গলদা চিংড়ির মালাইকারি তো অনেকেই খেয়েছেন এবার তৈরি করে ফেলুন গলদা চিংড়ির পোলাও! এবার খেলে এ স্বাদ আপনি ভুলতে পারবেন না

বাঙালি মানেই খাদ্য রসিক। আর দুপুরের মেনুতে যদি বাঙালির ভাত না হয় তাহলে বোধ হয় সেই দুপুরটা জমবেই না। ভাত মানেই যে শুধু সাদা ভাত এমনটা নয় অনুষ্ঠানের দিনে পোলাও বিরিয়ানি এসব অত্যন্ত প্রিয় বাঙ্গালীদের। আর সেই সঙ্গে যদি থাকে চিংড়ি মাছ তাহলে তো আর কোন কথাই হবে না। কিন্তু চিংড়ি মাছ আর পোলাও দুটো আলাদা আলাদা কেন করতে যাবেন যদি থাকে আপনার কাছে এমনই একটি রেসিপি যেটা আপনাকে দুটোর স্বাদ তো দেবে কিন্তু একসাথে।
আজকে আপনাদের জানাবো কি করে তৈরি করতে হয় গলদা চিংড়ির পোলাও। যা খেতে স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়। একবার খেলে মনে হবে যেন বারবার বাড়ির কোন অনুষ্ঠানে এই রেসিপিটা একবার করে নিন। ছোট থেকে বড় সকলেরই প্রিয় এই গলদা চিংড়ির পোলাও।
প্রথমে দেখে নিই এই রেসিপি করতে কি কি লাগছে!
১. ৩ টে গলদা চিংড়ি
২. গোবিন্দভোগ চাল ২০০ গ্রাম
৩.২ টি পেঁয়াজ কুচি
৪.ঘি ৩ টেবিল চামচ
৫. ৩ টে তেজপাতা
৬. আদাবাটা ১ চামচ
৭. কাঁচা লঙ্কা ৪টে
৮. গরম মসলা গুঁড়ো ১ চা চামচ
৯. নুন স্বাদ মত
১০. চিনি ১ চা চামচ
১১. হলুদ ৩-৪ টেবিল চামচ
১২. সাদা তেল
প্রণালী – প্রথমে কড়াইতে গরম করুন কিছুটা সাদা তেল এবং ঘি। চিংড়ি মাছ গুলোকে নুন এবং হলুদ দিয়ে কিছুক্ষণ মাখিয়ে রেখে দিন তারপরে তেল এবং ঘি গরম হওয়ার পর তাতে হালকা করে মাছগুলোকে ভেজে নিন।
এরপর কড়াইতে যে তেল রয়েছে তার মধ্যে যোগ করুন আরো এক চামচ ঘি। সেই ঘি যখন গরম হয়ে যাবে তার মধ্যে দিয়ে দেবেন দুটো তেজপাতা। তেজপাতার সুগন্ধ বেরিয়ে গেলে তার মধ্যে পিয়াজ কুচি এবং আদা বাটা টা দিয়ে দিন। তবে মনে রাখবেন আদা বাটা টা যেন জলে গুলে দেন।
পেঁয়াজ ভাজা হতে হতে যখন কিছুটা মজে আসবে এবং আদাও অনেকটা কষানো হয়ে যাবে তখন তার মধ্যে দিয়ে দিন চারটে মুখ চেরা কাঁচা লঙ্কা এবং এক চা চামচ গরম মশলা। কিছুক্ষণ নাড়ানোর পর তার মধ্যে দিয়ে দিন ২০০ গ্রাম আগে থেকে ভিজিয়ে রাখা গোবিন্দ ভোগ চাল। গোবিন্দভোগ চালটা প্রায় ৪০ মিনিটের কাছে ভিজিয়ে রাখতে হবে যদি আপনি কম সময় ভিজিয়ে রাখেন তাহলে সেটাকে বেশি সময় ধরে ভাজতে হবে না হলে ৭ থেকে ৮ মিনিট ভাজলেই হয়ে যাবে চালভাজা। এর পরে এর মধ্যে যোগ করতে হবে কিছুটা হলুদ এবং চিনি আর লবণ স্বাদমতো।
কিছুক্ষণ নেড়ে নেওয়ার পরেই এবার তাতে যোগ করুন যতটা চাল নিয়েছিলেন তার দ্বিগুণ পরিমাণের একটু কম জল।
চিংড়ি মাছ বেশিক্ষণ আগুনের গরমে রাখলে তা শক্ত হয়ে যায় এবং ছিবরে লাগে। আর উল্টোদিকে গোবিন্দভোগ চাল ভালো করে ভিজিয়ে রাখলে বেশিক্ষণ রান্না হতে লাগে না। তাই কিছুক্ষণ পরেই দেখবেন সেই রান্নাটা করতে শুরু করেছে তখনই তার মধ্যে দিয়ে দেবেন চিংড়ি মাছ কিছুটা নাড়িয়ে সেটাকে ঢাকনা চাপা দিয়ে দেবেন।
পাঁচ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখার পরেই দেখবেন রান্নাটা হয়ে গেছে এবং চালও পুরোপুরি সেদ্ধ হয়ে গেছে। তারপরে কিছুটা চেপে দেখে নেবেন যে আরে নুন এবং মিষ্টি দিতে লাগে কিনা তাহলে সেই মতো যোগ করবেন। তারপরেই তৈরি হয়ে যাবে গলদা চিংড়ির পোলাও।

