‘আমায় মা’রধর করেছে…’ ‘এই বাড়িটা আমার মায়ের সেই স্মৃতি তাই…’ মুখ বন্ধ রাখতে মোটা টাকার টোপ? মেরে ফেলার হু’মকি! ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন জনপ্রিয় ইউটিউবার রাহুল দে!

বর্তমান ডিজিটাল বিনোদনের দুনিয়ায় অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় একটি নাম হলো রাহুল দে (Rahul Dey)। বিগত বহু বছর ধরে ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে তিনি তাঁর দুর্দান্ত ও মজাদার কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে দর্শকদের অনাবিল আনন্দ দিয়ে চলেছেন। সাধারণ মানুষকে হাসানো এবং তাঁদের ক্লান্তি দূর করার উদ্দেশ্য নিয়েই মূলত তিনি ভিডিও বানিয়ে থাকেন। বর্তমানে ইউটিউবে তাঁর সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৭ লক্ষ ৭৪ হাজারের গণ্ডি পার করে গেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালে ফোর্বসের ভারতের সেরা ১০০ ডিজিটাল স্টারের তালিকায় ১৬ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছিলেন কলকাতার এই প্রতিভাবান কনটেন্ট ক্রিয়েটর। সদা হাসিমুখের এই মানুষটির জীবনেই এবার নেমে এসেছে এক ভয়াবহ বিপর্যয়।

সম্প্রতি নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেল এই জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে। লাইভ ভিডিওতে অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় রাহুল অভিযোগ করেন, তাঁর বাড়ির একেবারে সামনেই রমরমিয়ে গড়ে উঠেছে একটি অবৈধ প্লাস্টিক কারখানা। এই বেআইনি কারখানার কারণে তাঁর পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী এবং এলাকার সাধারণ মানুষ মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। দিন-রাত প্লাস্টিক পোড়ানো এবং তা প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে ওই এলাকা জুড়ে তীব্র বায়ুদূষণ ছড়াচ্ছে।

রাহুল জানান, এই অবৈধ কারখানা থেকে অনবরত নির্গত হওয়া বিষাক্ত এবং দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাসের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষের শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শিশু থেকে বয়স্ক প্রত্যেকেই এক চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই মারাত্মক পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে রাহুল এর আগেও একাধিকবার সোচ্চার হয়েছিলেন, বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগও জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবাদ করার অপরাধে তাঁকে ক্রমাগত মুখ বন্ধ রাখার জন্য মোটা অঙ্কের টাকার টোপ দেওয়া হয়, এমনকি তা প্রত্যাখ্যান করায় নানারকম হুমকি ফোনও আসতে শুরু করে তাঁর কাছে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত এলাকার অসহায় মানুষের কষ্ট এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আর চুপ করে থাকতে পারেননি রাহুল। সমস্ত ভয়কে জয় করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া লাইভে এসে জনসমক্ষে এই চরম সত্যটি তুলে ধরেন। লাইভে কান্নাভেজা চোখে তিনি সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে জোড়হাতে বিশেষ অনুরোধ জানান। যেভাবে সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কড়া পদক্ষেপ নিয়ে বেআইনি হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে, ঠিক সেইভাবেই যেন এই জনবসতিপূর্ণ এলাকার অবৈধ প্লাস্টিক কারখানাটিও অবিলম্বে বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ ‘সত্যজিৎ রায়কে রোজ চিঠি লিখতাম আর তার উত্তরও পেতাম…’ ‘আমাকে কাজে নিয়েও বাদ দিয়ে দিয়েছে…’ ‘একমাত্র শিবপ্রসাদ আমাকে…’ কখনো মিলেছে সম্মান, আবার কখনো জুটেছে অবহেলা! নিজের জীবনের অজানা গল্প নিয়ে অকপটে অনুসূয়া মজুমদার!

এই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে আসতেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনদের পক্ষ থেকেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে। একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এমন বিপজ্জনক বেআইনি কারখানা দিনের পর দিন চলতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নেটিজেন এবং এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, হাজার হাজার সাধারণ মানুষের ফুসফুস ও প্রাণ বাঁচাতে অবিলম্বে প্রশাসন যেন এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং কারখানাটি সিল করে দেয়।

Back to top button