীকে বলত পাশে বসতে, পরিবারকে ডাকত। কারও জন্য অপেক্ষা করত না সে। হাসতে হাসতে বলত, কে কখন কী করবে তার ঠিক নেই, তাই নিজের জন্মদিনের দায়িত্ব নিজেই নিয়েছি। সেই দৃশ্যগুলো আজও চোখের সামনে ভাসে।
পাঁচ ফেব্রুয়ারি এলেই স্মৃতিরা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সাড়ে চার কেজি ওজন নিয়ে জন্মেছিল মিষ্টি। ফুটফুটে চেহারা, কোঁকড়ানো চুল, প্রাণচঞ্চল হাসি। কে জানত এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে। তবুও তাঁর বিশ্বাস, মিষ্টি কোথাও যায়নি। আজও সে পরিবারের সঙ্গেই আছে। তাই এবারও কেক আনা হবে, বিকেলে আসবেন কিছু কাছের মানুষ। সবাই মিলে কেক কাটবেন তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ দাদুর চাপে অবশেষে রায়ানের প্রেম স্বীকার! নতুন ষ’ড়যন্ত্র আঁটলো রায়ানের মা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব!
প্রতিবার জন্মদিনের সকালে পায়েস খাইয়ে মেয়েকে আশীর্বাদ করতেন তাঁরা। মন দিয়ে বসে সেই আশীর্বাদ নিত মিষ্টি। আজও সেই রীতিই মানা হচ্ছে। চোখে জল, তবুও মুখে হাসি আনার চেষ্টা। কারণ একজন মায়ের কাছে সন্তান কখনও হারিয়ে যায় না। স্মৃতির ভেতর, ভালোবাসার ভেতর, প্রতিটি জন্মদিনের আয়োজনেই মিষ্টি আজও বেঁচে থাকে।

