আজ শ্রীশ্রী ঠাকুরের ১৮৮ তম জন্মতিথি! নিজের স্ত্রীকে মা কালীর আসনে বসিয়ে মাতৃজ্ঞানে পূজা করেছিলেন তিনি, সেই গল্প রইলো আপনাদের জন্য

আজ শ্রীরামকৃষ্ণদেবের ১৮৮ তম জন্মতিথি। রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে এই বিশেষ দিন। বেলুড় মঠ থেকে শুরু করে হুগলী জেলার কামারপুকুরে বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। প্রত্যেক বছরের মতো এ বছরও সকাল থেকেই বেদপাঠ, প্রার্থনা, স্তব ও স্তুতি, ভজন, সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

আজ আপনাদের কাছে জানাবো ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবন কাহিনী। তিনি একাধারে ছিলেন একজন যোগ সাধক,দার্শনিক ও ধর্ম গুরু। উনিশ শতকে বাংলার নবজাগরণের তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। বাঙালির নবজাগরণে তার মাহাত্ম্য অবিস্মরণীয়। তিনি গর্ভে থাকাকালীনই তার বাবা-মা আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুভব করেন। এবং তাদের অনুমান মতই শিশুকাল থেকেই রামকৃষ্ণদেবের নানা রকম অলৌকিকতা এবং আধ্যাত্মিকতা অনুভব করতে শুরু করেন। বাংলায় হিন্দু ধর্মের পুনা জাগরণের ক্ষেত্রে তিনি একজন বিশিষ্ট এবং প্রধান ব্যক্তিত্ব।

১৮৩৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি সেরা রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার কামারপুকুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় এবং তার মাতার নাম ছিল চন্দ্র মনি দেবী। রামকৃষ্ণের ছোটবেলার নাম ছিল গদাধর চট্টোপাধ্যায়। যখন থেকেই রামকৃষ্ণদেব চন্দ্র মনি দেবীর গর্ভে ছিলেন তখন থেকেই তিনি এবং তার স্বামী দুজনেই অলৌকিক ঘটনার সম্মুখীন হতে থাকেন। সেগুলি তাদের নিশ্চিত হতে বাধ্য করে যে গদাধর কোন সাধারণ শিশু হিসেবে জন্ম নিচ্ছে না। ছোটবেলায় পড়াশোনার জন্য গদাধরকে গ্রামের স্কুলে ভর্তি করানো হয় কিন্তু পড়াশোনার থেকে বেশি তার খেলতেই বেশি ভালো লাগতো। সেই সঙ্গে তিনি হিন্দুদের দেবদেবীদের মাটির প্রতিমা তৈরি করতে খুবই ভালোবাসতেন।

Belur math

ছোটবেলায় গদাধর তার মায়ের কাছ থেকে পৌরাণিক কাহিনী শুনতে খুব পছন্দ করতেন। যার ফলে সেই কাহিনী শুনতে শুনতে তার আগ্রহ তৈরি হয় এবং রামায়ণ-মহাভারত থেকে শুরু করে সবকিছুই পড়ে ফেলে। তার প্রকৃতি খুব প্রিয় ছিল তাই বেশিরভাগ সময়ই তিনি বাগানে অথবা নদীর তীরে সময় কাটাতেন। ১৮৪৩ সালে গদাধর এর পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় মারা যান। তারপরেই পরিবারের সকল দায়িত্ব এসে পড়ে গদাধর এর বড় দাদা রামকুমারের ওপর। তিনি বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় চলে যান উপার্জনের খাতিরে। উল্টোদিকে গদাধর পরিবারের দেখাশোনা এবং গ্রামের মন্দিরের দেব দেবীর পূজার্চনা করতে শুরু করেন। এরপর তিনি কলকাতায় একটি সংস্কৃত পড়ানোর জন্য স্কুল খোলেন তারপর নানা জায়গায় সামাজিক এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

তিন বছর পর তিনি রামকুমারের একজন সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তারপর দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের পুরোহিত হয়েছিলেন। রামকুমারের মৃত্যুর পর তিনি কালি ধর্মীয় মন্দিরে পুরোহিতের প্রধান পদ গ্রহণ করেন। যখন গদাধরের ২৩ বছর বয়স ছিল তখন পাশের গ্রামের ৫ বছরের সারদামণি দেবীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তারপর সারদামণি দেবীর ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলে তিনি স্বামীর সঙ্গে দক্ষিণেশ্বরে যোগদান করেছিলেন। রামকৃষ্ণ দেব সব সময় সারদা দেবীকে মাতৃজ্ঞানে পূজা করেছিলেন। তাঁকে কালিমাতার আসনে মাতৃজ্ঞানে পূজা করেছিলেন তিনি। তার কথায় নারী মানে জগত জননীর রূপ, তাই তার স্ত্রী এর মধ্যেও তিনি সেই রূপ দেখতে পেয়েছিলেন।

১৮৫৫ সালে কলকাতার এক ধনী জমিদার পত্নী রানী রাসমণি দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় মন্দিরের পুরোহিত খুঁজতে তাদের খুবই কষ্ট করতে হয়েছিল তারপরে রাসমনির জামাই মথুর বাবু কলকাতায় রামকুমারের কাছে আসে এবং তাকে দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত হিসাবে নিয়োগ করেন। তারপর ১৮৫৬ সালে রামকুমার মারা যাওয়ার পর থেকেই গদাধর মন্দিরের প্রধান পুরোহিত হিসাবে যোগ দেন। রানী রাসমণি দেবীর জামাই মথুর বাবুই তরুণ গদাধর এর নাম দিয়েছিলেন ‘রামকৃষ্ণ’।

Back to top button