‘বিগত কয়েক মাসের সব অন্যায়ের জবাব দিয়েছি!’ ভোট দিয়েই বিস্ফোরক ইমন চক্রবর্তী! ফলাফলের তালিকায় কি সন্তুষ্ট গায়িকা?

টলিউডের (Tollywood) অন্যতম জনপ্রিয় এবং জাতীয় পুরস্কারজয়ী গায়িকা ইমন চক্রবর্তী (Iman Chakraborty) বরাবরই তাঁর স্পষ্টবাদিতার জন্য পরিচিত। তাঁর সঙ্গীত জীবন যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনই তাঁর ব্যক্তিগত মতাদর্শও অত্যন্ত সুসংহত। হাওড়ার সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আজ তিনি বাংলার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পী, যিনি ‘প্রাক্তন’ চলচ্চিত্রের ‘তুমি যাকে ভালোবাসো’ গানের জন্য জাতীয় সম্মান ছিনিয়ে এনেছেন। তাঁর কর্মজীবনে লোকসঙ্গীত এবং আধুনিক গানের যে মেলবন্ধন আমরা দেখি, তা তাঁকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ব্যক্তিগত জীবনেও ইমন অত্যন্ত সচেতন এবং দায়িত্বশীল একজন মানুষ। ২০২১ সালে সঙ্গীত পরিচালক নীলাঞ্জন ঘোষের সঙ্গে তাঁর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়। সুরের জগতেই তাঁর নিত্য বসবাস হলেও, সমাজের প্রতিটি স্পন্দনের সঙ্গে তিনি নিজেকে যুক্ত রাখেন। নাগরিক হিসেবে নিজের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে তিনি কতটা সজাগ, তা গত নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে তাঁর উপস্থিতিতেই স্পষ্টভাবে বোঝা গিয়েছিল। আজ যখন সেই ভোটের ফলাফল সারা বাংলার সামনে প্রকাশিত হচ্ছে, তখন ইমনের সেই দিনের ভূমিকা আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

গত নির্বাচনের সেই বিশেষ দিনে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইমন তাঁর মনের অনুভূতি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছিলেন। চেনা সাজে, চোখে চশমা আর গোলাপি রঙের কুর্তিতে গায়িকা সেদিন ছিলেন সাবলীল অথচ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ভোট দিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরাসরি বলেছিলেন, ‘ভোট দিয়ে সবার যেরকম লাগে খুব লিবারেটিং এবং বাংলা জুড়ে যা যা জিনিস বিগত কয়েক মাস ধরে দেখে এসছি তার বিরুদ্ধেই জবাব দিয়ে এসছি।’ তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, ব্যালট বাক্সটি ছিল তাঁর কাছে প্রতিবাদের এক প্রধান হাতিয়ার।

আজ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার দিনে ইমনের সেই ‘জবাব’ দেওয়ার বিষয়টি যেন এক বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। বিগত কয়েক মাস ধরে বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ঘটে যাওয়া নানা উত্তাল ঘটনাপ্রবাহে সাধারণ মানুষের মনে যে প্রতিক্রিয়া জমেছিল, ইমনের কথাতেই যেন তার প্রতিফলন ঘটেছিল। তিনি কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উচ্চারণ না করলেও, তাঁর লিবারেটিং বা মুক্তিদায়ক অনুভূতির প্রকাশ বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, তিনি পরিবর্তনের বা প্রতিবাদের পক্ষপাতী ছিলেন। আজ যখন সাধারণ মানুষের রায়ে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ স্পষ্ট হচ্ছে, তখন গায়িকার সেই ‘জবাব’ দেওয়ার ইচ্ছা যেন বাংলার বৃহত্তর জনমতের সঙ্গেই একাত্ম হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ তমালিকার বেশে কুন্তলিনীর ম’রণকামড়! পূর্বজন্মের সাজে গোরাকে বশ করল কুন্তলিনী! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

পরিশেষে বলা যায়, একজন শিল্পী কেবল সুর বা তালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং তিনি সমাজের দর্পণ হিসেবেও কাজ করেন। ইমনের সেই দিনের ভোটদান এবং নির্ভীক বক্তব্য আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন করে ভাইরাল হচ্ছে। আজ যখন ভোটের রেজাল্ট সকলের হাতে পৌঁছেছে, তখন গায়িকার সেই সাহসী অবস্থান প্রমাণ করে যে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করাই হলো যে কোনও অবিচারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার সবচেয়ে শক্তিশালী ও মার্জিত পথ। তাঁর সেই মন্তব্য আজ যেন নতুন করে বাংলার মানুষের জয়গান ও প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Back to top button